প্রশ্ন ফাঁসের সাহস আর কেউ করবে না: শিক্ষামন্ত্রী

0
555

Nahid 01
ঢাকা: প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন কেউ প্রশ্ন ফাঁস করার সাহস পাবে না বলে জোর দিয়ে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আগামী এসএসসি পরীক্ষায় কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল ও অবরোধ বন্ধের আহ্বান জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে জাসদের এমপি শিরীন আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা হরতাল-অবরোধ করছে তাদের বলবো আপনারা কর্মসূচি গুটান। বন্ধ করুন এ ধরনের অপতৎপরতা। আর সচেতন মানুষ যারা আছেন এগিয়ে আসুন, প্রতিহত করুন এসব অরাজকতা।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ, নাশকতা করে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, এ নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ২ ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা। এটা ৬ মাস আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটা জেনেও তারা এই ধরনের হরতাল-অবরোধ নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যেসব সন্তানরা পরীক্ষা দেবে তারা তো শুধু আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির সন্তান না, তারা সব দলেরই সন্তান, আমাদের সন্তান।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আগামী এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হবে না। কেউ প্রশ্ন ফাঁস করার সাহস দেখাতে পারবে না। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়নকারী, পরীক্ষক ও প্রশ্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বিজি প্রেসের সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছেন।’
এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হলেও সরকার অস্বীকার করছে উল্লেখ করে স্বতন্ত্র এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘অন্ধ হলে তো প্রলয় বন্ধ হয় না।’ এ বিষয়ে তিনি সরকারের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করার অভিযোগ অসত্য উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরাই প্রথম এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ করেছি। এজন্য পরীক্ষাও বন্ধ করেছি। নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছি। তবে জেএসসিতে কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট দেয়া প্রশ্ন তদন্ত করে দেখেছি, সেটা মূল প্রশ্নপত্র নয়। সাজেশন তুলে দেয়া হয়েছে। যার দু’একটি প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল ছিল। এটা প্রশ্ন ফাঁস হিসেবে তুলে ধরার অর্থ হলো পাবলিক পরীক্ষাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা ও সরকারকে বিব্রত করা। টকশোতে যারা এসব বলছেন, তারা না জেনেই বলছেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘোলাটে করার জন্য বলছেন। এখন আমার কি ফাঁসকারীদের উসকে দেয়ার জন্য কথা বলব, না সন্তানদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বলবো?’
পীর ফজলুর রহমান মেসবাহ (সুনামগঞ্জ-৪) এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষমন্ত্রী সংসদকে জানান, পিএসসি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও যে ছাত্রটি এ প্লাস পেয়েছে, তা টাইপিস্টের ভুলের কারণে হয়েছে। এ ফলাফল সংশোধন করা হয়েছে। যে ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ভুলবশত টাইপিস্ট সে রোল নম্বর উল্লেখ করে। তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

Print Friendly, PDF & Email