বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ- পররাষ্ট্র মন্ত্রী

0
170

ঢাকা: বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ‘সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ’ হয়েছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, অন্যরাও এ ‘দৃষ্টান্ত’ অনুসরণ করতে পারে। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বদলের পরও দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট হলে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ-ভারত হাই কমিশনার সম্মেলনের উদ্বোধন করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের উত্থান-পতনের পরও দুই দেশের সম্পর্ক আজ এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে এখন কেবল ‘বিকাশই সম্ভব’। দুই দেশের সাবেক ও বর্তমান হাই কমিশনাররা এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন।
ভারত-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলনের সহ আয়োজক হিসাবে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় এই উদ্যোগ ‘ব্রিলিয়ান্ট অ্যান্ড ইউনিক’। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করে দুই দেশের সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের উদ্দেশে মাহমুদ আলী বলেন, আপনারাই এ সম্পর্কের জীবন্ত দলিল, ইতিহাস নির্মাণের বিরল সাক্ষী।
মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সময়ের আবর্তে ‘জটিল ও বহুমাত্রিক’ একটি ‘সমন্বিত রূপ’ পেয়েছে। এক দশক আগেও গুরুত্ব পেত না এমন সব ক্ষেত্রেও এখন দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। এই সম্পর্ক অন্যন্য অঞ্চলের দেশের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। আমাদের দ্বিপীক্ষয় সম্পর্কের বিস্তৃতি, গভীরতা ও আস্থার প্রতিফলনও এতে পাওয়া যায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, বাংলাদেশ ও ভারত তার ব্যতিক্রম নয়। তবে খোলা মন নিয়ে চেষ্টা করলে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্র সীমার বিরোধ নিষ্পত্তির সাম্প্রতিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অমীমাংসিত অন্য বিষয়গুলোর সমাধানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আমি আশাবাদী।
দীর্ঘ দিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে দুই দেশের সম্পর্ক আবার ছন্দে ফিরতে শুরু করে। আর ২০১০ ও ২০১১ সালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে তা নতুন মাত্রা পায় বলে মন্তব্য করেন মাহমুদ আলী।
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনারদের মধ্যে মুচকুন্দ দুবে (১৯৭৯-১৯৮২), আই এস চাধা (১৯৮৫-১৯৮৯), দেব মুখার্জি (১৯৯৫-২০০০), বীণা সিক্রি (২০০৩-২০০৬), পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী (২০০৭-২০০৯) ও রজিত মিটার (২০০৯-২০১১) এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন
আর নয়া দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন হারুন অর রশিদ, সি এম শফি সামি, ফারুক সোবহান, হুমায়ুন কবীর, তারিক করিম ও মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ। অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

Print Friendly, PDF & Email