বাঙালি জাতির জন্য আত্মত্যাগে আমি প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

0
217

Hasina
ঢাকা: বাঙালি জাতির জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগপন্থি জাতীয় নাগরিক কমিটির সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহৎ কাজের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। ভোগে নয়, ত্যাগেই রয়েছে সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাইকে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি একদম ভয় পাই না। একদিন যখন জন্মেছি, মরতে তো হবেই। স্বজনদের হারিয়েই তো এতোদিন বেঁচে আছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জাতির জন্য আত্মত্যাগে আমি প্রস্তুত। বাঙালি জাতির জন্য আমি সব কিছু করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব সভায় মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যা যা করার দরকার করবো, দেশে ফিরে এই প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম। এ দেশের জন্য আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন জীবন দিয়েছেন।’
স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের দ্বি-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করেছি।’
১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার প্রায় ৪১ বছরের মাথায় ভারত সরকার এই চুক্তি অনুমোদন করেছে। এর জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে বিদ্রুপ করে বলেছিল- স্বাধীন হলে বাংলাদেশ হবে তলাবিহীন ঝুড়ি। কিন্তু আমি বলতে চাই- বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। সেই ঝুড়ি এখন উন্নয়নে ভরপুর। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে ভরপুর একটি রাষ্ট্র।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ। সেই গ্রামের অবহেলিত মানুষটিরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তার সেই অধিকার রক্ষাই আমাদের লক্ষ্য। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিটি মানুষ তার অধিকার পাবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি জাতির জীবনে কোনো দিকদর্শন না থাকলে সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঙালি জাতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য রূপকল্প ঘোষণা করেছি। এখন তা বাস্তবায়নে কাজ করছি।’
বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আজ যে সম্মাননা আপনারা আমাকে দিয়েছেন তা আমার প্রাপ্য না, এটার প্রাপ্য হচ্ছে বাংলার মানুষ, বাংলাদেশের জনগণ। তাই আমি এ সম্মাননা বাংলার জনগণকে উৎসর্গ করছি।’

Print Friendly, PDF & Email