বাজেটের সাইজ দিয়ে কোয়ালিটি নির্ধারিত হয় না: মঈন খান

0
140

চলতি বাজেটকে একটি ভুয়া বাজেট বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, কোন বাজেটের সাইজ দিয়ে কোয়ালিটি নির্ধারিত হয় না। আমি স্পষ্ঠ ভাষায় বলে দিতে চাই, এই বাজেট জনগণকে শোষণ করছে। এই ভুয়া বাজেট দিয়ে কখনো বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ হবে না। আজ বেলা ১১ টায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৫ টি থানার নবগঠিত কমিটির নেতাদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আজকে বাজেট দেয়া হচ্ছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার।

যেটা গতবছেরর চেয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি। নির্বাচনী বছরে এই বাজেটকে আপনারা কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মঈন খান বলেন, আমি বাজেট সম্বন্ধে এখানে বিস্তারিত বলতে চাই না। বাজেট আগে পেশ করা হোক। বাজেটের উপরে আমরা প্রয়োজনে রিঅ্যাকশন দেব। তার চুলচেরা বিশ্লেষণ আমরা করবো। আমি শুধু এইটুকু সংক্ষেপে বলতে চাই। আজকে যে সরকার বাজেট দিচ্ছে। সেই সরকারের বাজেট দেয়ার কোন ইখতেয়ার নেই। বাজেট দেয়ার নামে তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করছে। ১০০ কোটি টাকার প্রজেক্টকে তারা ১০০০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট বানিয়ে সেখান থেকে লুটপাট করছে। বাজেটের আকার দিয়ে কিছু বোঁঝা যায় না। বাজেটের আকার বাজেটের মান সম্বন্ধে কিছু বলেনা। বাজেটের মান অত্যন্ত নি¤œ। আপনারা দেখেছেন ঢাকা শহরে যে সব বড় বড় প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। এমনকি পদ্মা সেতু প্রজেক্ট প্রথম শুরু হয়েছিল মাত্র সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দিয়ে। সেই প্রজেক্ট আজ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। আমরা বলেছি এই প্রজেক্ট শেষ হতে হতে পদ্মা সেতুর বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা হলেও আমরা অবাক হব না। এতেই প্রমাণিত হয় যে বাজেটের কোয়ালিটি কি। বাজেট ফুলে ফেপে বড় হয়েছে। এটা বাজেটের জন্য গৌরবময় কোন বিষয় নয়। সাইজ দিয়ে কোন বাজেটের কোয়ালিটি নির্ধারিত হয় না। আমি স্পষ্ঠ ভাষায় বলে দিতে চাইÑ এই বাজেট জনগণকে শোষণ করছে। এই বাজেট একটি ভুয়া বাজেট। এই বাজেট দিয়ে কখনো বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ হবে না। আপনারা আমার সঙ্গে গ্রামে-গঞ্জে চলুন। প্রতিটি রাস্তা, হাট, বাজার, স্কুল ও কলেজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন। আপনারা বলছেন আমাদের সময় বাজেটের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। আজকে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। আমি প্রশ্ন করব ৪ লাখ হাজার কোটি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে। আজকে এই সরকারের কার্যক্রমের কারণে জনগণ এই প্রশ্ন করতে পারেনা। ইনশাআল্লাহ আগামীতে যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। তার মাধ্যমে যদি একটি জবাবদিহিমূলক সরকার আসে। সেই সময় একটি জবাবদিহিমূলক পার্লামেন্ট যদি আমরা সৃষ্টি করতে পারি, সেখানে প্রশ্নগুলো তুলব। সরকারকে প্রত্যেকটি কর্মকা-ের জবাবদিহিতা করতে হবে। জনগণের পকেট কেটে যে টাকা নেয়া হচ্ছে সেই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে। এটা সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আপনারা লক্ষ করেছেন সরকার আমাদের উপর কিভাবে নির্যাতন নিপিড়ন শুরু করেছে। যার পরিপেক্ষিতে আমরা দল পুনর্গঠন করা শুরু করেছি। ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৫ টি থানার কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে। আমরা সেই থানাগুলোর নেতাকর্মীদের নিয়ে এসেছি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। আমরা এমন একটি বিরোধী দল যে, এখানে সকলকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছি। আমরা বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। যেখানে একজন কথা বলবে আর সব চুপ করে থাকবে আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করিনা। ভিন্নমত লালন করি। কেননা আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হচ্ছে ভিন্নমত। এই ভিন্নমতগুলোকে একত্রিত করে একটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকি। নতুন কমিটিগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমরা করেছি। বলা বাহুল্য আমরা গণতন্ত্রিকরণের এই প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে আরো সমনে নিয়ে যাব। একটি গ্রামে, থানায় বা ওয়ার্ডে যখন আমরা মিটিং দেই তখন ১০জন, ২০ জন বা ৫০ জন লোক একত্রিত হতে পারিনা। সরকারের পুলিশ বাহিনী, রক্ষীবাহিনী ও বিভিন্ন প্রশাসনের যন্ত্র আমাদের গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ করতে দিচ্ছে না। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা নিজেরা বসে আলোচনার মাধ্যমে এই কমিটিগুলো গঠন করেছি। কাজেই আজকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিত আপনাদের বুঝতে হবে। এই প্রেক্ষিতে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আমরা যতোদূর সম্ভব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বলীয়ান হয়ে রাজনীতিতে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আমরা অনুস্মরণ করে ভবিষ্যতে ওয়ার্ড থেকে থানা, থাকা থেকে মহানগর, মহানগর থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আমাদের কমিটিগুলো গঠন করবো। এই বিশ্বাস আমাদের আছে। এখানে গণতন্ত্রিক কার্যক্রমের জন্য নূনতম স্পেস সরকারকে দিতে হবে। মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের সরকার বলে দাবি করে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তারা জনগণের সরকার নয়। এমনকি তারা সেই আওয়ামী লীগের সরকারও নয়। এটা হয়েছে এখন প্রশাসনের সরকার, পুলিশের সরকার, এটা হয়েছে বিজিবির সরকার। আমি এটাও বলেছি সরকার পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবকে ব্যারাকে রেখে রাজপথে আসুক। রাজনৈতিকভাবে বিএনপির মোকাবিলা করুক। আমরা দেখিয়ে দেব কারা জেতে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেনÑ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, আব্দুল মতিন, সাধারণ সসম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজিএম সামছুল হকসহ বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীরা।

Print Friendly, PDF & Email