বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আবেদন

0
263

Bar Council
ঢাকা: আইনজীবীদের সনদসহ পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আলাদা দু’টি আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিলের সচিব ও তিন প্রার্থী স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির কাছে এ আবেদন করেন।
এরপর আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি। রোববার আপিল বিভাগ এ আবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এরআগে আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ২০০৩ সালে সংশোধিত বার কাউন্সিল অধ্যাদেশের ৩ ধারা কেন অবৈধ ও সংবিধানের সাথে সংঘর্ষিক হবে না-তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করা হয়েছে। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দের আলাদা দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত স্থগিতাদেশসহ এই রুল জারি করেন।
ড. আকন্দ শীর্ষ নিউজকে বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও ভোট পদ্ধতি নিয়ে এ রিট দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। আইনজীবীদের সনদসহ পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ এ সংস্থার নির্বাচন আগামী ২৭ মে হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ২০ মে এ নির্বাচনের জন্য দিন ধার্য ছিল। বার কাউন্সিলের এক ‘জরুরি সভায়’ নেয়া সিদ্ধান্তে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হয়। বার কাউন্সিল সূত্র জানায়, নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বার কাউন্সিলের বর্তমান সদস্য সৈয়দ রেজাউর রহমান, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীরসহ পাঁচজন নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে আবেদন জানান। এ আবেদনের প্রেক্ষিতেই বার কাউন্সিল জরুরি সভায় মিলিত হয়। ওই সভায় নির্বাচন সাতদিন পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ নির্বাচিত ১৩ সদস্য সভায় অংশ নিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় থাকা কিছু ত্রুটি হালনাগাদ করার জন্য সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
নির্বাচনে মোট ৪৮ হাজার ৪’শ ৬৫ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে গত ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কোন কোন আইনজীবীর একাধিক আইনজীবী সমিতির ভোটার থাকার বিষয়টি তখন নজরে আসে। ভোটার তালিকায় ‘অস্পষ্টতা ও একই নাম একাধিকবার’ থাকার কথা জানিয়ে ১০১ জন আইনজীবী গত ২৯ এপ্রিল আলাদাভাবে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। এতে বলা হয়, আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও বার কাউন্সিল নিজস্ব নথিপত্রের সাহায্য না নিয়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর পাঠানো সদস্য তালিকা ধরেই ভোটার তালিকা তৈরি করেছে।

Print Friendly, PDF & Email