বিএনপির কাউন্সিল: চার দিকে কেবল মানুষ আর মানুষ

0
146

ঢাকা: বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে নেমেছে জনস্রোত। শনিবার সকালের মধ্যেই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বিএনপির কাউন্সিল, ডেলিগেট ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শৃঙ্খলার দায়িত্বে স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতাও চোখে পড়ে। এতই লোকসমাগম হয় যে, বেগম জিয়াকে সভাস্থলে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। মৎস্যভবন এলাকা রাস্তার দুপাশ দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় পেরিয়ে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নির্ধারিত ভিআইপি গেট দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। আর সকাল থেকেই মাইকে ঘোষণার মাধ্যমে আগন্তুকদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
কাউন্সিলকে ঘিরে দেখা গেছে নেতা কর্মীদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস। ভোর থেকেই ঢাকাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নেতা কর্মী ছুটে এসেছেন। কাউন্সিলে নারীদের উপস্থিতিও বেশ চোখে পড়ে।
এদিকে কাউন্সিল উপলক্ষে সংলগ্ন এলাকায় টাঙানো হয় শহীদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সম্বলিত বিশালাকৃতির ব্যানার এবং নানা ধরনের পোস্টার। কাউন্সিল সফল করা আহবান জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের ভেতর ও এর আশপাশের এলাকায় পোষ্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও তোরণ লাগিয়েছেন বহু নেতাকর্মী।
রমনা পার্ক থেকে শুরু করে, জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ, কাকরাইল ও শাহবাগ এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়। কাউন্সিলে কয়েক হাজার ডেলিগেট, ৩ হাজার কাউন্সিলরসহ সারা দেশ থেকে বহু নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসেছেন খালেদা জিয়ার বক্তব্য শোনার জন্য।
সকাল সাতটায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে এসে দেখা যায়, ভেতরে প্রবেশের জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন আগন্তুকরা। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে প্রবেশের জন্য মাইকে বারবার ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা প্রবেশপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগন্তুকদের ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে অনুমতি দেন।
আয়োজকরা জানান, কাউন্সিল প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য মোট ছয়টি গেইট বা প্রবেশ পথ নির্মাণ করা হয়। এসব গেইট দিয়ে কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথি, নেতাকর্মী এবং আগন্তুকরা প্রবেশ করেন। কাউন্সিল প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।
সকাল পৌনে এগারোটায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কাউন্সিল প্রাঙ্গণে এসে হাজির হন। সাথে সাথেই জাতীয় সঙ্গীত এবং দলীয় সঙ্গীত পরিবেশিত এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ৬৪ জেলার সভাপতিও সেখানে আলাদা আলাদাভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপরই কাউন্সিল উপলক্ষ্যে রচিত থিম সং ‘দুর্নীতি দু:শাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ সঙ্গীত পরিবেশ করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর শিল্পীবৃন্দ। বেলা এগারোটায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেকের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এ ছাড়া বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র্যা বকেও টহল দিতে দেখা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।
সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, শাহবাগ, রমনা, মৎস্য ভবন ও হাইকোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাস্তার প্রতিটি মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়া র্যা বের পেট্রোল টিম ওই এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।
ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) মো. মারুফ হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, জমির উদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড. ওসমান ফারুক, এমএ মান্নান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, কাজী আসাদুজ্জামান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবির খোকন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।
২০ দলীয় জোটের মধ্যে রয়েছেন কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মাওলানা আব্দুল হালিম, শফিউল আলম প্রধান, আন্দালিব রহমান পার্থ, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শাহাদৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস, খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জেবেল রহমান গানী, মহিউদ্দিন ইকরাম, হামদুল্লাহ আল মেহেদী, মোস্তফা জামাল হায়দার, গোলাম মোস্তাফা ভূঁইয়া, এম এম আমিনুর রহমান উপস্থিত রয়েছেন।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী লেবার পার্টির সদস্য সাইমন ডান্স জাক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি সাইমুন ব্যাঞ্জক, প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ফিল বেনিওনর, ব্রিটিশ অ্যাম্বাসির পলিটিক্যাল প্রতিনিধি অ্যাডড্রিন, আমেরিকার শিকাগো শহরের সাবেক মেয়র অলড্রামেন জো ম্যুর উপস্থিত আছেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, সাংবাদিক শফিক রেহমান, সাবেক প্রোভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড. সুকোমল বড়–য়া, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ, রুহুল আমিন গাজী, মাহবুবুল্লাহ, এমএ আজিজ, এম আব্দুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

Print Friendly, PDF & Email