বিএনপি থেকে শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগ

0
149

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপির সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বুধবার রাতে খালেদা জিয়া বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। এ ব্যাপারে শমসের মবিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই মুহূর্তে চেয়ারপারসন বিদেশে থাকায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র দেয়া হয়। তিনি (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব) তা গ্রহণ করেছেন। শমসের মুবিন বলেন, আমি যুদ্ধাহত একজন মুক্তিযোদ্ধা। শারীরিকভাবে রাজনীতি করার মতো অবস্থায় এখন আর নেই। এ কারণে বিএনপির সব পদ থেকে সরে গিয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ওই পদত্যাগপত্রে শমসের মবিন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলাম। বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাও নিয়েছি। বর্তমানে আমার অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। অবসর গ্রহণের প্রেক্ষিতে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সকল পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধকে সামনে রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার প্রয়াস আমার চিরকাল থাকবে।

এদিকে শমসের মবিনের পদত্যাগের খবরে নেতৃত্বশূন্য সিলেট বিএনপিতে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। চরম হতাশ খোদ দায়িত্বশীলরাই। আগামীতে মর্যাদার সিলেট-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আলোচনার শীর্ষে ছিল শমসের মবিনের নাম। এ ব্যাপারে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উল্লেখ্য, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের খুবই ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মবিন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দুই বছর চাকরি মেয়াদ শেষে করে ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। সে সময় চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান মবিন। ২০০৯ সালে বিএনপির কাউন্সিল হলে শমসের মবিনকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুটি দুর্নীতির মামলায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বকশিবাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় সরকারদলীয় এমপি ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুণ দেয়া হয়। এ ঘটনায় চকবাজার ও শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ। এ দুটি মামলাতে শমসের মবিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২২ মে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

Print Friendly, PDF & Email