বিচার প্রক্রিয়া এখন ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার বাহন: খালেদা

0
142

Khaleda
ঢাকা: কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০-দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দেশের বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার বাহনে পরিণত করা হয়েছে।’ কারাগারে সুচিকিৎসার অভাবে নেতাদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও বুধবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন তিনি।
এতে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি শমসের মোবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু ও মোসাদ্দেক আলী, বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আসলাম চৌধুরী, আবদুস সালাম পিন্টু ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, এদেরা অনেকেই জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী এবং নিজ নিজ অঙ্গনে খ্যাতিমান ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশতঃ বিরোধী দলকে দমনের হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিথ্যা ফৌজদারি মামলা এবং সরকারের আজ্ঞাবহ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা সাজানো মোকদ্দমায় দীর্ঘদিন ধরে এসব নেতাদের অনেককেই বিনাবিচারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আটক অবস্থায় বেআইনি ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে দফায় দফায় পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে এই রাজনৈতিক বন্দিদের অনেকের ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের অনেকে বয়সে প্রবীণ এবং নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত। কারাগারে সুচিকিৎসার অভাবে তারা অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন দাবি করেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তরের পর সম্প্রতি তিনি কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুর অবহেলায় মৃত্যুবরণ করেন।’
‘গুরুতর অসুস্থ মির্জা ফখরুলকে সম্প্রতি তেমন কোনো চিকিৎসা না দিয়েই কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খন্দকার মোশাররফ অজ্ঞান হয়ে বাথরুমে পড়ে যাবার পরেও তার তেমন কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এসব ঘটনা তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের’ যোগ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘দেশে বর্তমানে আইনের প্রয়োগ, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছের বাহনে পরিণত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’
তিনি মনে করেন, আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চললে, দেশে আইনের শাসন ও সুবিচারের সুযোগ থাকলে এসব ঘটনা ঘটতে পারতো না। সরকারের প্রতিহিংসার শিকার কেউ হলে তার প্রতিকার ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা থাকতো। কিন্তু সেসব ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে আইনগতভাবে মোকাবিলার পথ খুবই সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলমতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাদেরকে মুক্তি দেয়া এবং বিশেষ করে অসুস্থ সিনিয়র নেতাদের মুক্তি ত্বরান্ত্বিত করার দাবি করেন ২০-দলীয় জোটনেত্রী।
অমানবিক আচরণ পরিহারে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জামিন লাভের স্বাভাবিক অধিকারও এখন সরকারের তীব্র বিরোধিতার মুখে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য যাদের দেশের বাইরে যাওয়ার আশু প্রয়োজন তাদেরকেও জামিন দেয়ার বিরোধিতা করা হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘হামলা-মামলা ও অত্যাচার-উৎপীড়নে পর্যুদস্ত করে বিএনপির মতো একটি দলের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা উল্লাস প্রকাশ করছে।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে এভাবে স্তব্ধ করে দিয়ে কেউ কখনো সুফল পায়নি। আমি ইতিহাস থেকে সেই শিক্ষ গ্রহণ করে রাজনৈতিক সহঅবস্থান ও সুস্থ স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি।’

Print Friendly, PDF & Email