বিজিবি কখনোই গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারে না: ড. এমাজ উদ্দিন

0
129

Dr. Emaz Uddin 02
ঢাকা: সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে মানুষ মরলেও বিজিবির কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ প্রয়োজনে বিজিবি গুলি চালানো’র ঘোষণা দিয়ে মূলত তারা দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম স্টাডিজ আয়োজিত ‘ইমপিডিমেন্টস ইন নেশন বিল্ডিং এন্ড দ্যা ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এমন মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের মানুষের ওপর বিজিবির গুলি চালানোর ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের কাজ অপরাধীদের আটক করে শাস্তির বিধান করা। গুলি চালানোর নির্দেশ তারা কখনোই দিতে পারে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিভক্ত জাতিতে পরিণত হয়েছে। দেশে চলছে বিষাক্ত রাজনীতির চর্চা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ না করে তারা নিজেরাই গুম-খুন ও সন্ত্রাসের মতো জঘন্য কাজ করছে। বিচারের উপরে মানুষের আর আস্থা নেই। রাজনৈতিক বিষের প্রভাবে সব প্রতিষ্ঠান বিষাক্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে বাধ্য।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দেখলে পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেয় যে সংসদ সদস্য, সংসদে তার স্থান হয় কিভাবে? অনির্বাচিত সরকার গঠনের কারণেই তারা আজ সংসদ সদস্য হতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজনীতির দায়িত্ব সমস্যার সমাধান করা, সমস্যার সৃষ্টি করা নয়। আমরা দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চাই। যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আর দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে আনতে হলে অবশ্যই বিরোধীদল ও সরকারকে একসঙ্গে বসে সংলাপ করতে হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই এ রাজনৈতিক সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব।
বিজিবিকে গুলি চালানো ঘোষণা দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, বিজিবির কাজ সীমান্ত পাহারা দেওয়া। সেখানে বিএসএফ বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিজিবি পদক্ষেপ না নিয়ে নিজের দেশের মানুষকে হত্যার ঘোষণা দিয়েছে। বিজিবি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, সাগর-রুনিকে হত্যার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেন সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে না পারে। তাই তাদের বিচার পর্যন্ত করছে না সরকার। পুলিশ গুলি করলে কোনো খবর হয় না। কিন্তু পুলিশকে মারলে মানবিক সংবাদ তৈরি হয়, এতেই বুঝতে হবে মিডিয়া তাদের জাতীয় দায়িত্ব পালন করছে না।
শওকত মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাত দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলো সরকারকে। কিন্তু সরকার তা মেনে না নিয়ে বিএনপিকে ইচ্ছে করে রাজপথে আন্দোলনে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা চাই শান্তি। আর এজন্য সংলাপের বিকল্প নেই। সংলাপের মাধ্যমেই সরকার এ সংকট দূর করতে পারে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার ফাতেমা আনোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট কনসালটেন্ট মাহবুবুর রহমান, আশারাফ আল দীন প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email