বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখি: প্রধানমন্ত্রী

0
120

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন দল-মত ও বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে এ উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখি। তিনি তার সরকারের আমলে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক দিকসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারও কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য গড়ে তুলুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। তিনি বিপথগামীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি আমরা। কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবই। আসুন, দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে এ ভাষণ দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি সব স্যাটেলাইট টিভি এবং বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি এফএম রেডিওগুলো একযোগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করে। ৩০ মিনিটের এ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের গত ৭ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন।
কর্মব্যস্ত নগরবাসীর সুবিধার্থে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিকে যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেছেন, তেমনি এ উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসিমুখে জীবনযাপন করবে তা ওদের সহ্য হয় না। অগ্নিসন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচার কাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।
৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরপূর্তিতে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সারা দেশে যে ঘৃণ্য ও পৈশাচিক সন্ত্রাস চালায়, তা কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাদের এ নৃশংসতা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হায়েনা ও তাদের দোসরদের নির্মমতার সঙ্গেই শুধু তুলনা করা যায়। শেখ হাসিনা ওই সময় পেট্রলবোমায় ২৩১ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হওয়ার বর্ণনা দেন। তিনি জনগণ এবং সরকারের সম্পদের অন্যান্য ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে, অমানবিক কষ্ট দিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নাটক করে ৬৮ জনকে নিয়ে আরাম-আয়েশে ৯২ দিন গুলশান অফিসে থাকেন। হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের হুকুম দেন। তার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনসমর্থন পায়নি। ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে আদালতে হাজিরা ও নাকে খত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। আমি আপনাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপি-জামায়াতের অনৈতিক অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে এরই মধ্যে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করে সর্বক্ষেত্রে শৃংখলা ফিরিয়ে আনি। মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসে। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। গ্যালোপের হোপ ইনডেক্সে এসেছে, সুইজারল্যান্ডের পরেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে আশাবাদী মানুষের দেশ। আমি আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

Print Friendly, PDF & Email