বিশ্বনাথে মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডারকে ফটোসুন্দরীর হয়রানীর অভিযোগ

1
220

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া ব্যক্তি যার অনুকম্পা নিয়ে রাজনীতিতে ডুকে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন তাকেই তার রাজনৈতিক গুরু এম. ইলিয়াস আলী খেতাব দেন ‘ফটো সুন্দরী’। এরপর থেকে এই ‘ফটো সুন্দরী’ নামেই তিনি এলাকায় বেশ পরিচিত। কারন একটাই ইলিয়াস আলীসহ অন্যান্য নেতা নেত্রী যে কোন সভা সমাবেশে যোগদান করলে তাঁর সাথে ফটো তুলার জন্য ধাক্কাধাক্কি ঠেলাঠেলি হুড়োহুড়ি শুরু করে দিতেন এ ব্যক্তি। ইলিয়াস আলী নিঁখোজ হওয়ার পর গত বছর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ইলিয়াস আলীর মাকে দেখার জন্য রামধানায় গেলে সেখানে বক্তব্য রাখার সময় কাদের সিদ্দিকীর সাথে ছবি তোলার জন্য ধাক্কাতে থাকলে কাদের সিদ্দিকী বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন আমি খুশি হয়েছি এজন্য যে আপনারা আমাকে রসিদপুর থেকে শোভাযাত্রা সহকারে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি আরও খুশি হতাম যদি আপনারা আমাকে ধাক্কাতেননা। এ বক্তব্য শুনে যিনি লজ্জা পেয়ে আস্তে আস্তে কাদের সিদ্দিকীর পাশ থেকে সরতে থাকেন তিনি আর কেউ নন অলংকারী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লিলু মিয়া।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশ্বনাথ উপজেলার নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডারকে এই ফটোসুন্দরীর একের পর এক হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের অলংকারী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ মরতুজ আলী। এই বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে হয়রানী ও হুমকী ধমকী দিয়ে আসছেন অলংকারী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লিলু মিয়া।
মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ মরতুজ আলী প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হন এবং এলাকায় একজন ধর্মপরায়ন সালিশ ব্যক্তিত্ব ও স্বজ্জন হিসেবে পরিচিত। তাবলীগ জামাতের একাধারে তিন চিল্লাসহ বেশ কয়েকটি তাবলিগের চিল্লায় শরিক হন তিনি। এছাড়া তাবলিগের তিনদিনের চিল্লায়ও নিয়মিত শরিক হন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ও তিনি তাবলিগ জামাতের চিল্লায় ছিলেন। নির্বাচনের সময় তার পক্ষে গণসংযোগে অংশ না নিয়ে তাবলিগে চলে যাওয়ায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ফুসে উঠেন লিলু মিয়া।
আগের দুটি ইউনিয়ন নির্বাচনেও লিলু মিয়া প্রতিদ্ধন্ধিতা করেন। সে নির্বাচনগুলোতে তাকে পাশ করানোর জন্য ব্যাপক গণসংযোগ করে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখেন মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ মরতুজ আলী। কিন্তু প্রথম নির্বাচনে পাশ করলেও লিলু মিয়ার অসৌজন্যমুলক ব্যবহার ও কৃর্তিকলাপের জন্য পরের নির্বাচনে ধরাশায়ী হন সম্পুর্ণ অপরিচিত ও অখ্যাত এক প্রার্থীর কাছে। ব্যাপক ব্যবধানে ফেল করে নয় বছর চেয়ারম্যান না থাকার জ্বালা পুড়াতে থাকে লিলুকে। পরবর্তীতে আবারও চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। নেতার আশীর্বাদ পেতে আশ্রয় নেন বিভিন্ন কৌশলের। ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে চালাতে থাকেন ব্যাপক প্রচারণা। বয়:বৃদ্ধদের কাবু করতে তাদের সামনে গিয়ে অবনত মস্তকে তাদের দিয়ে দেওয়াতে থাকেন নিজের মাথায় ফুঁ। মাথা নুইয়ে আবদার করতে থাকেন মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার জন্য। এমনিভাবে সাধারন মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে অতীতের ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে পার হন নির্বাচনী বৈতরণী।
পাশ করার পরেই মসজিদে তাবলিগ জামায়াতে অংশগ্রহণরতো মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ মরতুজ আলীকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন লিলু মিয়া। গালাগাল দিতে থাকেন অশ্লীল ভাষায়। বলেন তুই আমার পক্ষে কাজ না করে তাবলিগে চলে গেলেও আমি পাশ করেছি। এবার তোকে দেখিয়ে দেবো আমার শেকড় কতো গভীরে (অশ্লীল শব্দ………….লেখার অনুপযুক্ত)। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় নাজেহাল করতে থাকেন তার চেয়ে বয়সে অনেক বড়ো নীরিহ এ মুক্তিযোদ্ধাকে।
সর্বশেষ বিগত বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের অধীন পশ্চিম অলংকারী গ্রামের একটি রাস্তার মাটি ভরাটের কাজে বরাদ্ধকৃত লক্ষাধিক টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে মর্মে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পান। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে বিষয়টির খোজ খবর নিতে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় অলংকারী গ্রামের অধিবাসী মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডার হাজী মোঃ মরতুজ আলীকে সাথে নিয়ে প্রকল্পটি পরিদর্শন করে লুটপাটের প্রমাণ পেয়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা প্রকল্প পরিদর্শন করে বিশ্বনাথ ফেরার পথে মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডারের বাড়ীতে গিয়ে চা পান করেন ও কিছু সময় অবস্থান করেন। সংবাদ পেয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন চেয়ারম্যান লিলু মিয়া। ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকদিন পর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডারকে নানা ধরনের হুমকী ধামকী দিতে থাকেন এবং বলেন এটা আমার ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাপার। তুমি এখানে নাক গলাবার কে। তুমি সেখানে টিএনওর সাথে গেলে কার কথায়। তোমি বেশি বাড়াবাড়ি শুরু করে দিয়েছো। আমার ইউপি মহিলা সদস্য দিয়ে তোমার উপর র্যাপ কেইস দিয়ে জেলের ভাত খাওয়াবো তখন বুজতে পারবে কতো ধানে কতো চাল। তুমি ও তোমার সন্তানরা কখন কোথায় কোন সময় যে খুন হতে পারো তা তুমি কি জানো…….(লেখার অনুপযুক্ত)। এছাড়া আমার চাচা যে জমি তোমার কাছে বিক্রয় করেছিলেন সে জমি থেকে আমার ফুফুর ফরাইজের অংশ বের করে দখল করবো। আমার জমির পার্শ্বে তোমার যে জমি আছে সেটাও দেখি রাখো কি করে।
উল্লেখ্য লিলু মিয়ার চাচা প্রায় পচিশ বছর পুর্বে অলংকারী মৌজায় চার প্লটে চল্লিশ শতক জায়গা বিক্রয় করেছিলেন ওই মুক্তিযোদ্ধার কাছে। সে সময় উপযুক্ত মুল্য গ্রহণ করে বিশ্বনাথ সাব রেজিষ্ট্রারী অফিসে উপস্থিত হয়ে রেজিষ্ট্রারী কবালাও করে দিয়েছিলেন গণি মিয়া। কিন্তু এরই জের ধরে সম্পুর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে এতো বছর পর লিলু মিয়া ফুফুর স্বত্ব বাকী রয়েছে এবং তা তার পোষা সন্ত্রাসী লাটিয়াল বাহিণী দিয়ে জোরপূর্বক দখল করাবে বলে হুমকী দিচ্ছে। এছাড়া ওই মুক্তিযোদ্ধার মৌরসী ভুমির পার্শ্বে লিলুর একখন্ড জমি থাকায় প্রায় ত্রিশ বছর পুর্বে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বীয়ানের উপস্থিতিতে তার পিতা ও চাচা কর্তৃক স্থাপনকৃত সীমান্ত পিলার অমান্য করে লাটির জোরে প্রভাব খাটিয়ে কিছু জমি তার কব্জায় নিয়ে নেয়। উল্লেখ্য তার পিতা ও চাচা প্রায় ত্রিশ বছর পুর্বেও ওই পিলার স্থাপনের সময় মুক্তিযোদ্ধা মরতুজ আলীর কিছু জায়গা চেয়ে নিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাধারন মুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াইদ আলী ও ডেপুটি কমান্ডার শ্রী রনজিত চন্দ্রধর বলেন, আমাদের সহযোদ্ধা উপজেলার নির্বাচিত সহকারী কমান্ডার (পূণর্বাসন, সমাজকল্যাণ, শহীদ ও যুদ্ধাহত) নীরিহ বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি হাজী মোঃ মরতুজ আলী ও তাঁর পরিবারবর্গকে অপমানিত করা ও তাঁর ভু-সম্পত্তির উপর আক্রমন বরদাশত করা হবেনা। আমরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাই।

Print Friendly, PDF & Email

1 মন্তব্য

Comments are closed.