বিশ্ব বেতার দিবস- ২০১৫; গৌরবের ৭৫

0
504

Bangladesh Betar
ড. মির শাহ আলম: ফেব্রুয়ারি মাস বিশ্ব বেতার দিবসের মাস, এই মাসের ১৩ তারিখ দিবসটি পালিত হয়। হযরত শাহজালাল (রঃ) ও ৩৬০ আউলিয়া সহ শ্রীচৈতন্যদেবের স্মৃতিধন্য দেশের উত্তরপূর্বের আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট। প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক লীলাভূমি, হাওড়-বাওড়, পাহাড়-টিলার মাঝে ছড়িয়ে আছে অপার সম্ভাবনাময় সম্পদের আধার, স্বখ্যাত দুটি পাতা একটি কুড়ির আভিজাত্যের সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তথ্য, শিক্ষা, বিনোদনে উদ্ভূদ্ধকরণের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি ও জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সর্বপরি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ ও লালনের জন্য ১৯৫৮ সালে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ এ অঞ্চলে বেতার সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে। ভৌগলিক ও ঐতিহাসিকভাবে সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্য স্বাতন্ত্রপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াও আধ্যাত্মিক সাধনা, সকল ধর্মের মনীষীদের আগমন, সংস্কৃতি চর্চা সাধারন মানুষের মধ্যে লোকগীতি, পুথিগান, কবিগান, ঘাটুগান, পল্লীগীতি, বাউল সংগীত, যাত্রা, পালাগান ও নাটকচর্চা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জল দৃষ্টান্তের মত এখানে সুবিশাল ঐতিহ্য রয়েছে এখানে। তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে শক্তিশালী ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম শুধু প্রতিষ্ঠিতই হয় নাই, ঢাকা থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য ১৯৬১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ২ কিলোওয়াট শক্তির ট্রান্সমিটার স্থাপণ এবং ১৯৬৭ সালের ২৭ শে অক্টোবর কবি দিলওয়ারের “তুমি রহমতের নদীয়া” ভক্তিমূলক গান দিয়ে কেন্দ্রটি সম্প্রচার শুরু করে। সংগীতজ্ঞ বিদিত লাল দাশ বলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন আরতি ধর, উজির মিয়া, হিমাংশু বিশ্বাস, হিমাংশু গোস্বামী, ফুল মোহাম্মদ, রাখি চক্রবর্ত্তী, শামসুরন্নাহার করিম, আব্দুল মজিদ, মারজানুল রউফ সহ আরো অনেক শিল্পী। ঢাকা থেকে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল জব্বার, আব্দুল আলীম, ফরিদা ইয়াসমিনসহ আরো বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠান নির্মাণে কাজ করেছিলেন সুরসাগর প্রানেশ দাশ, সমর দাশের মতো গুণী সংগীতজ্ঞরা। তখন উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন রোকেয়া বেগম, আনোয়ার মাহমুদ ও জোছনা চৌধুরীসহ কয়েকজন। প্রথমদিকের বেতার সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের মধ্যে শিবু ভট্টাচার্য্য, মুমিনউদ্দিন ভূইয়া, খলিউল্লা খান, এনায়েত উল্লা খান, লুৎফুল মজিদ চৌধূরী, সংকর সরকার, মতিউর রহমান বড় লস্কর, সোনা মনি সংহ, আহমদ কবির, রংগ লাল দেব, আলী আকবর খান, নিতিশ সমাদ্ধার, সুপ্রিয় সিনহা, ফতেহ আহমদ, মহিউদ্দিন শিরু, হেমচন্দ্র ভট্টাচায্য উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুখে-দুঃখে এযাবৎকাল সিলেট বেতার সংবাদমাধ্যম হিসেবে মানুষের নিকট সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বেশী শ্রোতা সমৃদ্দ। পাক বাহিনীর হাতে বেতার কর্মী হাসান আলী নিহত হন, মুক্তিযুদ্ধের অর্থ সংগ্রহে বেতার শিল্পীরা কাজ করেছেন। গীতিকার রফিকুজ্জামান ও মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন লস্কর ময়না, কিংবদন্তী শিল্পী বিদিত লাল দাশ, নাট্য ব্যাক্তিত্য শিবু ভট্টাচার্য্য আলোচনাকালে তা উল্লেখ করেন। অনেক শিল্পী সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মোঃ মহসিন আলীর নাম উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৮ সালে ২২শে নভেম্বর মিরেরময়দানস্থ নতুন বেতার ভবনের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। সিলেট বেতার অঞ্চলের শ্রোতাদের জীবন মান উন্নয়ন, জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রন, আবাদি জমির পরিমান বৃদ্দি, কৃষি উন্নয়ন, তৃনমূলে স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা, প্রবাসিদের অর্থের লাগসই ব্যবহার, দারিদ্র দুরিকরণ, প্রাকৃতিক দুযোর্গ মোকাবেলা, পরিবেশ উন্নয়ন, সর্বপরি সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার প্রভুতর বিস্তার সাচিত হয়েছে বেতার সম্প্রচারের কারণে যা সর্বজন স্বীকৃত। এই বছর তাদের এই ভুখন্ডে যাত্রা পথের গৌরব, ঐতিয্য ও আন›দের ৭৫ বছর পুর্তি হলো, কারণ ১৯৩৯ সালে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড থেকে বিভিন্ন কারণে তৎকালীন প্রশাসন বেতারের মাধ্যমে জনগণকে তথ্য সরবরাহ শুরু করে। তারা মাইক্রোফোন হাতে অবিরাম,অবিরল,অবিচিন্ন ভাবে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সচেতনতার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সৃষ্টির প্রসব বেদনা তাদেরকে অনেক দু:খ কষ্ট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে সহ্য করতে হয়, অনেক সুন্দর, বস্তুনিষ্ঠ, বাস্তবধর্মী, ইতিবাচক ধ্যানধারনার স্রস্টাতারা। এর সুফল যখন প্রভাহিত হচ্ছে মানুষের অন্তরে অন্তরে, সমাজের রাস্টে তখর গৌরববান্বিত বোধ করে বেতার কর্মীরা, মাধ্যমটি তাই গৌরবের ৭৫ বৎসর পুর্তি হিরকজয়ন্তী পালন উপলক্ষে শ্রোতারাও উদ্বেলিত।

অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রটি আরো গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অংশ এই কেন্দ্রটি প্রথম প্রচার করে, এটি একটি প্রাচীনতম কেন্দ্র, এই কেন্দ্র থেকে প্রথম আযান ধ্বনি প্রচারিত হয়, প্রথম ডিজিটাল রেকডিং এই কেন্দ্র থেকে শুরু হয়, কথিকা পদ্ধতি বাদ দিয়ে ইন্টারেকটিব পদ্ধতিতে কথোপকথনের মাধ্যমে সকল অনুষ্ঠান এ কেন্দ্র থেকে প্রথম শুরু হয়, আরজে পদ্ধতিতে এফ এম সম্প্রচারে এটিই প্রথম আঞ্চলিক কেন্দ্র, এস এম এস বুথ তৈরী করে হাজার হাজার শ্রোতার সাথে এই কেন্দ্রই প্রথম বেতারের সম্পর্ক সৃষ্টি করে, বেতার শ্রোতাক্লাব এর মাধ্যমে প্রথম ফিডব্যাক পদ্ধতি সৃষ্টি হয় এই কেন্দ্র থেকে, অনুষ্ঠান ফরম্যাট হিসেবে ফোনইন প্রোগ্রাম শুরু হয় প্রথম এই কেন্দ্র থেকে। সুতরাং এই কেন্দ্রটি বিশ্ব বেতার দিবসে একটি মডেল কেন্দ্র হিসেবে সবার উপর মহীয়ান।
আমি গৌরবের এই জন্য বলি স্বাধীনতা উত্তর সময় আমদের লোকাচারে ভাষা, কৃষ্টি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিয্য যতটুকু চর্চা হয়েছে মানুষের কাছে বেতার বার্তা, বেতার নাটক, পল্লী-লোক-গণসঙ্গীতসহ গ্রামীন ও লোকজ উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষন,লালন এই মাধ্যমেই হয়েছে। যতটুকু আমাদের জাতীয় সার্থরক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা, বাংলা ও বাঙ্গালীপনা যা কিছু আছে সবই হয়েছে বেতার সম্প্রচারের অনুষ্ঠান মালা প্রচারের কারণে। বাংলদেশে এমন কোন তারকা শিল্পী,অভিনেতা,পার্ফমার নেই যিনি বেতার সম্প্রচারের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়ীত ছিলেন না। তাই সফল গণমাধ্যম হিসাবে গৌরব করার মতো যা দরকার বেতারে সবই আছে। যেমন বলা যায়
ক্স সবচেয়ে বেশী স্রোতা এই মাধ্যমে অবস্থান করছে
ক্স সব চেয়ে বেশী সময় মানুষের কাছে থাকে এই মাধ্যমটি
ক্স এই মাধ্যমের অনুষ্ঠান মালা শ্রোতাদের জন্য সহজ বোধ্য
ক্স মাধ্যমটি নেটওয়ার্ক রয়েছে সবখানে
ক্স সবসময় মাধ্যমটি ব্যবহারযোগ্য
ক্স অল্প খরচে অনুষ্ঠান নির্মান হয় এই মাধ্যমে
ক্স এই মাধ্যমের অনুষ্ঠান সম্প্রচার খরচ অনেক কম
ক্স রাস্ট্রের উন্নয়ন বার্তা প্রচারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যমটি
ক্স মাধ্যটির বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সকল কলাকৌশল খুবই সহনিও পর্যায়
ক্স স্বাস্থ্য শিক্ষা, কৃষি, নিরাপর্তা, যোগাযোগ, পরিবেশনাসহ সরকারের সকল গুরত্বপূর্ণ্য বিষয়ে শ্রোতাদের নিকট অতিসহজে বার্তা পৌছে দেয় এ মাধ্যম।
গৌরব করার মতো বিষয় মুক্তিযুদ্ধে আমরা একটি সেক্টরের ন্যায় কাজ করেছি। আমাদের পূর্বসূরীরা অনেক কষ্ট করেছেন, জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে তারা দেশমাত্রিকা, লাল সবুজের পতাকার সন্মান বিশ্ব দরবারে সূউচ্চ করার চেষ্টা করেছে। হানাদার বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরা, দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত ও উদ্বেলিত করার চেষ্টা করেছে, পৃথিবীতে অনন্য উদাহরণ আমরা ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি, অর্থনৈতিক শোষণ রাজনৈতিক নিপীরণ, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে, অভিষ্ট লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভূখন্ডে লাল সবুজের পতাকা উড়াবো সবকিছুই কল্পনা থেকে বাস্তবে পরিণত হয়েছে, আপামোর সকল শ্রেণীর মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মানুষের চিন্তা জগতে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন স্বাধনে সফল হয়েছে। আমরা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি একটি প্রশিক্ষিত এবং বিশাল হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

গর্ব এজন্য আমাদের বেতার কর্মীরা কখনও প্রাপ্তি হিসাব করে না, আমরা সবাই ভাবি দেশের জন্য কি করতে পারি এবং কতটুকু অবদান আমাদের রাখা সম্ভব। দেশের সকল কেন্দ্রের শ্রোতাদের সাথে থাকতে হয় বেতার কর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে থাকতে প্রতিদিন সর্বমোট প্রায় ৪০০ ঘন্টা সারাদেশে আমাদের নেটওয়ার্ক নিয়েও আমরা অনেক গর্বিত।
গৌরবের ৭৫ বছরে দাড়িয়ে বলতে পারি ছোট দেশ অনেক জনসংখ্যা, পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের জনসংখ্যা ও ভূমি অনুপাত নিয়ে আশ্চর্য বোধ করে কিন্তু আমাদের সচেতনতা, সামাজিক শিক্ষা, সভ্য কান্ডজ্ঞান এরই মধ্যে আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে শিখিয়েছে এই সচেতনতা সৃষ্টি বেতার সম্প্রচারের বিশাল অবদান। এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষাউপকরন আমরা নিজেরাই যোগান দিতে শিখেছি শুধু তাই নয় খাদ্য আমরা রপ্তানি করতে পারি, মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা সচেতনতা, শিক্ষার হার, শিশু মৃত্যুর হার এবং মানুষের গড় আয়ু দেশটিকে এখন উন্নত দেশের কাছাকাছি নিয়ে গেছে যার জন্য গণমাধ্যম হিসেবে বেতার প্রশংসার দাবিদার। যে বিষয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবার প্রশংসা করতে হয়েছে যেমন জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মৌলবাদ দমন, কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতিরোধ ইত্যাদির বার্তা তৃণমূলে সফলভাবে পৌছে দিতে বেতার সম্প্রচার অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ বেতার অনবরত এই সকল ইতিবাচক বার্তা শ্রোতাদের নিকট পৌছে দেয়।
গৌরব এইজন্য যে আমরা সফল হয়েছি কারণ বাজারে আমাদের প্রতিদন্দি ও প্রতিযোগী তৈরী হয়েছে, এখন আমরা একা নই, দৌড়ে যিনি প্রথম হয় এখন তিনিই সফল, এ অবস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি, আমরা একটা লোভ তৈরী করতে পেরেছি, আমাদের কারণে সম্প্রচার উদ্দোক্তা সৃষ্টি হয়েছে, বেসরকারী মালিকানায় এখন সম্প্রচার শুরু হয়েছে, কমিউনিটি উন্নয়নের জন্য কমিউনিটি রেডিও এসেছে যা এই শতাব্দীর শুরু থেকেই সেমিনার করে আমরা বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, বেতার শ্রোতাক্লাব করে পাড়ায় পাড়ায়, থানা উপজেলা, জেলায় মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম সচেতন হওয়া, শিক্ষার উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে। আজকের বিজ্ঞাপন, প্রচার প্রসার সবকিছুই বাংলাদেশ বেতারের গৌরব, আমাদের গৌরব।
বেতার সম্প্রচার এখন একটি শিল্প। অন্যান্য কল কারখানার উৎপাদন এবং আয় উন্নতির ন্যায় গণমাধ্যমও এখন শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখানে যারা কাজ করে তারা এখন আয় উন্নতি, লাভ ক্ষতি হিসাব করতে পারে। দেশের একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এই শিল্পের সাথে জড়িত। এটি এখন শুধু বিনোদন বা এমেচার নয়, একটি স্বিকৃত, আভিজাত্য, লোভনীয় ও আকর্ষনীয় এখন গনমাধ্যম কর্মী হিসেবে পেশা। এটা বেতারের অবদান, যে যেই চ্যানেলে কাজ করুক না কেন তিনি শুরুতে হয়তো বেতারেই ছিল বা বেতার দিয়ে তার শুরু।
গৌরব এজন্য যে, আমাদের মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, তথ্য শিক্ষা বিনোদনের মাধ্যমে ইতিবাচক উদ্ভুদ্ধ করণ এবং সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ সফল। এখন একজন রিকসাচালকও কিছু না কিছু সঞ্চয় করে, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করায়, রাস্তার কোণে ভাপা পিঠা বিক্রেতা নারীও তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন, সঞ্চয় দিয়ে তিনি সংসার পরিচালনা করেন, খাবার আগে এবং মলমূত্র ত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ধৌত করেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করেন মানসন্মত পায়খানা ব্যবহার করেন। আমাদের শ্রোতাক্লাবগুলো বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও নারীর অধিকার, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও দেশীয় সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মানুষকে সচেতন করতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে, সেইক্ষেত্রে আজ তারা অনেকাংশে সফল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আজ তারা কিছুটা স্বিকৃতিও পেয়েছে। আজ ৭৫ বৎসরে দাড়িয়ে আমরা বলতে পারি আমরা সফল, এটা আমাদের গর্ব।

লেখক: ড. মির শাহ আলম
পরিচালক(শিক্ষা)
জাতীয় সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email