বি.বাড়িয়ায় সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র নিহত, বিজিবি মোতায়েন

0
234

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ, মাদ্রাসাছাত্র ও ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন। নিহতের নাম হাফেজ মাসুদুর রহমান (২১)। তিনি শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার (বড় মাদ্রাসা) শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সামন্তঘর গ্রামে।

সোমবারের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন হাফেজ মাসুদুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকালে জেলা শহরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিজিবি টহল দিচ্ছে।

মাসুদুর রহমান শহরে থেকেই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তার লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত মাদ্রাসাছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমানের ভাই হাফেজ মোহাম্মদ মামুন ও সহপাঠী মুফতি নিয়ামুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, মাসুদের গায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের টিএ রোডে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মার্কেটে মোবাইল কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে প্রথমে মাদ্রাসা ছাত্রের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের তর্ক হয়।

 

এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে এতে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিলে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। ছাত্রলীগের কর্মীরা মাদ্রাসা ছাত্রদের ধাওয়া করে।

 

এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ছাত্রলীগ কর্মী, ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসাছাত্র- ত্রিমুখী সংঘর্ষে শহরের প্রধান সড়ক টিএ রোড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

সংঘর্ষে সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।

 

এতে হাফেজ মাসুদুর রহমানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। তবে সংঘর্ষের পুনরায় আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ হোসেন।

 

Print Friendly, PDF & Email