ব্রেক্সিট ভোটের পর বৃটিশ অর্থনীতি দুর্ভোগে পড়বে: তেরেসা মে

0
375

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্বীকার করলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তিনি বললেন, ব্রেক্সিট ভোটের পর বৃটিশ অর্থনীতি দুর্ভোগে পড়বে। কঠিন সময় আসতে পারে। সেই কঠিন সময়ের জন্য তিনি প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন। ব্রেক্সিট পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তারপর প্রথম সাক্ষাতকার দিয়েছেন তিনি। অ্যানড্রু মার শো’তে তিনি এমন সব আতঙ্কের কথা প্রকাশ করেছেন। তেরেসা মে বলেছেন, বৃটেনের জন্য ব্রেক্সিট ছেড়ে যাওয়া খুব মসৃণ হবে না। ব্রেক্সিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ২০১৭ সালের আগে শুরিু হবে না। তবে এ প্রক্রিয়াকে এমনভাবে উপস্থাপনা করা হবে না যাতে তা হারিয়ে যায়। এ সময় তিনি আগাম নির্বাচনের কথাও উড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, এখন বৃটেনের সবচেয়ে বেশি দরকার হলো স্থিতিশীলতা। এসব খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, চীনে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে তিনি ওই সাক্ষাতকার দেন। বৃটেন অর্থনৈতিক কঠিন সময়ে পড়বে এমন আভাস দিলেও অনেকে যতটা আভাস দিয়েছিলেন ততোটা গভীর সে সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি। গত জুনে ব্রেক্সিট গণভোটের ফলে ২৮ জাতির সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থ বাজারে একটি হতাশাজনক বার্তা দেয়। তাহলো বৃটেন ব্রেক্সিট নিয়ে বাণিজ্যিক সবচেয়ে বড় অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আরেকটি মন্দা দেখা দিতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থবাজারে নতুন ভূমিকা সৃষ্টি হবে।    ব্রেক্সিটের পর বৃটেনের অর্থনীতি যেমন যাবে বলে ভাবা হয়েছিল এখন পর্যন্ত ততটা খারাপ নয়, বরং তার চেয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেরেসা মে মনে করেন ব্রেক্সিট তার দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করবে। এ বছরের শেষের দিকে তিনি অর্থনীতিক পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে আগামী কয়েক মাসে ডাটা সংগ্রহ করবেন। নজরদারি করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন। ওদিকে চীনের হ্যাঙ্গঝু’তে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পথে তিনি বলেছেন, সামনের দিনগুলো কঠিন হবে। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক গারনি। মার্ক গারনি গত মাসে অর্থনীতিক গতিপ্রকৃতি বিষয়ক একটি নজরদারি প্রকল্ট চালু করেছেন। তার ওপর ভিত্তি করে বছরের বাকি সময়ের জন্য অর্থনীতির একটি নির্দেশনা দেয়া হবে। তেরেসা মে’র সঙ্গে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে তেরেসা মে’র। এরপর ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-বৃটেনের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ওপর যাতে ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করতে ব্রেক্সিট নিয়ে সমঝোতা বিষয়ে নিবিড়ভাবে পরামর্শ দিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা যতটুকু পারি তার সবটুকুই করবো। বৃটেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এখন অর্থনৈতিক সহ সব সম্পর্ক শক্তিশালী। ভবিষ্যতে তা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে তিনি এর আগে বলেছিলেন, ইউরোপের জন্য ব্রেক্সিটের অর্থ কি দাঁড়ায় তা বুঝে কাজ করা হবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বছরের শুরুর দিকে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, বৃটেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেয় তাহলে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাতারের শেষে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু সে কথা এবার অস্বীকার করেছেন ওবামা।

Print Friendly, PDF & Email