ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

0
127

স্পোর্টস ডেস্ক:  নিজের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশকে ডাকতে বরাবরই অনীহা ভারতের। এই প্রথমবার তারা মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ডেকেছে। এর আগে ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে টেস্ট এবং ওয়ানডে খেললেও কখনো টি-২০ খেলেনি। এর আগে ভারতীয়দের বিপক্ষে সীমিত ফরম্যাটে জিততেও পারেনি টাইগাররা। নবম বারের দেখায় শেষ পর্যন্ত জয় পেলে বাংলাদেশ।

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
ভারতের মাটিতে এটিই দুদলের প্রথম টি-২০ ম্যাচ। ঐতিহাসিক এ ম্যাচটি স্মরণীয় হলো না স্বাগতিকদের জন্য। অপরদিকে সাকিব, তামিম না থাকার শোককে শক্তি বানিয়ে লড়াই করা টাইগাররা তুলে নিলো দুর্দান্ত জয়।
দিল্লিতে মাঝারি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। অভিষিক্ত মোহাম্মদ নাইমের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন সৌম্য সরকার। ২৮ বলে ২৬ রান করে নাইম ফেরার পর সৌম্যকে সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম।
৩৯ বলে সৌম্য ফিরে যাওয়ার পর খেল দেখান মুশফিক। মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি দেন বাকি পথ।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য টাইগারদের ২২ রান। সেখানে ১৯তম ওভারে মুশির নায়কোচিত ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় মাত্র ৪। যা নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়েনি দুই ভায়রা-ভাইয়ের।
এর আগে শিশির পড়ার বিষয়টি মাথায় রেখে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বোলারদের দাপটে বেশিদূর যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪৮ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা।
অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে প্রথম ওভারেই সঠিক প্রমাণ করেন পেসার শফিউল ইসলাম। প্রথম ওভারেই ৯ রানে তিনি ফেরান ভারতীয় অধিনায়ক রহিত শর্মাকে।
লোকেশ রাহুলকেও বেশিদূর যেতে দেননি লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি তুলে নেন ১৭ বলে ১৫ রান করা রাহুলকে। শ্রেয়াশ আয়ার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। তাকেও অল্পতেই আটকে দেন বিপ্লব। সাজ ঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ২২ রান করে আয়ার।
শিখর ধাওয়ান উইকেট ধরে রাখলেও রানের চাকায় গতি আনতে পারেননি। রান আউট হয়ে ফেরার আগে তিনি ৪২ বলে করেন ৪১ রান। শিভম দুবেকে ১ রানে ফেরান আফিফ হোসেন।
এরপর রিশভ পান্থ হাল ধরেন। ২৭ রানে তাকে ফেরান শফিউল। শেষ দিকে ক্রনাল পাণ্ডের ৮ বলে ১৫ রানের সুবাদে লড়াইয়ের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা।
বল হাতে দারুণ ছিলেন লেগস্পিনা বিপ্লব। ৩ ওভার বল করে ২২ রান খরচায় ২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া শেষ দিকে এসে কিছুটা খরুচে বোলিং করলেও ২ উইকেট তুলে নেন শফিউল। এছাড়া ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১টি উইকেট তুলে নেন আফিফ হোসেন।
স্কোর:
ভারত ১৪৮/৬ (২০)

রোহিত শর্মা ৯ (৫)
শিখর ধাওয়ান ৪১ (৪২)
লোকেশ রাহুল ১৫ (১৭)
শ্রেয়াশ আয়ার ২২ (১৩)
রিশভ পান্থ ২৭ (২৬)
শিভম দুবে ১ (৪)
ক্রুনাল পাণ্ডে ১৫* (৮)
ওয়াশিংটন সুন্দর ১৪* (৫)
বোলার
শফিউল ইসলাম ৪-০-৩৬-২
আল আমিন হোসেন ৪-০-২৭-০
মোস্তাফিজুর রহমান ২-০-১৫-০
আমিনুল ইসলাম ৩-০-২২-২
সৌম্য সরকার ২-০-১৬-০
আফিফ হোসেন ৩-০-১১-১
মোসাদ্দেক হোসেন ১-০-৮-০
মাহমুদুল্লাহ ১-০-১০-০
বাংলাদেশ ১৫৪/৩ (১৯.৩)
লিটন দাস ৭ (৪)
মোহাম্মদ নাইম ২৬ (২৮)
সৌম্য সরকার ৩৯ (৩৫)
মুশফিকুর রহিম ৬০* (৪৩)
মাহমুদুল্লাহ ১৫* (৭)
বোলার 
দীপক চাহার ৩-০-২৪-০
ওয়াশিংটন সুন্দর ৪-০-২৫-০
খলিল আহমেদ ৪-০-৩৭-১
জুজবেন্দ্র চাহাল ৪-০-২৪-১
ক্রুনাল পাণ্ডে ৪-০-৩২-০
শিভম ডুবে ০.৩-০-৯
বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিম।
Print Friendly, PDF & Email