মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে মুখ খুললেন মোহাম্মদ নাসিম

0
185

সৈয়দ বোরহান কবীর: মোহাম্মদ নাসিম। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ১৪ দলের মুখপাত্র। বর্তমানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতীয় নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর উত্তরাধিকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পার করেছেন। প্রশংসিত হয়েছেন, সমালোচিত হয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সময় পার করেছেন কিন্তু আদর্শে সব সময় হিমালয়ের মতো অটল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের  স্বাস্থ্য সেবা হবে বিশ্বে মডেল। সব মানুষের জন্য সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেছেন ‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্যই একটি চক্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আমাকে নিয়ে কুৎসিত অরুচিকর মিথ্যাচার করছে। কিন্তু আমার ও আমার পরিবারের ওপর অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে নিবৃত্ত করা যাবে না। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রতিটি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, আমি তাই করব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। এই অগ্রযাত্রায় স্বাস্থ্য খাতও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত এখন সারা বিশ্বের মডেল। শিশু মৃত্যু, মাতৃ মৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্ব জাগানিয়া। দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক এখন সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আমরা ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একযোগে ছয় হাজার তরুণ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডাক্তাররা যেন গ্রামে থাকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘নতুন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং পাঁচটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী একযোগে এই মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। অসংক্রামক ব্যাধি যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদির সর্বাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছয়টি জেলায় ইতিমধ্যে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ যখন মধ্য আয়ের দেশ হবে, তার আগেই প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশেই অন্যান্য দেশ থেকে মানুষ উন্নত চিকিৎসা নিতে আসবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছি। এ জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন পদায়ন কমিটি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এই কমিটি পদায়ন ও পদোন্নতির কাজ করে। মন্ত্রীর একার সিদ্ধান্তে পদায়ন ও পদোন্নতি করার বিধান আমিই রহিত করেছি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োগ পিএসসি অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষ সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে। আমার দায়িত্ব পালন কালে কোনো নিয়োগ নিয়ে কোনো কথা ওঠেনি। নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।’ এখানে অবৈধ দেন দরবার ও তদবিরেরও সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘ক্রয় সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আমরা টেন্ডার পদ্ধতি চালু করেছি। ফলে দুর্নীতি কমে এসেছে। দুর্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধে আমরা কাজ করছি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই সমস্যা দূর করতে আমি গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ দুর্নীতিবাজদেরই উৎসাহিত করবে।’ মোহাম্মদ নাসিম বলেন ‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছিল। অনেক হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কিনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজন ছাড়াই যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। আমি এসে এগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছি। এ জন্যই ওই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ চক্র এখন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ঢালাও ভাবে আমার সম্মানহানির চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব করে আমাকে থামানো যাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।’ মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। পরীক্ষার সময় আমি নিজে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, কেউ আমাকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো অভিযোগ করেনি। আপনি জানেন এবার পরীক্ষায় ৯০ ভাগ আসনে ভর্তি হয়েছে জিপিএ ১০ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। গরিব, মধ্যবিত্তরা ভর্তি হতে পেরেছে। এতে কোচিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপি-জামাতের মুখ চেনা চক্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যিনি ১৪ দলেরও মুখপাত্র বলেন, ‘দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যেমন বিদেশি হত্যা করে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তেমনি মেডিকেল কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মিথ্যা অভিযোগ তুলে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। এগুলো একই চক্রান্তেরই অংশ। কিন্তু এসব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবেই।’ মোহাম্মদ নাসিম বলেন ‘আমি রাজনীতি করি, তাই সমালোচনা ভয় পাই না। কিন্তু কুৎসিত মিথ্যাচারকে ঘৃণা করি। আমি বলতে চাই, শহীদ এম মনসুর আলীর রক্ত কোনো দুর্নীতি করে না, বেইমানি করে না। স্বার্থান্বেষী মহল এখন শুধু আমার বিরুদ্ধে নয় আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে নেমেছে। কিন্তু আমি এসবে ভীত নই। আমি দৃঢ় ভাবে বলতে চাই, আমার বাবাও নির্ভয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করেছেন। প্রয়োজনে আমিও জীবন দেব কিন্তু অন্যায়, অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের কাছে আত্মসমর্পণ করব না।

Print Friendly, PDF & Email