মাস্ক নিয়ে মশকারি : ভ্যাকসিন নিয়ে বিভ্রান্তি

0
212
  • মীযানুল করীম

বাংলাদেশে এখন যারা মাস্ক পরছেন না, তারা যে সার্বিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, শুধু তা-ই নয়। তাদের যেন এটা করার পুরো ‘স্বাধীনতা’ আছে। এর বিপরীতে যারা এখনো বিধি মেনে মাস্ক পরছেন, তাদের বেশির ভাগ নারী এবং চার পাশের বেহাল অবস্থা দর্শনে তাদের বিব্রত হতে হয়। অনেক শিশুও মাস্ক পরছে যদিও ১১ বছরের নিচে বয়স হলে তা বাধ্যতামূলক নয়। বিগত আশির দশকে প্রখ্যাত নাট্যকার ও কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটা বিখ্যাত টেলিসিরিজ নাটকের নাম ছিল ‘কোথাও কেউ নেই’। এখন বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে ব্যাপক উদাসীনতা ও অনীহা দেখে মনে হয় মাস্ক পরার কিংবা সামাজিক দূরত্ব সমেত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আজ ‘কোথাও বেশি লোক নেই’। কোভিডের কততম তরঙ্গ এলো-গেল, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাস্ক না পরার ‘তরঙ্গ’ প্রতিরোধ করা।

দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এসব ব্যাপারে যত কড়াকড়ি করেছেন, ততই মানুষ বিশেষ করে রাজধানীতে মাস্ক পরার বিষয়ে উদ্যোগী হয়। এর অর্থ মহামারী থেকে নিজেদের সুরক্ষার তাগিদ নয়; মহামারীর ভয় নয়; নিছক আইন মানতে হবেÑ এ অনুভূতি থেকে এবং নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাস্ক পরা হচ্ছে। এমনকি রাজধানীতে শিক্ষিত সচ্ছল লোকদের মধ্যেও এহেন অবাঞ্ছিত প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ মূলত চিকিৎসকঅধ্যুষিত এবং তাদের পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তারা সময়ে সময়ে স্বাস্থ্যবিধি জারি করেন এবং তা মেনে চলার পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারকে তাগিদ দিয়ে থাকেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা আর প্রতিপালিত হয় না। কারণ রাষ্ট্র বা সরকার চালান প্রধানত রাজনীতিকরা আর ‘হু’ চালান বিশেষজ্ঞরা। এক দিকে পলিটিক্স, অন্য দিকে টেকনিক্যালিটি। দেশ যারা চালাচ্ছেন, তাদের কথা হলো- ‘আমাদের অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। আমাদেরকে দেশবাসীর জীবন ও জীবিকা, তথা জাতির প্রাণ ও অর্থনীতি দুটোই বাঁচাতে হয়। এর সমন্বয় করতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রে দৃশ্যত আপস সমঝোতার পথে বিসর্জন দিতে হয় নীতি ও কঠোরতা।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সংস্থার জারি করা বিধিবিধান সব সময়ে সরকারগুলো পুরো গ্রহণ করছে না। এতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে আর মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বৈকি। তবুও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে ছাড় দিয়ে চলতে হয়। অর্থনীতি বাঁচাতে নাকি এর বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল প্রয়োজনে ঘরেও মাস্ক পরে থাকতে বিশেষত বয়স্ক নারী-পুরুষকে। বাস্তবে দেখা গেছে, তা করতে গেলে পরিবারের অন্যদের কাছে ‘পাগল’ হতে হয়। একই অবস্থা হয় যখন বড় শহরের কেউ মাস্ক পরে মফস্বল বা গাঁয়ে যান। কারণ সেখানে মাস্ক জিনিসটা বিরল এবং সাধারণত ‘কোভিড’ শহুরে কিংবা ধনীর রোগ হিসেবে অভিহিত। বস্তিবাসী অথবা নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে এ মহামারীর সংক্রমণ ধারণার চেয়ে কম থাকায় এহেন ধারণা জন্ম নিয়েছে। রোদে পোড়া ও ঘাম ঝরানো পরিশ্রমী দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অপেক্ষাকৃত কম কেন, অবিলম্বে গবেষণা করা উচিত। রোদ বা সূর্যের আলো ও তাপ হচ্ছে ভিটামিন-ডি’র সর্ব প্রধান উৎস। এর সাথে কোভিড সংক্রমণ কম হওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানি না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা বড় বিপদ হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাষ্ট্র একে ‘চীনের দালাল’ বলে অভিযোগ এনেছিল। তখন চীনের কিছু কথায় এ সন্দেহ বেড়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি সংস্থার তদন্ত দল বেইজিং সরকারের বাধা পাওয়ায় বহু কষ্টে চীনে যাওয়ার অনুমতি পেল অনেক বিলম্বে। তাদের পর্যবেক্ষণ, চীনে কোভিড মহামারীর সূচনা অনেক আগেই। তা ছাড়া চীন এবার তাদেরকে মূল্যবান নথিপত্র দেয়নি। চীনে কোভিড এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলে ২০১৯ সালের মধ্যেই চীনা প্রশাসন তা টের পেয়েছিল। সে ডিসেম্বরেই ১২ রকম করোনা সে দেশে জন্ম নিয়েছিল। চীনের মধ্যে থেকেও এক চীনা যুবক ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে কোভিডে আক্রান্ত হন।

আমরা সবাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ বা আক্রমণের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এবার শীতে তা চলছে দুনিয়ার দেশে দেশে। তবে ইরানের মতো কোভিড মহামারীকবলিত দেশে নাকি তৃতীয় দফা ঢেউ শেষ হয়ে এখন মহামারীর চতুর্থ ঢেউ দেখা দিতে পারে। প্রশাসন এ নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত ও হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইরানের মতো এত লোক তুরস্ক ছাড়া আর কোনো দেশে প্রাণ হারায়নি কোভিডে। কিছুদিন আগে ইরানে মাদকদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে কোভিড মুক্তির গুজবে বিশ্বাস করে অনেক মারা গেছে এবং অনেকেই অসুস্থ। ইরানে সরকারের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা চলমান মহামারীতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন।

মিনিবাসের কর্মচারীদের প্রায় সবাই মাস্ক মোটামুটি পরছেন যদিও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তারা ‘লবডংকা’। একজন যাত্রীর আসন খালি থাকলে ওরা দশজনকে তুলছেন, কেউ এতে হাজারো আপত্তি করলেও ‘কুছ পরোয়া’ নাই। আগে বাস মিনিবাসে যাত্রীদের কেবল মাস্ক নয়, কোথাও কোথাও গ্লাভসও ছিল বাধ্যতামূলক। এখন সে সবের বালাই নেই। কারণ তারা বুঝে গেছেন, টিভিতে যত ব্যাপক প্রচার আর গরম কথা বলা হোক সরকার আসলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে ‘নরম’। না হলে এত দিনেও কেন খোদ রাজধানীতে মাস্ক নিয়ে কড়াকড়ি দূরের কথা, জোরালো অভিযানও করা হয়নি। কত ইস্যুতেই তো হরদম মোবাইল কোর্ট, মামলা, জরিমানা, পিটুনি প্রভৃতি দেখা যায়। কিন্তু মাস্ক পরা নিয়ে হুমকির বেশি কিছু চোখে পড়েছে কি? এ যেন, ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’।

যা হোক, সে দিন দেখি- এক মিনিবাসের কন্ডাক্টরের মুখে ভীতিপ্রদ মুখোশ। এমন মাস্ক তো কেউ দেয়ার কথা নয়। সে কাছে আসতেই বোঝা গেল, তার মুখ ঢেকে আছে একটি মাস্ক যা কিছু দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কোনো নরকঙ্কাল বড় বড় দাঁত বের করে ভয় লাগানো হাসি হাসছে আর তার ঠোঁট দুটো কালো-মোটা। হয়তো এমন মাস্ক পরাকে অর্ধশিক্ষিত এ পরিবহন কর্মচারী বেশ উপভোগ করছেন। অথচ শিক্ষিত যাত্রীরাও মুখোশের এহেন দৃশ্য দেখে ভীতিপূর্ণ দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য। এ দিকে শিশুদের মাস্কে রয়েছে খেলনা, যন্ত্রপাতি বা কার্টুনের ছবি। মহিলারা পরছেন অলঙ্কারের নকশিদার মাস্ক ।

আসলে অবস্থার বেশি উন্নতি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে। নিজে কোনো বিশেষজ্ঞ নই, মাস্ক নিয়ে বারবার যে দু-চার কথা বলছি, তা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার-গবেষক-বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের উক্তি। আমাদের মতো আমজনতা তাদের উপদেশ ও পরামর্শ শিরোধার্য করাই নিয়ম। বিশেষ করে কোভিড পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিদের কথা মেনে চলাই উত্তম। তা না হলে নিজেদেরই ক্ষতি। ‘ঘড় সধংশ, ঘড় ংবৎারপব’ কথাটা বলার সাথে এর কঠোর প্রয়োগও প্রয়োজন।

কিছু দিন আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২০ শতাংশের বেশি মানুষ মাস্ক দিচ্ছে না। বর্তমানে পুরো দেশ মিলে যেন এটি উল্টে গেছে। অর্থাৎ ২০ শতাংশের বেশি মানুষ আর মাস্ক পরছে না। দেখা যায়, নানা-নাতির মধ্যে শিশু নাতির নাক মুখ ঢেকে আছে মাস্ক, অথচ বুড়ো নানার মুখ খোলা; উনি মাস্ক পরাকে কোনো দরকারি টাস্কই (কাজ বা কর্তব্য) মনে করেন না। একই কথা, বাবা-ছেলের ব্যাপারেও অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনেক দিন পরে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে ছিলাম। দেখলাম, আগের মতো বহু মহিলাও ভোরে হাঁটছেন এমনকি বৃদ্ধাও। তাদের প্রায় সবার মুখে মাস্ক। তবে পুরুষদের অনেকেই মাস্কবিহীন। এক জায়গায় দেখি, পুরুষ ও মহিলার একটি যুগল ফুটপাথে হাঁটছেন। পুরুষটির মাস্ক না থাকলেও মহিলা এ বিষয়ে যত্নবান। ফেরার পথে, বাসার কাছে একটা গলি দিয়ে বের হচ্ছিলেন অনেকে। সেখানে জনাদশেক লোকের কারো মুখে মাস্ক নেই। মনে হলো, বেলা বাড়লে লোকজন বাড়ে রাস্তাঘাটে; আর বাড়ে মাস্ক পরিহিতের সংখ্যাও। তখন ‘ড্যাম কেয়ার’ কেউ কেউ মাস্কের ব্যাপারে কেয়ার নেন লজ্জাশরমের দরুন হলেও। তবে মাস্ক পরিধানের আবেদন, আহ্বান, অনুরোধ, আদেশ- কোনোটাতেই সাড়া না দিয়ে যারা চলেন, তাদের হাবভাব দেখার মতো। হয়তো তাদের মনোভাব ‘পাবলিকের রাস্তায় বা পরিবহনে পাবলিক হিসেবে চলছি। যারা মাস্ক ফাস্কের তাগিদ দেয়, আমি তাদের টাকায় খাইও না, পরিও না। মাস্ক পরা না পরা আমার ইচ্ছার ব্যাপার। এ নিয়ে অন্যের বলার কী অধিকার আছে?

গাড়িতে বাপ বেটা উঠলেন। উঠে পিতা তার শিশুসন্তানের নাকে মুখে ধীরে সুস্থে একটা মাস্ক লাগিয়ে দিলেন। নিজের মুখমণ্ডল রাখলেন অনাবৃত। উনি ভুলে গেলেন, ‘আপনি আচরি ধর্ম অপরে শেখাও।’ শুধু শিশুদের কিংবা যাত্রীর জন্য মাস্ক নয়, তা বিশেষত প্রাপ্তবয়স্ক সবার জন্য, সর্বত্র সর্বদা ও সব অবস্থায় পরিবধান করা একান্ত বাধ্যতামূলক। এ জন্য বলা হয়, To save others, save first yourself.

টিকা নিয়ে পাদটিকা
কয়েক দিন আগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গিয়ে কোভিড-এর ভ্যাকসিন বা টিকা দিয়ে এলাম। এতে যে, বিরাট কাণ্ড করে ফেলেছি, তা নয়। এ টিকা দেয়া আমার মতো সবার দায়িত্ব। টিকা দিলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আল্লাহ তায়ালাই সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। মানুষ কেবল চেষ্টা করে দেখতে পারে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবন, প্রস্তুত করা, সরবরাহ ও প্রয়োগ তেমনি এক উদ্যোগ। এটা কত দিন কার্যকর থাকে, আল্লাহ মাবুদ ছাড়া আসলে কেউ জানে না। কোনো টিকাই চিরদিন কার্যকর থাকেনি আর তা সম্ভব নয়।

যা হোক, ভিআইপিদের মতো নিজেও করোনা ভ্যাকসিন দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে আল্লাহর রহমতে বিনা কষ্টে ও আলগোছে টিকা দিতে পেরেছি। প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার টিকা টিপ্পনি’ লেখায় নিজের সে অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন এবার।

প্রশ্ন অন্য বিষয়ে। তা হলো, জানানো হয়েছিল যে, টিকা দেয়ার পর দেহে কোনো ‘সাইড-ইফেক্ট’ দেখা দেয় কি না, তা জানার জন্য আধঘণ্টা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রেই থাকা দরকার। তবে আমি করোনা টিকা নেয়ার পর ৫ মিনিট থাকতে বলা হলো। অবশ্য সতর্কতা হিসেবে নিজে বোধ হয় মিনিট পনেরো ছিলাম সেখানে। অবশ্য পরে অসুবিধা হয়নি।

দ্বিতীয় প্রশ্ন, এই ভ্যাকসিন বা টিকার দ্বিতীয় ডোজ কখন নিতে হবে? ‘চার সপ্তাহ পরে তা দেয়া হবে’ বলে জানানো হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, টিকার ডোজ দু’টির মাঝে বেশি গ্যাপ থাকলে এর কার্যকারিতাও বেশি থাকবে। তাই দ্বিতীয় ডোজ নেয়া দরকার পয়লা ডোজের ১২ সপ্তাহ পরে। এরপর ধারণা করা হচ্ছিল, চার আর ১২ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়টা গ্যাপ দেয়া হবে। শেষাবধি সেটাই হয়েছে। তবে এর আগে আমাদের প্রশাসন দু’বার চার সপ্তাহের গ্যাপের কথা বলেছে এবং এক দফা বলেছে আট সপ্তাহের কথা।

তৃতীয় প্রশ্ন হলো, কত বছর বয়স হলে করোনার টিকা নিতে হবে? সরকার জানাচ্ছে, ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে যারা সবাই এ টিকা দিতে পারবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বয়ং জোর দিয়ে কথাটা বললেও প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে বলেছেন, বয়স ৪০-এর অধিক হলেই টিকাটা দেয়া যাবে। অবশেষে জানা গেলো, পর্যাপ্ত টিকা থাকলে প্রথমে ৩৫ বছরের বেশি বয়স্ক সবাই টিকা পাবেন এবং শেষ পর্যায়ে, ১৮ বছর বয়স হলেও তা দেয়া এক সময়ে সম্ভব হবে। সরকারপ্রধানের সুস্পষ্ট উক্তির পরও তার অধীনস্থ কেউ অন্য কিছু বলতে পারেন কি না। যারা কোভিড টিকা দিতে আগ্রহী, তারা কার কথাকে অগ্রাধিকার দেবেন? (অবশ্য পরে টিভিতে বলা হচ্ছে, ৪০ ঊর্ধ্ব সবাই এ টিকা দিতে পারবেন)

কোভিডের টিকা দিয়েছি জেনে একজন জানতে চাইলেন, এ জন্য টাকাপয়সা দিতে হয় কি না। আসলে ভ্যাকসিন বা টিকা ফ্রি পাওয়া যাবে, তা প্রথমে মনে হয়নি। তবে সে দিন অন্যদের মতো আমিও ফ্রি টিকা দিয়েছি। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। অবিলম্বে এ বিষয়ে যাবতীয় বিভ্রান্তি ও গুজব দূর করা চাই। না হয়, করোনাভীতির সাথে ভ্যাকসিনের ভয় যোগ হয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এ টিকা নেয়ার ব্যাপারে।

[সূত্র: নয়াদিগন্ত]

Print Friendly, PDF & Email