মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ

0
285

Mir Kashem Ali 02ঢাকা: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি শাহীনুল ইসলাম।
বেলা ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মোট ৩৫১ পৃষ্ঠা রায়ের মধ্যে ১১ পৃষ্ঠা সারসংক্ষেপ ট্রাইব্যুনালে পড়ে শোনানো হয়।
এর আগে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে বেলা পৌনে ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এর পরপরই বিচারপতিরা এজলাসের আসন গ্রহণ করেন।
রায় ঘিরে সকাল সোয়া নয়টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মীর কাসেম আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়।
জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে ডাকা হরতালের মধ্যে এই রায় দেওয়া হলো।
রায় ঘিরে সুপ্রিমকোর্ট ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল থেকে তল্লাশি করে সবাইকে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল।
এর আগে গত ৪ মে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মীর কাসেম আলীর রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
২০১৩ সালের ১৬ মে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমসহ প্রসিকিউশন টিম ১৪টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনিত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগই অপহরণ করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার কার্যালয় (দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email