মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে চলছে সম্মেলনের প্রস্তুতি

0
304

Logo A Ligue 01
সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়নি প্রায় ১২ বছর চলছে। এরই মাঝে গত ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়েই চলে আসছিল দলটির সকল কার্যক্রম। কার্যক্রম বলতে বিশেষ কোন দিবস ছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিস থাকে তালা বদ্ধ অবস্থায় প্রায় অনেকদিন। নেই কোন বর্ধিতসভা বা কোন কর্মীসভা। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব সংকটে ভোগছিল দলটির তৃনমূলর নেতাকর্মীরা।
দলীয় ও বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামীলীগে অনেক দিন থেকেই স্থানীয় ভাবে এককছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল আওয়ামীলীগের সভাপতি/সম্পাদক গ্রুপের মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতাকর্মী। কিন্তু এরই মাঝে বেশ কিছুদিন ধরেই সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দলীয় ভাবে তৃনমূলের নেতা কর্মীদের মাঝে আবারও ফিরতে শুরু করেছে চাঞ্চল্য উৎসাহ উদ্দীপনা। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কমিটি গঠন নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ইউনিয়ন নেতাকর্মীরা তাদের নিজেদের উদ্যোগে সভাপতি/সম্পাদক বিরোধী কমিটি গঠন করছেন। তাদরে বিগত দিনের কার্যক্রমেরই ফল বলে মনে করছেন দলীয়কর্মীসহ সাধারন জনগণ। বর্তমান সভাপতি/সম্পাদক সমর্থিত কর্মীর সংখ্যা এতটাই নিচে নেমেছে যে ইউনিয়নেই সম্মেলন হচ্ছে। তার মধ্য নির্বাচিত হচ্ছেন যারা বেশির ভাগ নেতাই তাদের আনুগত্যের বাইরে। যে কারণে বেশ কদিন ধরেই মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবর রহমান কাঁচা মিয়া ও সাধারন সম্পাদক শহীদ ইকবালের উপস্থিতিতেই ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ লুটপাটের মত ঘটনা ঘটছে । বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য বাংলাদেশের সুনামধন্য সফল সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মোমিন থাকাকালীন ও পতœী বর্তমান সাংসদ রেবেকা মোমিনের সাথেও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদকের বিগত অনেক বছর ধরেই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে বেশ দূরুত্ব। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোহনগঞ্জ পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন সময়ে বর্তমান সংসদ সদস্য রেবেকা মোমিনের সম্পত্তির হিসাব চাওয়া, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাংসদের সাথে বিভিন্ন সময়ে অসদ আচরন করা, দলীয় মনোনয়ন বিরোধী মিছিল সমাবেশ করা। দলীয় শৃংখলা ভেঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া । কোন বিষয়েই সমন্বয় না করাটাই সম্পর্কে টানা পরেন । বিগত দিনে সভাপতি/সম্পদকের রাজনীতি ছিল বেশ দাপোটি। তাদের দাপোটে সংসদ সদস্য অনুরাগী নেতাকর্মীরাও ছিল চরম কোনঠাসা অবস্থায়।
হঠাৎ এই দাপোটে রাজনীতিবিদদের রাজনীতিতে হোচট খেতে হল বলেই ধারনা মোহনগঞ্জের সাধারন আওয়ামী নেতা কর্মীদের। আওয়ামীলীগে বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন দীর্ঘ অনৈতিক রাজনীতির অবসান হয়ে নতুন কোন নেতৃত্ব আসছে উপজেলা আওয়ামীলীগে। এমনটাই ধারনা করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চলছে দল গুছানোর জোর চেষ্টা। ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ গ্রামে গ্রমে ছুটছেন সম্ভাব্য প্রর্থীরা।
এরই মাঝে কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই সভাপতি মজিবুর রহমান কাঁচা মিয়ার নিজ ইউনিয়নের খুর্শিমূল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মীসভার আহবান করা হলেও সংসদ সদস্য সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পৌর মেয়র সাবেক থানা আওয়ামীলীগে সাধারন সম্পদক লতিফুর রহমান সমর্থিত আওয়ামীলীগ ও মোহগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম সমর্থিত যুবলীগ, ছাত্রলীগ কর্মীসভা আহবান করলে সমাবেশ করতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারন সম্পদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদ ইকবাল। গত কয়েক বছরের ইতিহাসে এরকম ভাবে সভা আহবান করার পরও করতে না পাড়াটা এই প্রথম বলে মনে হচ্ছে উপজেলাবাসীর। মোহনগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকেই উপজেলা আওয়ামীলীগে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের একটা হাওয়া বইছে বলে মনে হচ্ছে। এমপি সমর্থিত যে কোন সভা সমাবেশে ব্যাপক পরিমান সাধারন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতই। সংসদ সদস্য সমর্থিত কোন কর্মীসভা বা সমাবেশে কর্মীদের যে স্বতস্পুর্ত অংশ গ্রহনের বিষয়টি কিছুদিন আগেও যা ছিল না।
এরই মাঝে গত শুক্রবার ২নং বড়তলী বানিহারী ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাবেক থানা আওয়ামীলীগ সম্পাদক এডভোকেট লতিফুর রহমান রতন ও বর্তমান সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদ ইকবালের মধ্যে গ্রুপিং প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রায় দিনই ঘটছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর সংঘর্ষের ঘটনা। এক গ্রুপ অপর গ্রুপের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে রাতেই পৌর শহরে ঘন্টাব্যাপী চলে সশস্ত্র সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিও বর্ষন করে। এ সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪ জন আহত হয়।
এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানায় সংসদ সদস্য সমর্থিত লতিফুর রহমান সমর্থনকারী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আমিনুল ইসলাম সোহেল বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। পরবর্তীতে শহীদ ইকবালের মালিকানাধীন পান্না গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার খোকন চক্রবর্তী বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামী করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। এতে প্রধান আসামী দেওয়া হয়েছে উপজেলা যুবলীগে যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, সুবাদ,শিরিন,কামাল,হোসেন, জিয়া,ছাত্রলীগকর্মী মিল্টন তালুকদারসহ আরোও প্রায় ২৪ জন। তবে আসামীদের মাঝে প্রায় অনেকেই বিশ্ব বিদ্যালয়ে পরিক্ষার কারণে এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন। গত সোমবার নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনে রয়েছেন সকলেই।
এ উপজেলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েই এখন ভাবছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের তৃনমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামীলী বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক লতিফুর রহমান রতন জানান, প্রায় অনেক বছর ধরেই মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে চলচিল চরম নেতৃত্ব সংকট। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি/সাধারন সম্পাদকের বিরোদ্ধে দলের ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায় কারাসহ বিভিন্ন কারণে উপজেলা আওয়ামী রাজনীতি চরম নোংরা অবস্থানে। বছরের বেশিরভাগ সময়েই আওয়ামী অফিস থাকে তালা বদ্ধ অবস্থায়। দীর্ঘ ১২ বছর পর হলেও আওয়ামীলীগে সম্মেলন হচ্ছে। চলছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ডে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। দলকে সুসংগঠিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকমীদের মাঝে ফিরে আসছে চাঞ্চল্য। কর্মীরা ভোটের মধ্যদিয়ে তাদের নেতৃত্বদানকারী নেতা নির্বাচিত করছেন। নির্বাচিত নেতাদের প্রায় বেশিরভাগই বর্তমান সভাপতি/সম্পাদক অনুসারী না হওয়ায় কিছুদিন ধরে দলীয় কর্মীদের মারধর করা দোকানপাটে হামলা থানায় মিথ্যা মামলা, ভাংচুর অগ্নিষংযোগসহ লোটপাটের মত ঘটনাও ঘটছে। তবে কিছুদিনের মাঝে সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মীদের পছন্দমত নেতা নির্ধারন করা হয়ে গেলেই বর্তমানে বিরাজমান সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সম্মেলন বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম জানান, মোহনগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ বিগত দিনের চেয়ে বর্তমানে অনেক শক্তিশালী। আমাদের সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার কাজ প্রায় শেষের দিকে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন শেষ হলেই যুবলীগের সম্মেলন আহবান করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email