যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

0
68

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে দেশবাসী আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে।
পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার পর দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে।
আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ধর্মপ্রাণ লাখো লাখো মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে নামাজ আদায় করেন।
রাজধানী ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিগণ এবং সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহের এই জামাত শুরু হয়। তবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৭টা থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নিতে শুরু করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ঈদ জামাতে এবার ইমামতি করেন চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের খতীব অধ্যাপক মাওলানা জালালুদ্দিন আল কাদেরী।
রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছলে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন স্বাগত জানান। ঈদগাহে পৌঁছেই রাষ্ট্রপতি ইমামের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিলো।
ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় সংসদ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবগণ, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে স্পিকার আগত মুসল্লীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৮টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এসব ঈদ জামাতে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে সকাল ১০টায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষ ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার থেকে তিনদিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।
এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিরোধীয় দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নগরীতে জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদ উপলক্ষে আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক দ্বীপে ঈদ মুবারক খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।
ঈদ উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযথ মর্যাদা ও ধমীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঈদে ঢাকা মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীতে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। মহানগরীতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email