রাজনীতি, সমাজ ও অপরাধঃ প্রেক্ষাপট বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকান্ড

0
162

আফিয়া ইসলাম অনু: “রাজনীতি” শব্দটি আপেক্ষিক। বাংলা ভাষায় কে বা কাহার শব্দটি প্রচলন করেছে তা ভাষা বিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবে। রাজনীতি সেইসব নীতিকে বলা হয়- যেসব নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি জাতি ,রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালিত হয়।

সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গেলে বলা যায় : রাজনীতি হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছুসংখ্যক ব্যাক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি দল পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণ ভাবে নাগরিক সরকার পরিচালনাকেই রাজনীতি বলা হয় তবে এছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণ প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাত যেসব স্থানে মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বসবাস বিদ্যমান সেখানেই রাজনীতির চর্চা হয়ে থাকে।

তবে বর্তমান বাস্তবতার মারপ্যাচে রাজনীতি বলতে বুঝায় – রাজনীতি রাজার নীতি। রাজা তার রাজ্য পরিচালনার বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য যে নিয়ম কানুন,আদেশ-উপদেশ বা ফরমার জারি করেন সেটাই সম্ভবত রাজনীতি। অন্যভাবে বলা যায় রাজনীতি হচ্ছে একটি যুদ্ধ । যেখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকে, থাকে বুদ্ধির মারপ্যাচে অন্যকে পরাভূত করার মানসিকতা বা সর্বদা নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তৎপরতা।
পৃথিবী,রাষ্ট্র বা সমাজ কেউই রাজনীতির গোলকের বাহিরে না। আজ যে শিশুটি জম্নগ্রহণ করেছে এমন কি সেও রাজনীতির বাহিরে নয়। পরিষ্কার করে বলতে গেলে আমাদের দেশে বিরোধী দল হরতাল আহব্বান করলে যে ব্যাক্তিটি হরতালের কারণে অফিস যাওয়ার সূচি বদল করে সে ব্যাক্তি অজান্তে বিরোধী দলের হরতালকে সমর্থন করে ফেলে। অপরদিকে সেই ব্যাক্তিটি যদি হরতালের দিন ঘর থেকে বের হয়ে নির্মম হামলার শিকার হয়ে মৃত্যু শয্যায় লড়াই করে,তাহলে তো সে সরকার সমর্থক। অতএব বলা যায় আপনি আমি কেউ রাজনীতির বাহিরে নই।
যেহেতু রাজনীতির মাধ্যমে জাতি,রাষ্ট্র তথা সমাজ পরিচালিত হয়। সেহেতু অপরাধ মুক্ত, বাক স্বাধীনতায় পূর্ণ,মুক্ত বুদ্ধির চর্চা মত্ত, প্রগতিশীল রাষ্ট্রর জন্য সুস্থ মানসিকতার রাজনীতি দরকার। কেননা অসুস্থ রাজনীতিই অপরাধমুক্ত রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রধান অন্তরায়। যদি মুদ্রার এক পিঠ হয় অসুস্থ রাজনীতির তাহলে অপর পিঠ হচ্ছে দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধপ্রবণতা। আর এখন তো অপরাধপ্রবণতা রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যেসব ঘৃণ্য শব্দ অপরাধীদের বেলায় প্রযোজ্য হওয়ার কথা, যেমন- খুন, গুম, জখম, হামলা, মামলা, নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন প্রভৃতি সবই রাজনীতিবিদেরা করছেন অথবা এগুলো রাজনীতিকদের কলাকৌশলে পরিণত হয়েছে।
গতকাল সাবেকুন নাহার সানি আজ আবরার কাল হয়ত অন্য কেউ। হবে আন্দোলন কিছু দিন, মিডিয়াতে ভরপুর আলোচনা কিছু দিন পর এসব কথা রমনা বটমূলে বসে পান্তা ইলিশ খেতে খেতে ভুলে যাও।এটাই আমাদের সমাজের চলমান প্রক্রিয়া। বুয়েট আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনায় শুনা যাচ্ছে ছাত্র রাজনীতির সংশ্লিষ্টার কথা । ইতিপূর্বে বিশ্বজিৎ, আবু বক্কর অনেকের হত্যাকান্ডের সাথে রাজনীতিক কলাকৌশল জড়িত ছিল। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের অপরাধ নিমূলের উপায় কি ? এসব অপরাধ নিমূলের উপায় একটায় সুস্থ ও বুদ্ধি ভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ।

লেখক:

আফিয়া ইসলাম অনু
এলএলবি (অনার্স), এলএলএম
এমএসিপিএম প্রোগ্রাম (৩য় ব্যাচ)
পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ
Print Friendly, PDF & Email