রাজনৈতিক আশ্রয়ে তারেক: ফেরত পাঠাবেনা বৃটেন

0
184

Tarek Rahman 03
ঢাকা: তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই জন্য সরকার সেখানকার পররাষ্ট্র দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এই কারণেই ইংল্যান্ড সরকার তাকে ফেরত দিবে না। তারেক রহমানকে বাংলাদেশ সরকার জোর করে দেশে ফেরত আনার জন্য উদ্যোগ নিতে পারে এই আশঙ্কা থেকে তিনি আগেভাগেই এই উদ্যোগ নেন। কারণ তার কাছে খবর ছিল সরকার তাকে যে কোনো মূল্যে ফেরত আনার চেষ্টা করবেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেডহামলায় তার বিচার করবে।
যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় এই জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এছাড়াও তার কাছে আরো খবর ছিল তিনি যাতে আগামী দিনে বিএনপির হাল ধরতে না পারেন সেই জন্য সরকার তাকে যে কোনো ধরনের সমস্যায় ফেলতে পারে। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতে ও সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে আপাতত যাতে তার দেশে ফিরতে না হয় সেই জন্য তিনি ইংল্যান্ড সরকারকে ও ওই সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন।
তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সেখানের কয়েকজন আইনজীবীরও পরামর্শ নেন। সেই হিসাবে তিনি আপদকালীন সময়ের জন্য বিশেষ করে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অরাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেই হিসাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
এই বিষয়টি লন্ডনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেতো কোনো সমস্যা নেই।
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি সব সময় দাবি করেন চিকিৎসার জন্য সেখানে আছেন। কিন্তু তিনিতো সেটা না করে দলীয়ভাবে বক্তৃতা করে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য থাকলে সেটাই করতেন। তা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করছেন। আবার বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করছেন। এই সরকারের পতন চাইছেন। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ইতোমধ্যে দুই দফা লন্ডন সফর করেছেন। তাকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া জানার পর তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে তার অবস্থান জানানোর জন্য। সেই অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ফেরত আনার জন্য চিঠি দিয়েছেন।
তবে এই চিঠি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তিত নন তারেক রহমান। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তারেক রহমান এটা নিয়ে চিন্তিত কিংবা বিচলিত নয়। সরকার তার ব্যাপারে অমানবিক আচরণ করছে। তাকে দেশে নিয়ে কারারুদ্ধ করবে। তার উপর নির্যাতন করবে, এমনকি তাকে হত্যাও করতে পারে বলে যত ধরনের আশঙ্কার কথা রয়েছে সব ইংল্যান্ড সরকার, সরকারের মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে সেখানকার সব মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। এই কারণে সরকার দুর্নীতির মামলায় তাকে ফেরত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেও সফল হতে পারেনি।
এদিকে তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন কিনা এই ব্যাপারে তারেক রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, সরকার এখন তার সঙ্গে যে আচরণ করছে তা অমানবিক। এটা এখানে মানুষ মেনে নিলেও বিশ্বের অন্য কোনো দেশ মেনে নিবে না। সরকার তাকে এখানে আনার পর কি করবে এটা সবাই আন্দাজ করতে পারছে। এই কারণে তাকে তারা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিবে না। সরকার যত চেষ্টা করুক না কেন লাভ হবে না।

Print Friendly, PDF & Email