রাতের আঁধারে হলের মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা

0
20

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে শেরে বাংলা হলের উত্তর ব্লকের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরার ছবি দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুয়েট ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতিস ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন তার সপাঠীরা। বিক্ষোভ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও।

কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ, বাবা মায়ের বড় সন্তান। পড়তেন বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। থাকতেন শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে।

সবশেষ শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নিয়ে স্ট্যটাস দেন আরবার। যেখানে নিজের ভারতবিরোধী মনোভাব তুলে ধরেন তিনি।

পরদিন রোববার (৬ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে ফাহাদকে ডেকে নেয়া হয় ২০১১ নম্বর কক্ষে। ভোররাতে হলের সিঁড়িতে পাওয়া যায় তার মরদেহ।

মৃত্যুর খবর শোনার পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবরারের স্বজনরা। তারা বলছেন, আবরার কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বাবা-দাদা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

আবরারের ভাই জানান, সবশেষ সাড়ে ৫টার দিকে আম্মুর সাথে আবরারের কথা হয়। তারপর আম্মু রাত ১০টা থেকে ফোন দেয়া শুরু করে। কিন্তু ফোন ধরে নাই।

কারা তাকে হত্যা করলো, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ছিবি দেখানোর দাবি জানিয়েছেন ফাহাদের স্বজন ও সহপাঠীরা। অবরোধ করে রাখেন প্রক্টরকে।

সহপাঠীরা বলেন, কোন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে? সেখানে ওর সাথে কারা কারা ঢুকেছে? যখন ওকে লাশ অবস্থায় বের করা হয়েছে তখন কারা কারা ছিলো? অবশ্যই তারা এই হত্যার সাথে জড়িত। আমরা সেটা দেখতে চাচ্ছি।

আবরারের ফুপা মোকলেছুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে, সেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আউট করে দেয়া অস্বাভাবিক কিছু না।

পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে কারা আবরারকে ধরে নিয়ে গেছে এবং লাশ ফেলে গেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘আমরা কিছু দৃশ্য পেয়েছি। তাকে যারা ডাকছে। তার দেহ যারা নামিয়ে আনছে। আরও অনেক তথ্য এখনও আমরা কালেকশন করতে পারিনি। আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যগুলো কালেকশন করছে। আপনরা অবশ্যই নাম জানতে পারবেন।’

ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- মেহেদী হাসান ও ফুয়াদ। আটক মেহেদী হাসান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। একইসাথে প্রতিবাদী মিছিলও করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email