রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি সুন্দরবন ধ্বংসের মাইলফলক: ড. ইফতেখারুজ্জামান

0
764

ঢাকা: টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ চুক্তি সই আসলে সুন্দরবন ধ্বংসের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাইলফলক। সুন্দরবনের পাশঘেষে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চুক্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। বহুল আলোচিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ চুক্তি সই হয় গত মঙ্গলবার। ঐ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় দুই দেশের সবাই এই চুক্তিকে বিদ্যুৎখাতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার মাইলফলক বলে অভিহিত করা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান এই মন্তব্য করেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব হলরুমে (৩য় তলা) এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, দেশ ও বিদেশের বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদসহ সকল মহল তাদের বিজ্ঞান-ভিত্তিক যুক্তি দিয়ে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দু’ভাবেই সুন্দরবনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করবে। তাই সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে প্রস্তাবিত বিদ্যুকেন্দ্রটি সরিয়ে নিতে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের জনগণ ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহ সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, সারা দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান সাইক্লোনজনিত ধ্বংসলীলার চারণভুমিতে পরিণত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুল বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সরকার নিয়ম ভঙ্গ করে পরিবেশগত সমীক্ষা প্রণয়নের অনেক আগেই জমি অধিগ্রহণ করেছে। প্রকল্প বিষয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ করা হয়নি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি প্রকৃতি-সংরক্ষণশীল আইন, নীতি-নিয়ম ও কনভেনশণকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারপরও যে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি তৈরী হয়েছে তা হচ্ছে পরিস্কারভাবে অবৈজ্ঞানিক বিবেচনা ও তথ্যের গোঁজামিলভিত্তিক। ইতিমধ্যে, সরকার প্রণীত এই সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সঠিক তথ্য-যুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা করা হয়েছে, যাতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সমীক্ষা প্রতিবেদনটি বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই প্রকল্পের আর্থিক সমীক্ষা প্রতিবেদনও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে যে, রামপাল প্রকল্পের আর্থিক উপযোগীতাও নেতিবাচক। কারণ এর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আর্থিক অনিয়মগুলো বিবেচনায় নিলে এই প্রকল্প কোনভাবেই লাভজনক নয়, বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশেরই সাধারণ মানুষের বিশাল অংকের অর্থের অপচয় ঘটবে, যার বাস্তব দায় এই বিশাল দরিদ্র জনতাকেই বহন করতে হবে। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে প্রমানিত হয়েছে যে, প্রকল্পটির সকল পর্যায়েই মানবাধিকার বিষয়টিকেও কখনো বিবেচনায় নেয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির নেতাদের মধ্যে খুশী কবির, অধ্যাপক এম এম আকাশ, শরীফ জামিলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Print Friendly, PDF & Email