রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাচ্ছে!

0
168

ঢাকা: পৌরসভা নির্বাচন করার জন্য তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন করবেন শুধু মেয়র ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা; সদস্য বা কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হবে অরাজনৈতিক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে রোববার পৌরসভা আইন সংশোধনের লক্ষ্যে নতুন করে বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি রয়েছে। আগামীকাল সোমবার সংসদে তা পাস হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আর এটি হলে পৌরসভা আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে পৌর অধ্যাদেশের সুফল-কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-সমালোচনা হয়। এতে অসুবিধার দিকটিই বেশি আসে। এরপর দলের ভেতর থেকে আপত্তি জানানো হয়।

এর সঙ্গে আগে থেকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পৌর নির্বাচনের অধ্যাদেশ নিয়ে আপত্তিকেও সামনে আনা হয়েছে। আর একের পর এক ওলপ-পালট করা হয় সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সব ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে শুধু চেয়ারম্যান ও মেয়ররা দলীয়ভাবে নির্বাচন করবেন।’

তিনি জানান, ‘সদস্য বা মেম্বার, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত অন্যান্য পদের প্রার্থীদের নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে না। তাদের নির্বাচন আগের মতো নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

পৌরসভা নির্বাচন আসন্ন বিধায় এর আইনটি সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির সিদ্ধান্ত হয়। বাকি আইনগুলো সংশোধনে সংসদে বিল তোলার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় দলীয় পরিচয়ে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বলেন, পরিষদের সদস্য ও কাউন্সিলরদের নির্বাচন দলীয়ভাবে হলে মাঠপর্যায়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন।

সংসদীয় বোর্ডের একজন সদস্য জানান, এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

তা সত্ত্বেও ২ নভেম্বর দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনতে ১১ নভেম্বর সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়।

অধ্যাদেশ ও বিলে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যান, সদস্য ও কাউন্সিলর পদে দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাত্র এক দিন পর সরকারপক্ষ সিদ্ধান্ত বদল করে শুধু মেয়র ও চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নতুন করে আইন সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও সাবেক চিফ হুইপ আবদুস শহীদকে দায়িত্ব দেন।

গত বৃহস্পতিবার এই তিন নেতা সংসদে বৈঠক করে সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

স্থানীয় সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংশোধিত পৌরসভা আইনে খসড়া তৈরি করতে এ দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার জাতীয় সচিবালয়ে অফিস করেন। শুক্রবার বিকেলে আইন মন্ত্রণালয় বিলটি যাচাই-বাছাই করে।

সংসদে উত্থাপনের জন্য শনিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) বিল, ২০১৫ সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীকে রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মানে, যে ব্যক্তি রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত নন। রাজনৈতিক দল বলতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (সংসদ নির্বাচন আইন) সংজ্ঞায়িত দলকে বোঝানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email