লঙ্কানদের কাছে বাংলাদেশের বড় হার

0
493

ICC World cup 2015
মেলবোর্ন: বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের কাছে ৯২ রানে হারে টাইগাররা। ৩৩২ রানের জবাবে তিন ওভার বাকি থাকতে ২৪০ রানে অলআউট হয় সাকিব-মুশফিকরা।
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। শ্রীলঙ্কার ৩৩২ রানের পাহাড় সামনে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১০০ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরেন প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যান। আসলে এখানেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
স্কোর বোর্ডে কোনো রান উঠার আগেই সাজঘরে ফিরেন তামিম ইকবাল। লাসিথ মালিঙ্গার বলে সরাসরি বোল্ড হন বাংলাদেশের ওপেনার। তামিম ফেরার পর ক্রিজে এসে ভালোই শুরু করেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের একটি বাইরের বল খোঁচা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাঙ্গাকারার হাতে। ১৫ বলে পাঁচ চারে ২৫ করেন তিনি।
ক্রিজে দাঁড়াতে পারেননি মমিনুল হকও। নিশ্চিত আউট থেকে বেঁচে যাওয়ার পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ তুলে জয়বর্ধনের হাতে। তিনি করেছেন এক রান। একটি ক্যাচ ও একটি রান আউট থেকে প্রাণ ফিরে পাওয়া বিজয় ফিরেছেন আত্মহত্যার সামিল এক রান আউটেই। ক্ষমার অযোগ্য রান আউট হওয়ার আগে করেন ২৯ রান।
২৮ রান করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ফিরে গেলে জুটি বাঁধেন বাংলাদেশের দুই ভরসার প্রতীক সাকিব-মুশফিক। দুজনে খেলছিলেনও ভালো। মালিঙ্গা হাত থেকে সীমানায় ক্যাচ ফসকালে প্রাণ ফিরে সাকিব। কিন্তু রানরেট বেশি হওয়ায় বোলারদের উপর অতিরিক্ত চড়াও হতে হয় তাকে। সেটা করতে গিয়ে মালিঙ্গার বলে দিলশানের হাতে ধরা পড়েন ৫৯ বলে ৪৬ রান করা সাকিব।
সাকিব ফেরার পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মুশফিকও। ৩৬ রান করে লাকমলের বলে বোল্ড হন বাংলাদেশ উইকেটরক্ষক। দলের হারের ব্যবধানটা কমিয়েছেন সাব্বির রহমান। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রান করে মালিঙ্গার শিকার তিনি। শেষে তাসকিন আহমেদকে বোল্ড করে শুরুর মতো বাংলাদেশ ইনিংসের যবানিকাপাতও ঘটান মালিঙ্গাই।
লঙ্কানদের হয়ে মালিঙ্গা নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন দিলশান ও লাকমল।
এরআগে তিলকরত্নে দিলশান আর কুমার সাঙ্গাকারা অপরাজিত শতকে বিশাল রানের নিচে চাপা পড়ে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারে এক উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা করে ৩৩২ রান।
দিলশান ১৬১ এবং সাঙ্গাকারা ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন রুবেল হোসেন।
টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারত টাইগাররা। কিন্তু সেটি হয়নি স্লিপ ফিল্ডার আনামুল হক বিজয়ের কারণে।
মাশরাফির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন লাহিরু থিরিমান্নে। হাতের মধ্যে পড়া সহজ ক্যাচটি ছেড়ে দেন আনামুল। এরপর আবারও থিরিমান্নের জীবন পান মাশরাফির পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে।
এবার থিরেমান্নের ব্যাটের কানায় লেগে মুশফিক এবং আনামুলের মাঝখান দিয়ে বাউন্ডারি হয়। সেখান থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে। থিরিমান্নে আর দিলশান সমানে টাইগার বোলারদের পেটাতে থাকেন।
মাশরাফি বিভিন্নভাবে বোলারদের ব্যবহার করেও সাফল্য পাচ্ছিলেন না। এরই ধারাবাহিকতায় বল তুলে দেন সাব্বির রহমানের হাতে। তার করা প্রথম ওভারে থিরিমান্নের সহজ স্ট্যাম্পিং মিস করেন মুশফিকুর রহিম।
এরপর থিরমান্নে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন। তার আগেই দিলশান করেন দুর্দান্ত ফিফটি। তবে রুবেল হোসেনের করা ইনিংসের ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে তাসকিনের হাতে ধরা পড়েন থিরিমান্নে। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৭৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে করেন ৫২ রান।
এরপর দিলশানের সঙ্গে ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন কুমার সাঙ্গাকারা। দুজনে গড়েন ২১০ রানের জুটি। দিলশান ক্যারিয়ারের ২১তম শতক তুলে অপরাজিত থাকেন ১৬১ রানে। অনবদ্য এই ইনিংসের পথে দিলশান বল মোকাবেলা করেন ১৪৬টি, যাতে রয়েছে ২২টি চারের মার।
আর কুমার সাঙ্গাকারা মাত্র ৭৬ বলে ১৩ চার এক ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ব্যক্তিগত ৬০ রানের সময় জীবন পান তিনি। ৪২তম ওভারে রুবেলের করা প্রথম বলে পয়েন্ট দিয়ে উড়িয়ে মারেন সাঙ্গাকারা। সেটি সরাসরি মুমিনুল হকের হাতে গেলেও তা তিনি রাখতে পারেননি।
এরপরই ক্যারিয়ারের ৪০০তম ম্যাচে নেমে তিনি এই শতকের দেখা পেলেন। সাঙ্গাকারার আগে ৪০০ ওডিআই খেলার কৃতিত্ব রয়েছে কেবল তিনজন ক্রিকেটারের। তারা হলেন- ভারতের শচীন টেন্ডুলকার ৪৬৩ এবং লঙ্কান গ্রেট সনৎ জয়সুরিয়া ৪৪৫ ও মাহেলা জয়াবর্ধনে খেলেছেন ৪৪৩টি।
প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়ে এবারের মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। পরে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পণ্ড হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ১৬১ রানের সঙ্গে বলে হাতে দুই উইকেট নেয়া তিলেকারত্মে দিলশান।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৫ মার্চ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

Print Friendly, PDF & Email