লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র মক্কা

0
73

‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র মক্কা শরিফ। শনিবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। হজ পালনের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশিসহ সারা বিশ্বের প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান এখন পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছেন।

৮ জিলহজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর থেকেই ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হাজিরা মিনার তাঁবুতে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মিনায় অবস্থান করে হজের অন্যান্য আহকাম সম্পন্ন করবেন তারা।

৯ জিলহজ (শনিবার) হজের দিন। এদিন ফজরের নামাজের পর মিনা থেকেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মিনার অদূরে জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরা সংলগ্ন ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে উপস্থিত হবেন হাজিগণ। এই আরাফাতের ময়দানে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। এখানে কেউ অবস্থান করতে না পারলে তার হজ আদায় হবে না।

মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও শান্তি কামনায় ৯ জিলহজ জোহরের নামাজের সময় আরাফাতের ময়দানে মসজিদের নামিরাহ থেকে গ্র্যান্ড মুফতি ঐতিহাসিক খুতবা দেবেন। মুসলিম উম্মাহ সে খুতবা শুনবে। একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ পর পর জামাতে আদায় করা হবে। একসঙ্গে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তারা। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন হাজিগণ। এ সময় ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হবে হজ পালনকারীরা। সেখানে গিয়ে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন তারা।

৯ জিলহজ দিবাগত রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করা সুন্নত। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজের পর সূর্য ওঠার আগে সামান্য সময় মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব।

১০ জিলহজ সূর্য ওঠার আগেই মিনার উদ্দেশে মুজদালিফা ত্যাগ করবেন হাজিরা। মিনায় গিয়ে দুপুরের আগেই জামরাতে আকাবায় অর্থাৎ বড় জামরায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন। তারপর পশু কোরবানি দেবেন হাজিরা। কোরবানির পরেই হাজিরা মাথা মুণ্ডন কিংবা ন্যাড়া করবেন।

১২ অথবা ১৩ জিলহজ পাথর নিক্ষেপ শেষে হাজিরা মিনার তাঁবু ত্যাগ করে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। এরপর মক্কা ত্যাগ করার আগে বিদায়ী তওয়াফ করে অনেকেই প্রিয় নবীর (সা.) দরবারে পবিত্র মদিনায় সালাতু সালামের জন্য ছুটে যান। কেউ কেউ ফিরে যান নিজেদের দেশে।

হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। হজের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা, সফর, ভ্রমণ করা। ইসলামি পরিভাষায় হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কর্ম সম্পাদন করা।

হজের নির্ধারিত স্থান হলো মক্কা শরিফের কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ইত্যাদি এবং মদিনা শরিফে রাসুলুল্লাহর (সা.) রওজা শরিফ জিয়ারত করা। (আসান ফিকাহ, ইউসুফ ইসলাহি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা–২৫১)।

আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ বিধান হজ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর হজ ফরজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর তরফ থেকে সেসব মানুষের জন্য হজ ফরজ, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান; আয়াত: ৯৭)। এক ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

হজের ফজিলত :

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হজ মানুষকে নিষ্পাপ করে, যেভাবে লোহার ওপর থেকে মরিচা দূর করা হয়।’ (তিরমিজি)।

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত হজের পুরস্কার বেহেশত ব্যতীত অন্য কিছুই হতে পারে না। সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যারা হজ পালন করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদের হজ কবুল করবেন এবং তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত রহমত ও বরকত।

নবী করিম (সা.) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে হজ পালন করে, সে পূর্বের পাপ থেকে এরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেরূপ সে মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন নিষ্পাপ ছিল।’ (বুখারি)।

হজের তিন ফরজ :

হজের ফরজ তিনটি—যথা (১) ইহরামের নিয়ত বা ইচ্ছা করা, (২) ৯ জিলহজ জোহর থেকে ১০ জিলহজ ফজরের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং (৩) তাওয়াফে জিয়ারত করা, ১০ জিলহজ ভোর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় কাবাঘর তাওয়াফ বা সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

Print Friendly, PDF & Email