শৈলকুপা জুড়ে সহিংসতা আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ন্ত্রনে ব্যার্থ ওসি সগির মিঞা

0
304

OC Pic
আতিকুর রহমান টুটুল, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতির সাথে সাথে আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারন মানুষের মধ্যে। একের পর এক আওয়ামীলীগের একাধিক গ্র“পে হামলা, মামলা-ভাংচুর আর খুন ধর্ষনের মধ্যে দিয়ে নতুন বছর শুরু হতে না হতেই নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই অব্যাহত রয়েছে একই ধারাবাহিকতা।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ ছগির মিঞা আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও অত্র থানায় একাধিকবার যোগদানের পর তার আমলেই রেকর্ড সংখ্যক হামলা-মামলা আর খুনের ঘটনা ঘটেছে। শাসকদলের আধিপত্য বিস্তার, দখল আর পুলিশি পলিটিক্সের খপ্পরে পড়ে বিদায়ী বছরের গড় হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ২ জন করে মারা গেছে। ’১৪ সালের শুরুতেই স্কুলছাত্রী লক্ষী রাণী খুনের মধ্যে দিয়ে এ যাত্রা শুরু হয়। পরে একের পর এক ৩ মার্চ সিদ্ধিগ্রামের ময়েন উদ্দিন, ১০ মার্চ জুলিয়া, ১৭ মার্চ বিউটি, ৩০ মার্চ আজাদ, ১০ এপ্রিল জিহাদ, ১৪ এপিল আয়ুব হোসেন, ১৬ মে বিশারত আলী, ১ জুলাই লিটন, ৪ জুলাই সুজন, ৮ জুলাই ফারুক, ২৮ জুলাই মনিরুল ও একই দিনে রানা, ৯ আগষ্ট আবু সাইদ মন্ডল, ৩১ আগষ্ট তুহিন, ৭ সেপ্টেম্বর আলাউদ্দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর সাজু বেগম, ২ অক্টোবর ইকাবাল হোসেন শিকদার, ৭ অক্টোবর আলীম সর্দার, ১০ অক্টোর মনছের আলী, ১০ নভেম্বর গোয়ালবাড়ী মাঠে অজ্ঞাত ব্যক্তি ও সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর শৈলকুপার শেখরা গোপালপুর গ্রামে আব্দুল কুদ্দুসকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও পারিবারিক কলহে আত্মহত্যাসহ বেশকিছু অজ্ঞাত খুনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যা। তবে সবচেয়ে আলোচিত পৌরসভার সিনেমাহল এলাকার পরকীয়ার জের ধরে ফারুক হত্যাকান্ড, সিদ্ধিগ্রামের ময়েন উদ্দিন, বাগুটিয়ার সাজু বেগম, রতœাট গ্রামের আলীম সর্দার ও মনছেরসহ আব্দুল কুদ্দুস হত্যা। এসব হত্যাকান্ডের কোন ক্লু খুঁজে বের করার চেষ্টাতো দূরে থাক তদন্তের নামে শুধুই চলছে পুলিশি বাণিজ্য।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ ছগির মিঞা এর আগে ০৪-০২-২০১১ তারিখ থেকে ০৪-০৯-২০১১ পর্যন্ত ৭ মাসে কয়েকটি হত্যাকান্ড হয়েছিল। তার মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে শৈলকুপা শহরের চৌরাস্তায় কাজীপাড়া’র আব্দুর রশিদ হত্যাকান্ড বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে আলোচিত খুন ছিল। যা শুধুমাত্র প্রশাসনের দূর্বলতাকে পুঁজি করে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে সংঘটিত হয়। শৈলকুপার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একজন অযোগ্য ওসি হিসাবে বিবেচিত হয়ে তাকে তাৎক্ষনিক পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। ১৪-০৮-২০১৪ সালে পুন: ছগির মিঞা অত্র থানায় যোগদানের পর থেকেই শুরু হয়েছে পাল্টা-পাল্টি দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হামলা-মামলা সংষর্ঘ লুটপাট ও একাধিক খুনের ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে ৮ খুনের ঘটনায় পিড়াগাতী, আলফাপুর, রতœাট-বগুড়া, হাটফাজিলপুর, রতনপুর, শেখরা-গোপালপুর আওয়ামীলীগের দুইগ্র“পের সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বিবাদমান কলহ সৃষ্টির নেপথ্য নায়ক হিসাবে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ ছগির মিঞা’র ইন্ধন রয়েছে। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে পৃথক মেলামেশা করে মারামারীর পলিসি মেকিং করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে কাল বিলম্ব করে হামলা-মামলার পন্থা বাতলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দিনে সংঘর্ষ আর রাতে মামলা বাণিজ্য চরমে তুলে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করেই ক্ষ্যান্ত হননি বরং আসামী না পেলে সাধারণ পথচারী ধরে নিয়ে এসে ৫৪ ধারায় মামলা মিটিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেন।
যদি কেউ মোটা অংকের টাকা না দেয় সেক্ষেত্রে ৫৪ ধারার সাথে চলে যায় সরকার দলীয় রাজনৈতিক কিংবা পুলিশ এ্যাসল্টসহ গাড়ি পোড়ানো মামলা। সস্তা দরের বহু মামলার আসামী থেকে বাঁচতে শৈলকুপা সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে অসহায়। অন্যদিকে মোটর সাইকেল আটক, জুয়াবোর্ড আর মাদকের আড্ডায় অভিযোগ না চালানোর চুক্তিতে মাসিক মাসোহারা আদায় করেন নিয়মিত। শৈলকুপা উপজেলা জুড়ে রাজনীতির মাঠে ওসি ছগির মিঞা হাত এখন তেলেসমাতি কারবারের মত কাজ করে। তিনি উর্ধতন অফিসারদের খরচ দিতে হয় বলে দেদারছে গ্রেফতারী বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি লম্বা ওয়ারেন্ট আসামীর তালিকা, ফাইল আটকে রেখে আসামীদের বাড়ি থেকে মাসিক টাকা আদায় করেন নিয়মিত।ওসি ছগির মিঞা’র অর্থলিপ্সু ব্যবহারে শৈলকুপার সাধারন মানুষ এখন থানায় যাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছেন। দিনের পর দিন শৈলকুপার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হচ্ছে তাতে ক্রমেই প্রশাসনের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের দাবি শৈলকুপা থানা থেকে ওসি ছগির মিঞাকে বদলী করে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি এবং ওসি’র নীরব অর্থবাণিজ্য থেকে ৪ লাখ মানুষের উপজেলা থেকে সহিংসতা নির্মূল করা হোক।এব্যাপারে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ ছগির মিঞা অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু রাজনীতিবিদ তাকে শৈলকুপা থেকে তাড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, তাছাড়া তিনি ক্লিন ইমেজের অধিকারী বলে দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email