সংকটের সমাধান না হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে: ড. আকবর আলী

0
227

Dr. Akbor Ali Khan
ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান বলেছেন, বর্তমান দুই রাজনৈতিক জোটের যে অবস্থা তাতে কোনো সমাধান হবে বলে মনে হয় না। যদি তারা সংকটের সমাধান না করে তবে তার পরিণাম আরো ভয়াবহ হবে।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘নাগরিক ঐক্য প্রক্রিয়া’ আয়োজিত ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক গোলটেবিলি আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
তবে আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটা এখনই বলতে পারছি না। তবে আমি আশাবাদী, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছে তারা পথহারা হবে না।
দেশের সংকট সমাধানে সুশীল সমাজেরও করণীয় রয়েছে। কিন্তু তারা কিছু করছে না। এখন তারা না করলেও আমাদের কিছু একটা করতে হবে।
তিনি বলেন, সুশীল সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে কিছু একটা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতির যে অবস্থা তাতে তারা কিছু করতেও পারবে না।
তৃণমূল থেকে সংলাপের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে উল্লেখ করে আকবর আলী খান বলেন, কিছুদিন আগে দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছিলাম আপনারা সংলাপ করেন আর না করেন অন্তত একটা কাজ করেন। এক সপ্তাহ একে অপরকে গালিগালাজ করা থেকে মুক্ত থাকুন। যদি এই গালিগালাজ বন্ধ হয় তবে তাদেরকে সংলাপে রাজি করানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যেটা চলছে সেটা আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তাদের জন্য শুধু মানসিক যন্ত্রণাই না, এটা শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও অনেক ভয়াবহ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমি গ্রামের কয়েকটি স্কুলে গিয়েছি। সেখানে মহিলারা বলেছেন, আমাদের হাতেও ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতায় এত শক্তিশালী যে কোনো সরকারকে অনেক নিচে নিয়ে নামিয়ে দিতে পারে। আমরা সুযোগের অপেক্ষায় আছি, সময় মত সব দেখিয়ে দেব।
তিনি আরো বলেন, যে কৃষক তার পণ্য বিক্রি করতে পারছে না, সে বোঝে তার জ্বালা। আজ উপায় খোঁজার তাগিদে আমরা এখানে এক হয়েছি।মানুষ বিভাজন চায় না, শান্তি চায়। দলগুলো শান্তিকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। তাদের এই হীন কাজ বিবাদ, বিদ্বেষ থেকে এখন প্রতিহিংসায় গিয়ে পৌঁছেছে।
তিনি আরো বলেন, সহিংসতা সবসময় হয়েছে। সহিংসতা কখনো সহিংসতা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় না।
এই ইলেক্ট্রনিকের এই যুগে কোনো খবর গোপন রাখা য়ায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এটা দেখে আমাদের সন্তানেরা কি ভাবছে। রাজনীতিবিদরা নতুন প্রজন্মকে কী শিখাচ্ছে?
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কোনোদিন, কোনোকালেই শান্তিপূর্ণ ছিল না। এটা ছিল সবসময় ঝগড়া বিবাদের দেশ।কিন্তু ইতিহাসই বলে দেয় বাংলাদেশের সংকট সবসময়ই সমাধান হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি বাংলাদেশে রাজনীতি বলে কিছু দেখছি না।
তিনি বলেন, রাজনীতিকদের বড় গুণের মধ্যে একটি হল সুবচন। তার বিন্দুমাত্র এদের মধ্যে নেই। আমাদের রাজনীতিকরা সুবচন থেকে মুক্ত এবং কুবচনের সঙ্গে যুক্ত। এটা কে রাজনীতি বলা যায় না।
বদিউল আলম মজুমদার, আমার মনে হয় মৃত্যুর মিছিল চলছে। আজ সকালেও বরিশালে কয়েকজন মারা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব অপরাধে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সহিংসতা দমন করতে যে সহিংস ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এটা কখনো সমাধান বয়ে আনবে না।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। আইচবার্গের কথা চিন্তা করতে হবে। বরফে ধাক্কা লেগে টাইটানিক ডুবে গিয়েছিল। ঠিক তেমনই আমাদের দেশের সমস্যা হল আইসবার্গের মত। বর্তমান সংকটের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সমস্যা। এটা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। এটা সহিংসভাবে সমাধান হবে না।
এক্ষেত্রে আমাদের অভিভাবক রাষ্ট্রপতিকে এগিয়ে আসতে হবে।তার হাতে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি আছে।এটার প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে।
এসময় তিনি বলেন, ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি সংলাপ আহ্বান করা দরকার। এখানে থাকবে নির্বাচনকালীন কি ধরণের সরকার হবে।
তিনি বলেন, আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছি না। এটা হবে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কালীন সরকার। যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এরপর নির্বাচন কালীন সরকারে জন্য আইনকানুনের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া, নির্বাচনের পরে যারাই ক্ষমতায় আসবে তাদের কিছু বিষয় সমাধান করতে হবে। সংবিধানের যেখানে অসংগতি আছে সেখানে পরিবর্তন করতে হবে।
আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, প্রযুক্তিবিদ হাবিবুল্লাহ করিম, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email