সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয় নি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার

0
127

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় নি।  অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তার ১৮ দলীয়  রাজনৈতিক জোট নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৬টিতে। এর বেশির ভাগ হামলা করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর  সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  ব্যক্তি বা গ্রুপ। ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পুলিশ, জাতীয় সংসদের কিছু সদস্য সহ রাজনৈতিক নেতারা। সব সম্প্রদায় এতে আক্রান্ত হলেও হিন্দুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এমনটা করা হয় অনেক সময়। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ অভিযোগ করে আসছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিসহ সরকারের কিছু সাফল্য থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এমন ভাষা ব্যবহার করে। এতে ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে তাকে উস্কে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার  কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ বা ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, নির্বাচনের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে সংখ্যালঘু  অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শত শত হিন্দু তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ২৩৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সহিংসতার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু যে রিপোর্ট বেরিয়ে এসেছে তাতে দেখা যায় সরকার আক্রান্ত এলাকায় যেসব পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের পাঠিয়েছে তারা সেখানে সহিংসতা বন্ধ করতে পারে নি। এমনকি কিছু এলাকায় তারা নিজেরাই সহিংসতায় অংশ নিয়েছে। দেশের ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই সুন্নি মুসলিম। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯.৫ ভাগ হলো হিন্দু। বাকি শতকরা এক ভাগেরও কম রয়েছে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সহ অন্য ধর্মের মানুষ। ইউনাইটেড স্টেট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে তাদের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করেন। রিপোর্টিংকালে ঢাকার রাজপথে আলাদাভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় দু’জন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারকে। তার একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিনি অভিজিৎ রায়। তাকে এ বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রীকে করা হয় মারাত্মক আহত। এ বছরের মার্চের শুরুতে এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে একজনকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৩০শে মার্চ ওয়াশিকুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রিপোর্টিংকালে তিনজন নাস্তিককে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত যুদ্ধাপরাধ আদালত নিয়ে ব্লগ প্রকাশের পর তাদেরকে গ্রেপ্তার করে অভিযোগ গঠন করা হয় যে, তারা  ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত দিয়েছেন। বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি সরকারকে ৮৪ জনের একটি তালিকা দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার বিষয় তদন্ত করতে হবে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ভেস্টেট প্রপার্টি রিটার্ন অ্যাক্ট করা হয় যাতে ১৯৭১ সালে বা তার পরে যেসব হিন্দুর জমি বা সম্পত্তি কেড়ে নেয়া হয়েছিল তা ফেরত দিতে হবে অথবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে হিন্দু সম্প্রদায় ও  কিছু এনজিও অভিযোগ করে যে, এই আইন এতটাই সংকীর্ণ যে, এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া অসুবিধাজনক ও দীর্ঘমেয়াদি। সামান্য মাত্রায় এসব সম্প্রতি ফেরত দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email