সপ্তম কাউন্সিল: বিএনপির লক্ষ্য নেতাকর্মীদের হতাশার বৃত্ত থেকে বের করে আনার চেষ্টা

0
510

মঈন উদ্দিন খান:সপ্তম কাউন্সিল সামনে রেখে সাংগঠনিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএনপি। সব ঠিক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাউন্সিল করতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অঙ্গ সংগঠনগুলোও পাচ্ছে নতুন নেতৃত্ব।

দলটির নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, দ্রুত সময়ে দল গুছিয়ে কাউন্সিল করা হবে। এরপর নতুন নির্বাচনের এক দফা দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করে তারা মাঠে নামবেন।
বিএনপি আপাতত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে। বিভাগীয় কমিটি করে বন্যার্তদের ত্রাণ দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। দলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও আগের চাইতে হাইকমান্ডের তাগাদা বেড়েছে। নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় দলটি একটি কমিটি গঠন করেছে। যারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। জানা গেছে, নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির ঈদে দলটির নেতারা বিশেষ করে বিগত নির্বাচনে এমপি প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যু এখন বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবিতেও ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের হতাশার বৃত্ত থেকে বের করে আনতে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু হয়েছে।

বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ইতোমধ্যে বিএনপির সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি হাইকমান্ডকে যেমন আশান্বিত করেছে, তেমনি তৃণমূলেও সাড়া ফেলেছে। মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা হতাশা ভুলে সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ দিতে শুরু করেছেন।
দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, শিগগিরই অন্য বিভাগগুলোতেও সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশ শেষ হওয়ার পরে বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচির ধরণ হবে নির্বাচনমুখী। তার আগে দলকে একটি মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা নতুন বছরের শুরুতে জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনে এগুতে চায় বিএনপি। জানা গেছে, দলটির হাইকমান্ড আগামী কাউন্সিল খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই করতে চান। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে তার মুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তাতে সেটি সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে নেতারা বেশ চিন্তিত।

এ দিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নানামুখী তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি দল গুছিয়ে দ্রুত কাউন্সিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তম কাউন্সিলই বিএনপির আপাত লক্ষ্য।

জানা গেছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা আছে কি-না তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের জায়গা করে দিতে, বেছে বেছে খসড়া তালিকাও করা হচ্ছে। পদপ্রত্যাশী নেতারাও তাদের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন। সেই অনুযায়ী সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তৎপরতা আগের চাইতে বাড়িয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা চলছে।

সূত্রমতে, জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০টির মতো জেলায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। যেসব জেলায় কোন্দল রয়েছে সেগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে। কাউন্সিলের আগে মূল দলের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে আগামী ১৪ সেপ্টম্বর।

বিএনপির কাউন্সিল ভাবনা প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে বলেন, কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে সংগঠন গোছানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মী-সমর্থকদের মাঝে পুরনায় স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে চাই। যাতে তারা আগের মতো সাংগঠনিক উদ্যোম ফিরে পায়।

[সূত্র: নয়াদিগন্ত]

Print Friendly, PDF & Email