সরকারই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছে: ২০ দল

0
155

20 Dol
ঢাকা: নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ করে প্রকারান্তরে সরকার অগণতান্ত্রিক শক্তিকেই আহ্বান জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। বলেছেন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বন্দুকের নলেই রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান খুঁজছে। কম গণতন্ত্র, উন্নয়ন বেশি এবং আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র ইত্যাদি আইয়ুব খান মডেলের চর্চায় দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন দু’টোই অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নত গণতন্ত্রই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সুবিধাবাদী, সর্ববিনাশী, একনায়কত্ববাদী আওয়ামী রাজনীতির অপচর্চা জাতির ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করতেই জঙ্গিবাদের জুজুর ভয় দেখাচ্ছে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলকে। দেশে জঙ্গিবাদের কৃত্রিম জন্মদাতাই আওয়ামী লীগ। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার কুমানসে আওয়ামী লীগ এখন প্রতিদিনই জঙ্গিবাদের ‘টেস্টটিউব বেবি’র জন্ম দিচ্ছে। তিনি বলেন, গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পিয়ারুল ইসলামের বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইদিন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের বাড়ি থেকেও পেট্রল বোমা ও ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। জনগণ জানে এবং বোঝে-দেশব্যাপী সকল পেট্রল বোমা ও নাশকতার সকল নাটকই সরকার পরিচালিত ও প্রযোজিত। বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত রোববার রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে মিঠাপুকুরে নিয়ে পুলিশ ক্রসফায়ারে হত্যা করে জামায়াত নেতা শাহ নাজমুল হুদা লাবলুকে। আমরা এই জঘন্য হত্যাকা ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই সময়ের পরিবর্তনে উপযুক্ত আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সরকারি বাহিনীর জুলুম-নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বেশির ভাগ তথ্যই দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের অজানা থেকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, গণগ্রেপ্তার, জুলুম নির্যাতন, মামলা-হামলা চালিয়ে সরকার প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাদার বাহিনীর মতো অধিকৃত অঞ্চলে পরিণত করেছে। দেশের জনগণকে এই জুলুম নির্যাতনের আওয়ামী বন্দিশালা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই চলমান গণআন্দোলন বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email