সাবেক সাংসদকে শিক্ষামন্ত্রীর কলেজ উপহার

0
180

সিলেট: সাবেক সাংসদকে অভিনন্দন জানানোর পর এবার কলেজ উপহার দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সংসদীয় আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত স্বতন্ত্র দলীয় সাবেক সাংসদ ও প্রতিদ্বন্দ্বি শিক্ষানুরাগী ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের নিজ নামে গড়া একটি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করেন স্থানীয় বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। মন্ত্রী’র এই উদার কর্মকান্ড স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সৈয়দ মকবুল হোসেনও মন্ত্রীর এ উদারতায় উচ্ছ্বসিত হয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৮০ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নে নিজ নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে বেশ প্রশংসা কুঁড়ায়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে কলেজে উন্নীত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে অনেকটা সংকোচিত ছিলেন। কারণ বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সৈয়দ মকবুল হোসেন। প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনীতিকের কাছে নিজের বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব কি করে দেবেন, বা দিলেও কথা রাখেন কি-না সেই সংশয় ছিল তার মধ্যে। তবে বিদ্যালয়ের স্বার্থে সংকোচ ভেঙে তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তরিত করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে টেলিফোন করে অনুরোধ করেন তিনি। মন্ত্রীও তার অনুরোধে সাড়া দেন। ফলে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর মন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ‘ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়’ হয়ে ওঠে ‘ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’। এক সময়কার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিকে মন্ত্রীর এ উপহার সর্বমহলে তার শিক্ষাপ্রীতি ও উদার মানসিকতায় প্রশংসা কুঁড়ায়। শুধু তাই নয়, শিক্ষামন্ত্রী নিজে সম্প্রতি এ বিদ্যালয়টির কলেজ শাখার উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি সাবেক সাংসদ ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনকে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে মকবুল হোসেনের নানা অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ বিদ্যালয় ও কলেজে কলেজ শাখার জন্য ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণেরও ঘোষনা দেন।

শিক্ষামন্ত্রীকে মূল্যায়ন করে ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন সৎ ও কর্মঠ রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো সমালোচনা ও অভিযোগ নেই। তিনি একজন দ ব্যক্তি। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে জনগণের কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। এ ধরণের ব্যক্তিই জনগণের প্রতিনিধি হওয়া উচিত। এতে করে জনগণই সুফল পাবে এবং উপকৃত হবে। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করায় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email