সিলেটে পীরকে চাঁদা না দেওয়ায় ৮ নারী-পুরুষকে কুপিয়ে জখম

0
286

সিলেট: সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক ভন্ডপীরকে চাঁদা না দেওয়ায় তার ভক্তরা একটি গ্রামের দুইটি পরিবারের ওপর দুই দফা হামলা চালায়। এসম তারা ওই পরিবারের ৮ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ ঢালারপাড় গ্রামের শরিয়ত উল্লাহ (২৪), তার পিতা রহিম উদ্দিন (৬০), মাতা নুর জাহান (৫০) ও বোন আছিয়া (১৬), ইসমাইল মিয়া (৩০) ও একই গ্রামের সামছু মিয়াকে (২৫)পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ‘পীর বাবা’র লোকজন। চিৎকার শুনে ইসমাইল মিয়ার বৃদ্ধা মা আলেকজান বিবি (৬০) ছুটে গেলে তাকেও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়।

এ সময় তারা নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ‘পির বাবা’ ওসমানকে প্রধান আসামি ও তার ভক্ত ৩৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলা করেছেন শরিয়ত উল্লাহ।
জানাগেছে, ওসমান ‘পাগলা’ নামের কথিত এই ভ- পীর দীর্ঘদিন ধরে সরলমনা মানুষদের ঠকিয়েই যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনা। করলে নেমে আসে নির্যাতন অথবা মৃত্যুর হুমকি। ওসমান ‘পাগলা’ গাঁজা খায়। গান গায়। তাবিজ কবজ বিক্রি করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ওরস শরীফ ও দরবার তৈরির নামে বড় অংকের টাকা কথিত ভক্তদের কাছ থেকে বিভিন্ন কায়দায় হাতিয়ে নেন। নিজেকে ‘আধ্যাত্মিক পির’ দাবি করে সাধারণ লোকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তার কথা না শুনলে ভক্তদের লেলিয়ে পটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। এখানকার সাধারণ মানুষদের কাছে ‘পীর বাবা’ এক আতঙ্কের নাম।
শরিয়ত উল্লাহ সরল বিশ্বাসে প্রতিবছর ‘পীর বাবাকে’ একটি ছাগল, এক বস্তা চাল ও রান্না করার উপকরণ দিয়ে থাকেন। কয়েক বছর দেয়ার পর আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে এখন আর দিতে পারেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভক্তদের মাধ্যমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই ‘পীর বাবা’। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
পরে গত ১ ডিসেম্বর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালায় পীরের ভক্ত দাবিদার সন্ত্রাসীরা।
অপরদিকে, দক্ষিণ ঢালারপাড় গ্রামের বিলাল মিয়া নামের একজনকে ‘পীর বাবার’ মুরিদ হতে বলে কয়েকজন ভক্ত। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। গত ২২ নভেম্বর রাতে মোস্তফা নগর গ্রামের বিলাল মিয়াকে লোকালয়ে নিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে প্রাণে বাঁচান।  এ ঘটনায় পীরের ভক্ত দাবিদার ও মোস্তফানগরের ইয়া ছালামকে (৩৩)প্রধান আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বিল্লাল।
এরপরও ইসমাইল মিয়ার বসতঘরে প্রবেশ করে লুটপাট চালিয়ে পৌনে তিন লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয় ওই পীরের মুরিদানরা।

এ ঘটনায়ও ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে ‘পীর বাবা’র ভক্ত ও দক্ষিণ ঢালারপাড় গ্রামের শেরে বাংলাকে (৪০) প্রধান আসামি করে কোম্পানিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েছ আলম জানান, ঢালারপাড়ের এ ঘটনায় দুইটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। হানিফ (৩৫) নামের একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email