সিলেট ছাত্রদলের বেহাল দশা, আন্দোলনে রাখছে না কোন ভুমিকা

0
401

logo chatri dol 01
এম তানজিল হাসান: সিলেট নগর ছাত্রদল পড়েছে, দেখা দিয়েছে অস্তিত্ব সংকটের আশংকা। গ্রুপিং আর পদ নিয়ে মারামারি করেই কাটছে নেতা-কর্মীদের সময় অথচ নির্বাচনের দাবিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন সংগ্রামে একেবারেই নীরব ভুমিকা রাখছে তারা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন কমিটি ঘোষনা করা হলে ছাত্রদলের ঘুমিয়ে থাকা নেতারা জেগে উঠেন, শুরু হয়ে অর্ন্ত:কোন্দল। নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আতংক ছড়ায় সিলেটে, মুর্হুমুহু ককটেল বর্ষন সহ একের পর এক মিছিল সমাবেশ করে পদবঞ্চিত এবং নতুন কমিটির নেতা কর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় ও থামেনি কোন্দল বরং মারাত্নক গ্রুপিং ছড়িয়ে পড়েছিল দলে।
বিএনপি ঘোষিত ৫ই জানুয়ারীর কর্মসুচীর পুর্ব পর্যন্ত মাঠে সরব থাকলেও সরকার বিরুধী কর্মসুচী ঘোষনায় চুপসে যায় সিলেট মহানগর ও জেলা ছাত্রদল। মিছিল মিটিং কিছুই করতে দেখা যাচ্ছে না তাদের,অবরোধ- হরতালের সমর্থনে ঝটিকা দু- একটি মিছিল করেই দায় সারছেন নতুন কমিটির নেতারা।এতদিন যারা পদের লোভে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব
নিয়ে মাঠে ছিলেন সেই পদবঞ্চিতদের দেখা মিলছে না রাজপথে। দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষনা করে ছাত্রদলকে সক্রিয়
হওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। কিন্তু তারেকের নির্দেশ কর্ণপাত করেননি ছাত্রদল নেতারা। বিগত আন্দোলনে মাঠে দেখা না গেলেও পদের লোভে মাঠে নামেন আগের কমিটির নেতারা। সাবেক সভাপতি সাফেক মাহবুবের নেতৃত্বাধীন সেই আন্দোলন দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন বিএনপি নেতারা ।এতদিন রাজপথে দেখা না গেলেও কমিটিতে স্থান পাওয়ার
লোভে ছাত্রদলের এই বেপোয়ারা কর্মকান্ডে জোটভুক্ত অন্য দলগুলো হতাশ হয়, বিএনপিকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান জোটের প্রভাবশালী নেতারা। ছাত্রদল নিজেরা মারামারি করেই ক্ষ্রান্ত হয়নি বরং জেল খাটিয়েছে নতুন কমিটির সভাপতি এডভোকেট সাঈদ আহমদ সহ অন্যদের। সেক্রেটারী লোকমান আহমেদকে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে পদবঞ্চিতরা। এসব বিষয় বিএনপি চেয়ারপার্সনের কানে গেলে তিনি কঠোর হুশিয়ারী দেন পদবঞ্চিতদের। আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সিটি মেয়র আরিফকে ছাত্রদল দেখভালের দায়িত্ব দেন কিন্তু তিনিও যোগ দেন বিদ্রোহীদের দলে। তার কার্যালয় ব্যবহারের জন্য সাবেক কমিটির নেতাদেরকে তিনি ওপেন অনুমতি দেন যা সিলেটের সুধীজন ভালো চোখে দেখেননি।
এমনকি মেয়র আরিফ “শিবির হঠাও, ছাত্রদল বাঁচাও” শিরোনামে ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়ে ঝড় তোলেন
স্থানীয় রাজনীতিতে। তার এই কার্যকলাপে ক্ষুব্দ হয় জামায়াত-শিবির। মেয়র আরিফের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জোটভুক্ত সকল দল, এহেন অবস্থায় আরিফ কিছুটা দুরে সরে যান বিদ্রোহীদের কাছ থেকে। আরিফের দুরে সরে যাওয়া এবং পরবর্তীতে জেলে বন্দী হওয়ার পরেই বিদ্রোহীদের আন্দোলন অচল হয়ে পড়ে। বর্তমান কমিটিও পারছে না আন্দোলন সংগ্রামে কার্যকর ভুমিকা রাখতে,কমিটির সদস্যদের পদলোভ ও গা বাঁচিয়ে চলার নীতি এ ক্ষেত্রে দায়ী বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সক্রিয় ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন।
এভাবে ছাত্রদল চললে আন্দোলনের কি হবে সেটা জানতে চাওয়া হলে নগর ছাত্রদল সেক্রেটারী লোকমান বলেন, ছাত্রদল তার জড়তা কাটিয়ে উঠেছে শীঘ্রই মাঠে তার প্রমাণ হবে। সিলেট জেলা ছাত্রদল সভাপতির সাথে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ২০ দলীয় জোটের সিলেট মহানগর নেতারা বলেন যেভাবে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবির রাজপথে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখছে ঠিক সেরকম ভুমিকা ছাত্রদল রাখতে পারলেই সরকার পতন অতি দ্রুত হবে। তারা বিএনপিকে ছাত্রদল সক্রিয় করার পরামর্শ দেন।

Print Friendly, PDF & Email