সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু-গোলাপগঞ্জের চন্দরপুর সেতুসহ ৯টি সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
379
ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক: ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার ছয়টি মূল সেতুসহ মোট নয়টি সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এসব সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাদারীপুর (মোস্তফাপুর)- শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর নির্মিত ৭ম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতুসহ (আচমত আলী খান সেতু) আরো তিনটি সেতু, গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ-চন্দরপুর-বিয়ানীবাজার সড়কে চন্দরপুর সেতু, চকোরিয়া-বদরখালী সড়কে নির্মিত বাটাখালী সেতু, গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বড়দহ সেতু, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে নির্মিত শেখ রাসেল সেতু এবং সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর উপর নির্মিত আব্দুজ জহুর সেতু।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত এসব সেতু মানুষের যাতায়তকে সহজ করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে এ সময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেতু মন্ত্রণালয় জানায়, আচমত আলী খান সেতুর মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যার মধ্যে চীন সরকার দেয় ২০০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ব্যয় ৯৪ কোটি ১২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ সরকারের ৩০৬.৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নেটওয়ার্কে অর্ন্তভুক্ত সেতুগুলোর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ-সুনামপুর-চন্দরপুর-বিয়ানীবাজার সড়কে কুশিয়ারা নদীর উপর মোট ২৪.৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪৯.৩৭ মিটার দীর্ঘ চন্দরপুর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

আর চকোরিয়া-বদরখালী সড়কে মাতামুহুরী নদীর উপর ৩০৬.৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭০.৭৮ মিটার বাটাখালী সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ২৫৩.৫৬ মিটার দীর্ঘ বড়দহ সেতুটির অনুমোদিত ডিপিপি ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২২৬.৭৯৯ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়ন ব্যয় ১৫৮৫.৬৮ ছিল লাখ টাকা।

১৯৯৭ সালের ২৯ জানুয়ারি বড়দহ সেতুর প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়, এরপর ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দ্বিতীয় পর্যায় কাজ শুরু হয় এবং ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর ফের কাজ শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ২৮ মে শেষ হয়।

বাংলাদেশ সরকার ও জেডিসিএফ’র অর্থায়নে শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের মহিপুর ও আলীপুরের মধ্যবর্তী খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর ২৪.৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০৮.৩৬ মিটার দীর্ঘ নির্মিত শেখ রাসেল সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার ও জেডিসিএফ’র অর্থায়নে সুনামগঞ্জ-কাঁচিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৭১.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০২.৬১ মিটার আব্দুজ জহুর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email