সুনামগঞ্জ থেকে তিন শিশু অপহরণ: জাউয়াবাজারে উদ্ধার

0
226

নাইম তালুকদার: সুনামগঞ্জ শহরের ইলেকট্রি সাপ্লাই মোড় থেকে একই পরিবারের তিন শিশু শিক্ষার্থী অপহরণের পৌনে তিন ঘণ্টার মধ্যে জাউয়াবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। অপহরণকারীরা পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি জানতে পেরে জাউয়াবাজারের অদূরে তাদের ফেলে রেখে যায়। রাত পৌনে ৯টায় জাউয়াবাজার পুলিশ ক্যাম্পে তাদের হেফাজতে রাখা হয়।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং অপহৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় বড়পাড়া এলাকার ওবায়েদ মিয়ার মদনিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পড়–য়া ছেলে ইমন, মৃত মকদস আলীর চতুর্থ শ্রেণি পড়–য়া ছেলে আকাশ, এরশাদ মিয়ার পঞ্চম শেণি পড়–য়া ছেলে রানাসহ ৫ শিশু লম্বহাটি পয়েন্টে বাজার করতে যায়। ফেরার পথে তারা অপহরণকারীদের কবলে পড়ে। এসময় সজিব ও শাওন নামের দুই সঙ্গী তাদের পিছনে ছিল। হঠাৎ কালো গাড়ি থেকে মুখোশ পরা ৫ যুবক হাতে চেতনা নাশক স্প্রে ছিটিয়ে দ্রুত তাদেরকে গাড়িতে তোলে সিলেট অভিমুখে রওয়ানা করে। এসময় পিছনের দুই শিশু চিৎকার করলে এলাকার মানুষ গাড়িতে ধাওয়া করে। তবে দ্রুত বেগে গাড়িটি পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনস্থলে এসে অভিযানে নামে। পুলিশ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে একাধিক চেকপোস্ট বসায়।

পুলিশ জানায়, এই খবর পেয়ে হয়তো অপহরণকারীরা শিশুদের জাউয়াবাজারের অদূরে রেখে পালিয়ে যায়। শিশুরা জাউয়াবাজার গিয়ে ঘটনা খুলে বললে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ রাত পৌনে ৯টায় তিন শিশুকে তাদের হেফাজতে নেয়। জানা গেছে, এই তিন শিশু একই পরিবারের। তাদের হঠাৎ অপহরণ বিষয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে চারদিকে বার্তা পাঠায় যাতে শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা যায়। ধারণা করা হচ্ছে পুলিশের তৎপরতার খবর অবগত হয়েই অপহরণকারীরা তাদের ছেড়ে দিয়ে নিজেরা পালিয়ে গেছে। তবে একই পরিবারের তিনজনের একসঙ্গে অপহরণের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা গিয়েছে পুলিশের মনে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, তিন শিশু সন্ধ্যায় অপহরণের পর আমরা চারদিকে বার্তা পাঠিয়েছিলাম যাতে তাদের উদ্ধার করা যায়। অবশেষে রাত পৌনে ৯টায় জাউয়াবাজার এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email