হত্যালীলা বন্ধ করুন, ভয়াবহ পরিণতি হবে: ২০ দল

0
256

20 Dol
ঢাকা: হানাহানি ও দমন-পীড়নের পথ ছেড়ে সমঝোতার লক্ষে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আহবান জানিয়েছে ২০ দল। বুধবার জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের আন্দোলনে ক্ষমতা হারাবার ভয়ে ভীত স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও সন্ত্রাসীদেরকে ‘খুনের ছাড়পত্র’ দেয়া হয়েছে। কিন্তু হত্যালীলা বন্ধ না হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি, মতিঝিলে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বিচারবহির্ভূত বেআইনি হত্যাকান্ডের সর্বশেষ নিকৃষ্ট উদাহরণ। এর আগে নাটোরে ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন, সিংড়ায় ছাত্রদল কর্মী রায়হান আলী, রাজশাহীতে বিএনপি কর্মী মজিরউদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি কর্মী মন্তাজ আলী, নোয়াখালীর সেনবাগে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান রুবেল, বেগমগঞ্জে ছাত্রদল কর্মী মহসিনউদ্দীন, সোনাইমুড়িতে ছাত্রদল কর্মী মোরশেদ আলম পারভেজ এবং চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই ‘বীর শহীদ’দের প্রতি বিবৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
২০ দলের নেতারা বলেন, বিচার বহির্ভূত এই বর্বর হত্যালীলা বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার ও বেআইনি হত্যাকান্ড ঘটাবার কোনো অধিকার দেয়া হয়নি। প্রতিটি হত্যাকান্ডের জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী থাকতে হবে এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আগামীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। হত্যার সাথে জড়িতদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীর সদস্যকে নিরপেক্ষভাবে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শান্তিরক্ষার নামে দেখা মাত্র গুলি, বিচার ছাড়াই হত্যা এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের আইন হাতে তুলে নেয়ার উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এসব হানাদারি কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না করলে যদি পরিস্থিতির আরো নৈরাজ্যকর অবনতি ঘটে, তার দায়ভার পুরোপুরি হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরকেই বহন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email