Home বিভাগীয় সংবাদ হলে দখলবাজি: ছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটেছে ছাত্রলীগ

হলে দখলবাজি: ছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটেছে ছাত্রলীগ

518
0

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে তুলকালামের পর এবার রোকেয়া হলে কক্ষ দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। দুই দফা দখলচেষ্টা চালালেও সাধারণ ছাত্রীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ সময় তারা এক ছাত্রীকে মারধর করে।
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের পর কক্ষ দখলের তত্পরতা শুরু করে হল শাখা ছাত্রলীগ। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া ছাত্রীদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ কক্ষ দখলের চেষ্টা করে। সাধারণ ছাত্রীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেত্রীরা আবার কক্ষ দখলের চেষ্টা করলে সাধারণ ছাত্রীরা রুখে দাঁড়ায়। মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ সময় ছাত্রলীগ নেত্রীদের হামলায় এক ছাত্রী আহত হন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, হলটির বর্ধিত ভবনের ৩০ নম্বর কক্ষটি পাঁচজনের নামে বরাদ্দ হলেও বৃহস্পতিবার রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার তাঁর অনুসারীকে সেখানে উঠিয়ে দিয়ে বৈধদের কক্ষ ছেড়ে দিতে বলেন। এর আগেও মূল ভবনের ২, ৭, ১০, ২৩, ৩৮, ৩৯ নম্বর কক্ষ ও বর্ধিত ভবনের ২ ও ৫৩ নম্বর কক্ষ তিনি এভাবে দখল করে নেন। বৃহস্পতিবারের এই দখলচেষ্টা এবার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনাটি হলের আবাসিক শিক্ষকদের জানায় এবং বিক্ষোভ করে। পরে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলী ছাত্রীদের নিবৃত্ত করেন।
গতকাল দুুপুরের দিকে ছাত্রলীগ নেত্রীরা আবারও কক্ষ দখল করতে গেলে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনার সূত্র ধরে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলামের অনুসারীরা এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে হলে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। হল দখলচেষ্টার এ বিষয়কে সামনে রেখে তিন দফা দাবি নিয়ে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষ ও হাউস টিউটরদের সঙ্গে বৈঠক করে। শিক্ষার্থীদের দাবি হলো দখল করা কক্ষগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে, প্রতি মাসে হলের বিষয় নিয়ে সাধারণ সভা করা এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে হলের কক্ষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। তবে হল প্রাধ্যক্ষ কোনো সমাধান না দিয়ে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, হলে কক্ষ দখলের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে যারা আন্দোলন করছে তারা মূলত বাম ছাত্র সংগঠনের। এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, ‘যেসব কক্ষ দখলের অভিযোগ উঠেছে সেগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব। সার্বিক বিষয় নিয়ে আগামীকাল হাউস টিউটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসব। ’
(সূত্র: কালের কন্ঠ)

Previous articleবর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনষ্ঠিত হবে: হানিফ
Next articleজগন্নাথপুরে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী জুবের আহমদকে বন্ধু মহলের সংবর্ধনা প্রদান