হাইকোর্টের নিষেধ উপেক্ষা ! ছাতকের লাকেশ্বরে ষাড়েঁর লড়াই

0
273

Sarer mair
ডেস্ক রিপোর্ট: খেলার নামে মোরগ, ছাগল ও ষাঁড়ের লডাই ও কুকুর নিধন বন্ধে হাইকোর্ট-এর নির্দেশ উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জের ছাতক সহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবাধে চলছে ষাঁড়ের লড়াই। আজ ১৪ই মার্চ ছাতক উপজেলার লাকেশ্বর হায়দরপুরে প্রস্তুতি চলছে আরো একটি ষাঁড়ের লড়াইয়ের। আর সবকিছু চলছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই । হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে অনুষ্ঠিত এইসব লড়াইকে কেন্দ্র করে ষাঁড়ের মৃত্যু ছাড়াও সংঘর্ষ সহ ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে এইসব আয়োজনে প্রশাসনের ভুমিকায় বিস্মিত স্থানীয় এলাকাবাসী সহ সচেতন সমাজ। তারা এই লড়াই বন্ধের জন্য উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন। তবে গত শনিবার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ভান্ডা গ্রামে হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ষাঁড়ের লড়াই পন্ড করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এদিকে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের নিষেধ থাকায় আমরা ষাঁড়ের লড়াইটি বন্ধ করে দিয়েছি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ছাতকের আমিজানি গ্রামে এশটি ষাড়েঁর লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে আজ রোববার ছাতকের লাকেশ্বর হায়দরপুরে অনুষ্ঠিতব্য ষাড়েঁর লড়াইয়ের ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি মো: হারুন রশিদ বলেন, আমি ৫ ফেব্রুয়ারী ছাতক থানায় জয়েন্ট করেছি। ২৮ ফেব্রুয়ারী আমি ছাতকে ছিলাম না। মঙ্গলবার ছাতকের আনুজানিতে বন্ধ করে দিয়েছি। ১৪ মার্চও বন্ধ করা হবে।
এদিকে ষাঁড়ের লড়াইয়ের জন্য লিখিত কোন প্রচারনা না থাকলেও মোবাইল ফোন এবং অনলাইনে চালানো হচ্ছে প্রচারনা। দেখা যায়, (ঝুষযবঃ ঋরমযঃবৎ ইঁষষ) সহ বিভিন্ন ফেইসবুক আইডি থেকে ষাঁেড়র লড়াইর প্রতিযোগিতার স্থান ও সময় জানানো হচ্ছে। এইসব আইডিতে পোষ্ট হচ্ছে হাইকোর্ট কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সদ্য সমাপ্ত বিভিন্ন ষাঁড়ের লড়াইর ভিডিওচিত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের শেষের দিকে ছাতকের একটি ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে “অভয়ারন্য বাংলাদেশ এ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি” নামের একটি সংগঠন পশুর খেলার নামে ষাঁড়, মোরগ ও ছাগল লড়াই বন্ধে হাইকোর্টে একটি রীট আবেদন করেন। এই রীটের ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ছাতক সহ সারাদেশে এইসব লড়াই অবৈধ ঘোষনা করেন এবং তা কেন বন্ধ হবেনা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সাথে এব্যাপারে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। রিটে বলা হয়, এ ধরনের খেলা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, আইন ও দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার পরিপন্থি। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাদিয়া চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর আবারো বিভিন্ন স্থানে চলছে ষাঁড়ের লড়াই। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই চলছে হাইকোর্ট-এর নিষেধ উপেক্ষা করে ষাড়ের লড়াইয়ের মহোৎসব। বিভিন্ন স্থানে এই লড়াইয়ে ষাঁড়ের মৃত্যু সহ ঘটেছে সংঘর্ষের মত অপ্রীতিকর ঘটনাও।
জানা যায়, হাইকোর্টের নিষেধ উপেক্ষা করে গত ৭ই ফেব্রুয়ারী ছাতকের কচুরকান্দি, ২৮ ফেব্রুয়ারী ছাতকের লাকেশ্বর, ৩ মার্চ জগন্নাথপুর উপজেলার গোয়ালকুড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ষাঁড়ের লড়াই। এই লড়াইকে কেন্দ্র করে এইদিন গোয়ালকুড়িতে দুই ষাঁড়ের মালিকপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। যা বিভিন্ন স্থানী দৈনিকে প্রকাশিক হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ ১৪ মার্চ ছাতক উপজেলার লাকেশ্বর এর হায়দরপুরে চলছে আরেকটি ষাঁড়ের লড়াইয়ের। এই লড়াইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও যুবসমাজ এই লড়াই বন্ধ করতে আহ্বান জানালেও আয়োজকগন এতে পাত্তা দিচ্ছেন না বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য, আদিযুগ থেকেই দেশে বিভিন্ন প্রাণীদের মধ্যে ‘পশু লড়াই’ আয়োজন করা হয়। তবে এর মধ্যে প্রতি বছর সুনামগঞ্জের ছাতক সহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ষাঁড়ের মালিকরা ট্রাক ও পিকআপ-ভ্যান দিয়ে ষাঁড় নিয়ে যান এইসব স্থানে। লড়াইয়ে অবাধে চলে জুয়ার আসর। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক ষাঁড় এ অংশ নেয়। তবে এসব প্রতিযোগিতা প্রাণী নিধনের অন্যতম কারণ হওয়ায় হাইকোর্ট তার আদেশের মাধ্যমে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

Print Friendly, PDF & Email