৩রা নভেম্বর ও জানা-অজানা কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

0
463

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: আজ ৩ নভেম্বর, জেল হত্যা তথা জাতীয় চার নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু দিবস।১৯৭৫ থেকে ২০১৫, এই দীর্ঘ চার দশকে নদীর জল অনেক দূর গড়িয়েছে।দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা মাত্রা পেয়েছে।মিত্ররা শত্রুতে আর শত্রুরা মিত্রতে পরিণত হয়ে এক অভিনবত্ব কায়দায় দেশ শাসন চলছে।তবে ওই দিনের ঘটনাকে যে যেভাবেই ব্যাখা-বিশ্লেষণের চেষ্টা করুক না কেন, এটা জাতির জন্য যে একটি কলঙ্কজনক দিন এটা অস্বীকার কারো সাধ্য নেই।৭৫’র নভেম্বর আর আজকের নভেম্বর, মাঝে অনেক বছর, কিন্তু সেই নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক কাটেনি।আজও কারাগারে রাজনৈতিক নেতারা মরছে।কারাগারে-বাইরে সর্বত্রই মৃত্যুর আতঙ্ক মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নির্বিকার। ৪০ বছরে এ নিয়ে বিতর্ককের বহু ঢালপালা গজালেও নতুন প্রজন্মের প্রতি অবিচার করা কোনো মতেই সঠিক হবে না বলেই আমার আজকের নিবন্ধটি। তবে যে সময়টায় এই কলঙ্কজনক ঘটনাটি ঘটেছিল সেসময়টায় আওয়ামী ও বাম ধারার রাজনীতি ছাড়া দেশে অন্য কোনো রাজনীতির অস্তিত্ব ছিল বলে আমার জানা নেই।ফলে স্বাভাবিকভাবে এ ঘটনার দায় তাদের ঘাড়েই বর্তায়।প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে আওয়ামী লীগ কি নিজেরাই এমনটি ঘটিয়েছিল? না, বাম সংগঠনগুলো? আজকের নতুন প্রজন্মের আ’লীগার কিংবা বাম ঘরনার লোকদের কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করতে পারে।কিন্তু প্রবীণ নেতারা ভালভাবেই সেটা ওকেবহাল।এটাই বাস্তব সত্য যে, তখনকার কিছু আ’লীগারের বিশ্বাসঘাতকার ফসল ছিল ১৫ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর ও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ।আর এর প্রেক্ষাপট তৈরি করেন আজকের আওয়ামী লীগের পরম বন্ধু বাম রাজনৈতিক নেতারাই।যার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ স্বীকৃতি ও প্রবীণ আওয়ামী লীগারদের বক্তব্যেই।অবশ্য এর আগেই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল বাংলার মুক্তকামি গণমানুষের নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়েই। এর আগেও আমি ‘জাসদ বিতর্ক ও আদর্শচ্যুত রাজনীতি’, ‘সিরাজ সিকদার-কর্ণেল তাহেররা জীবিত থাকলে কষ্ট পেতেন’ এবং ‘জীবিত থাকলে অনেক কষ্ট পেতেন বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি শিরোনামে একাধিক নিবন্ধ লেখেছি।ওইসব নিবন্ধে আওয়ামী ও বাম ধারার রাজনীতির অতীত সম্পর্কে কিছু তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি।সেগুলাে এখানে পুনর্ব্যক্তে পাঠকের বিরক্তি ঘটাতে চাই না। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার সদ্য প্রকাশিত ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেন- ১৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ‘মেজরদের’ সঙ্গে লে. কর্নেল আবু তাহেরের যোগাযোগ ছিল। ১৫ই আগস্ট সকালেই তাহের ‘সফল বিপ্লবকে অভিনন্দন জানাতে’ ঢাকা বেতার কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। হাসানুল হক ইনুও সেখানে ছিলেন। তাহের অবশ্য পরে বলেছিলেন, মেজর রশিদের অনুরোধে তিনি বেতার কেন্দ্রে যান। ৩রা নভেম্বর বঙ্গভবনে প্রতিপক্ষ দুই গ্রুপের মধ্যে যখন আপস-আলোচনা চলছিল, তাহের সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১৫ আগস্টের নায়ক ‘মেজররা’ ঢাকা ছেড়ে ব্যাংককে যাওয়ার সময় ‘অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশেষ করে তাহের এবং গণবাহিনীর সঙ্গে উপযুক্ত সময়ে আরেকটি বিপ্লব ঘটানোর’ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। আগস্ট হত্যাকান্ডে জড়িত সবাই ব্যাংককে যাননি। কয়েকজন তাহেরের সঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন। তিনি আরও লিখেছেন, ৪ঠা নভেম্বর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে একটা শোক মিছিল বের করলে শহরে রটে যায় ‘আওয়ামী বাকশালীদের’ পক্ষে অভ্যুত্থান হয়েছে।৪ তারিখেই জানা যায়, আগের দিন ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সৈয়দ নজরুল ইসলাম. তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গভবনে দেনদরবারে ৪ঠা নভেম্বর খোন্দকার মোশতাক খালেদ মোশাররফকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সেনা প্রধান করেন। ৩রা নভেম্বর থেকে সেনানিবাসগুলোতে খালেদকে ‘ভারতের দালাল’ হিসেবে যারা প্রচার করেছিলেন তাদের মধ্যে প্রধান ভূমিকাও ছিল কর্নেল তাহেরের।এ সময় কর্নেল তাহের ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র মাধ্যমে সৈনিকদের বিদ্রোহ করার আহ্বান জানান।৫ই নভেম্বর রাতে গুলশানে আনোয়ার সিদ্দিকের বাসায় সৈনিক সংস্থার কয়েকজন নেতাকে একটি ছাপানো প্রচারপত্র দেয়া হয়। জাসদ, গণবাহিনীও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামে সেনানিবাসগুলোতে এই প্রচারপত্র বিলি করা হয় এবং ‘ভারতের দালাল ও বিশ্বাসঘাতক খালেদ মোশাররফ চক্র’কে উৎখাত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রসঙ্গটি আজ এ পর্যন্তই রাখলাম ৭ নভেম্বরের নিবন্ধে আরেকটু খোলাসা করা যাবে। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ১৫ আগস্ট আর ৩ নভেম্বরের ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিল আওয়ামী লীগেরই ভেতরকার কিছু বিশ্বাসঘাতক, যার অগ্রভাগে ছিলেন মোশতাক।আর প্রেক্ষাপট তৈরিতে সরাসরি মাঠে ছিলেন জাসদ নেতারা। ভিনদেশিদের বিশ্লেষণেও এর প্রমাণ মিলে। ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার ১০ নভেম্বর ১৯৭৫ যে তারবার্তার মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নভেম্বরের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছিলেন। তা ২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর অবমুক্ত করা হয়। ওই গোপন তারবার্তায়- ‘চিফ অব দ্য আর্মি জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ পদোন্নতি না পেয়ে ব্যর্থতায় বিষণ্ণ ছিলেন।একটি ভালো সূত্র আমাদের জানিয়েছিল, খালেদ মোশাররফও সন্দেহাতীতভাবে নিজের ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ সম্পর্কেও মনোযোগী ছিলেন।’ এছাড়া এইত মাস দুয়েক আগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি ও মুজিব সরকার উৎখাতে গণবাহিনীর সশস্ত্র বিপ্লবের সেকেন্ড ইন কমান্ড ইনু ও তার দল জাসদকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী। তারা বঙ্গবন্ধু ও তার সহযোগীদের হত্যার প্রেক্ষাপট কারা তৈরি করেছিলেন তা সুষ্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির মাঠে বেশ হৈ চৈ পড়ে যায়। অবশ্য পরে অতীত নিয়ে বেশি ঘাটঘাটি না করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নেতারা থেমে যান। চরম তিক্তের প্রথম বোমাটি ফাটান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, ‌‘বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জাসদ। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে কেএম সফিউল্লাহ, জিয়া,কর্নেল তাহের জড়িত ছিল। কেএম সফিউল্লাহ বেঁচেও মরে আছেন। তিনি এখন একের পর এক মিথ্যা কথা বলছেন।’ তিনি এই জাসদকে চেনার জন্য মহিউদ্দীন আহমেদের ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ বইটি পড়ারও পরামর্শ দেন নেতাকর্মীদের। মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘জাসদ-ন্যাপসহ যারা বাম রাজনীতি করতেন তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করেছিল কথিত সেই বিপ্লবীদের কথা আমরা ভুলিনি।পঁচাত্তরের আগে বিপ্লবের নামে রাজনীতিতে যে অস্থির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তার খেসারত পুরো জাতিকে দিতে হয়েছিল।’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাসদের কারণেই সামরিক বাহিনী ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সাহস পায়।’ ‘ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আজকে আমাদের জাসদের সাথে রাজনীতি করতে হচ্ছে। পঁচাত্তরের মুজিব হত্যার জন্য তারাও দায়ী ছিল।’ ওই সময়ের জাসদ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অকপটে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, ‘১৯৭৪ সালে আমি জাসদে ছিলাম। আমি নিশ্চিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে আনোয়ার হোসেন ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বেই গুলি করা হয়েছিল।’ যদিও হাসানুল হক ইনু ও তার দল ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জাসদকে জড়ানোর যে অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র – এটার কোনো ভিত্তি নেই’ বলে দাবি করেন। হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন ভাইয়েরা তখনকার ভুমিকার কথা স্বীকার করুক আর নাইবা করুক।ইতিহাস নিজস্ব গতিতেই অগ্রসর হয়।কেউ ইচ্ছা করলেই তাকে বিকৃত করতে পারে না।১৯৭৪-৭৫ এর প্রত্যক্ষদর্শীরাও তো জীবিত।এছাড়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর ছেলে আজকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কামরুজ্জামানের ছেলে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ ও সৈয়দ তাজউদ্দিন আহমেদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমিও এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদশী ও চাক্ষুস স্বাক্ষী।আরো ভালো বলতে পারবেন এখনো জীবিত কামরুজ্জামানের সহধর্মিনী জাহানারা জামান। তবে আজ যখন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার সন্তানদের সাথে একই মঞ্চে ইনুদের দেখি তখন আমাদের কষ্ট হয়। জানি না, জাতীয় চার নেতার সন্তানদের কেমন লাগে! ইতিহাস যা বলে তাতে, তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইনু-মেনন ভাইদের অগ্রজপ্রতীম বাম নেতা- সিরাজ শিকদার আর কর্নেল তাহেররা যেমন জীবিত মুজিবকে একদিন্ও শান্তিতে থাকতে দেয়নি তেমনি মৃত মুজিবকেও নয়। কেননা, আজকের মন্ত্রীসভার প্রভাবশালী সদস্য তখনকার বাম রাজনীনৈতিক নেত্রী মতিয়া চৌধুরী শেখ মুজিব সম্পর্কে কি মন্তব্য করেছিলেন, এছাড়া রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, দিলীপ বড়ুয়া, শাহজাহান খানসহ আরো অনেক বাম নেতাদের কী ভূমিকা ছিল, ওই সময় কাদের ষড়যন্ত্র আর কর্মকাণ্ডের ফসল ছিল ১৫ আগস্ট আর ৩ নভেম্বরের ইতিহাসের নির্মম এই ঘটনা, তা অবশ্য এদেশের সবারই কমবেশি জানা কথা। ইনু-মেনন ভাইদের পূর্বসূরী সিরাজ সিকদার এবং কর্নেল তাহের, যারা বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের নামে স্বাধীনদেশে সর্বপ্রথম সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের রাজত্ব কায়েম করেছিল।তৎকালীন বাকশাল সরকারের হাতে সিরাজ সিকদারসহ ৩০ হাজার বাম নেতাকর্মী হত্যার মধ্য দিয়ে প্রথম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেন তখনকার নেতারা।কিন্তু ইনুরা-মেননরা তো ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদনে সবকিছুই ভুলে গেছেন। আজ রাজনীতির খুবই নির্মমতা-আ’লীগের ক্ষমতার ভাগাভাগির রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর চরম শত্রুরাও।যারা বঙ্গবন্ধু ্ও তার সহযোগীদের হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। তাই আজ দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগার নীরবে কাঁদে বঙ্গবন্ধুর কন্যার রাজনীতির দেওলিয়াত্ব দেখে। কেননা, যে ইনু ও মতিয়ার মত লোকেরা বঙ্গবন্ধুকে গালিগালাজ করে সকাল শুরু করতেন, সেই ইনু-মতিয়ারা আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডান হাত। এটা রাজনীতির চরম দৈন্যতা আর জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিজেদের শত্রুদের সাথে নিজ সন্তানদের এমন মধুর আঁতাতের রাজনীতি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহযোগী চার নেতার মৃত আত্মাও কবরে কষ্ট পাচ্ছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সবশেষে বলবো, যাদের ষড়যন্ত্রে ৭৫ এ গণতন্ত্র নির্বাসনে গিয়েছিল, যাদের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ১৫ আগস্ট আর ৩ নভেম্বরের মত এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল, তাদের সাথে আঁতাতের রাজনীতি কখনো বঙ্গবন্ধুর চেতনা হতে পারে না।এটা বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার সহচরদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।রাজনীতির এমন চরম দৈন্যতার ফল আজকের এই হানাহানির।ফলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনীতির এই বিতর্ক থেকে এবিষয়ে আ’লীগের নেতানেত্রীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। কেননা আদর্শচ্যুত রাজনীতি কখনো সুফল বয়ে আনে না।তবে আদর্শচ্যুতির জন্য আ’লীগ ও বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও একদিন যে কঠোর মাশুল গুনতে হবে এতে অন্তত: আমার সন্দেহ নেই।ফলে বলতে হয়, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে আমাদের রাজনীতিবিদদের।অন্যথা এ ধরনের রক্তপাতের পুনরাবৃত্তির সুযোগ করে দিবে।আমরা চাই না স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক । ই-মেইল: sarderanis@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email