৪৪তম বিজয় দিবসঃ আমাদের কিবলা কোনদিকে

0
472

মাহবুব সুয়েদ, পর্তুগাল থেকে: এক।। ২০০৩ সাল। সবে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেছি। একদিন সকালে একভাই যিনি লজিং থাকতেন আমাদের এলাকায় তিনি হটাত হোন্ডায় করে একজনকে সাথে নিয়ে আসলেন। বাড়ির বাইরে রাস্তায় দাড়িয়ে উনারা আমার সাথে সালাম বিনিময়ের পর আমার নামে ইস্যু করা একটি চিঠি দিলেন। জীবনের প্রথম নিজ নামে চিঠি গ্রহনের কি যে অনুভুতি তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়।যাক,চিঠি পড়ে জানলাম আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিবির এসএসসি উত্তির্ন ছাত্রদের সংবর্ধনা দেবে।ছোটখাট সেই সংবর্ধনা অনুষ্টানে সেদিন যিনি মুল আকর্ষন ছিলেন তার বক্তব্য আজও কিছুটা কানে বাজে।তার বক্তৃতার মাজে তিনি একটি কথা বলেছিলেন,যারা দিল্লীতে বৃষ্টি হলে পরে ঢাকায় ছাতা ধরে তাদের চক্রান্তের ব্যাপারে তোমাদের সজাগ থাকতে হবে।সেদিনের কিশোর আমি তার বক্তৃতার এ অংশটি আমার মাথায় ঢুকে যায়।আমি চিন্তা করে পাইনি দিল্লীতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতা ধরে লাভ কি আর এ বেকুব ই কারা হতে পারে।বাড়িতে স্কুল শিক্ষক শ্রদ্বেয় চাচাত ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন আওয়ামীলিগ যারা করে তাদের উদ্দেশ্যে ই এই বক্তার বক্তব্য।সেদিন আমার কিশোর মনে আরো স্থান পেল যে আওয়ামীলিগ ভারতপন্থি একটি দল এবং এর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাকে ভারতের হাতে তুলে দেবে ক্ষমতায় গেলে।

২।। ২০০০ সালে তখন ক্লাশ এইটে পড়ি।সিলেটের প্রখ্যাত বুজুর্গ মরহুম ফুলতলি পীর (রঃ)র বাড়িতে রমজান মাসে থাকলাম প্রায় ২৪ দিনের মত।পবিত্র কোরানের সমাপনী পরিক্ষা দিতে গেলাম।আমার শ্রদ্বেয় আব্বাজান আমাকে নিজে পৌছে দিয়ে আসলেন।পবিত্র কোরয়ানের ছবক প্রতিদিন সকালে মরহুম পীর সাহেব নিজে ই দিতেন।তিনি বিখ্যাত ক্বারী ছিলেন আর আমার সরাসরি উস্তাদ ছিলেন বলে নিজেকে ভাগ্যবান ই মনে করি।যাইহোক প্রতিদিন বাদ জোহর পীর সাহেব নিজে এবং বাদ তারাবীহ আরেক বিখ্যাত মুহাদ্দিস সাহেব বয়ান করতেন।পীর সাহেবের বয়ানের আলোচ্যসুচীর কথা আজও আমার কানে বাজে।বেশ কয়দিনের আলোচনার মুল বিষয় ছিল জামায়াত-শিবির এবং তাদের প্রতিষ্টাতা মরহুম মওদুদী (রঃ) কে নিয়ে।তার আলোচনার মাধ্যমে যা জানলাম জামাত-শিবির বা মওদুদী সাহেব ঈহুদীদের মদদপুষ্ট এবং বিভ্রান্ত।এদের ঈমান নেই বরং এদের প্রধন কাজ হল মানুষের ঈমান লুটে বেঈমান বানানো।সেদিন আরো জানলাম এরা পিন্ডীপন্থি।খোজ নিয়ে জানলাম যারা জামাতপন্থি এরা ১৯৭১ সালের জালেম পাকিস্থানীদের চরমবন্ধু।এরা চায় বাংলাকে পিন্ডীর অন্তর্ভুক্ত করে দিতে।মনে বড় হোচট খেলাম সেদিন।মনে মনে খুজতে থাকলাম বাংলাদেশপন্থী বা ঢাকাপম্থি কাউকে পাওয়া যায় কি-না।

৩।। ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের এক নেতার সাথে লম্বা আলাপ হল।তখন আমি শহরের প্রতিষ্টানে পড়ালেখা করছি বলে চিন্তা বা উপলব্ধিগত দিক দিয়ে বেশ সাবালক।তার সাথে লম্বা আলাপে তিনি অনেক গভীর পান্ডিত্যপুর্ন জ্ঞান দান করলেন।তার কথার সার ছিল, বাংলাদেশ নামক এ দেশটির মুল জন্মদাতা শহিদ জিয়া।মহান স্বাধিনতার ঘোষক ও তিনি।তার কারনে ই আমরা স্বাধিন হয়েছি আর ঢাকায় আমাদের রাজধানী।তার কথার মুলে আমি অধম যা বুজলাম এবং মনে মনে মানিয়াও নিলাম যে ঢাকাপন্থি এই একটি দল ই আছে বাংলাদেশে।মনে মনে শপথ নিলাম ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ (যা নেতাটি অনেক সুন্দর করে বুজালেন) নিয়ে কাজ করাটা ই হবে গর্বের।আর যারা দিল্লী বা পিন্ডীপন্থি এদের এড়িয়ে চলা ই শ্রেয়। **দিল্লী/পিন্ডী/ঢাকাঃ আমাদের কেবলা কোনদিকে- #৪৭র দেশভাগঃ পিন্ডীমুখি আমরা-বৃটিশ বেনিয়াদের দ্বারা প্রায় ২০০শত বছর শাসিত হওয়ার পরে ‘ভারতীয় উপমহাদেশ’র স্বাধিনতা আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ লাভ করে।মহাত্মা গান্ধি, মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা আজাদ, হুসাইন আহমদ মদনী, নেহেরু,বল্লভ ভাই প্যাটেল প্রমুখ নেতাদের আন্দোলনের ফলে বিশেষ করে গান্ধিজীর অসহযোগ আন্দোলনের ফলস্বরুপ বৃটিশরা যখন ভারত উপমহাদেশকে স্বাধীনতা দেয়ার চিন্তা করা শুরু করে তখন লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক দ্বী-জাতী তত্ব বা টু-নেশন থিওরী উথ্বাপন করেন।এতে দাবী করা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট এলাকা নিয়ে আলাদা এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট এলাকা নিয়ে আলাদা আলাদা রাষ্ট গঠিত হবে।বৃটিশরা এ প্রস্তাব লুফে নেয়।নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমরা পুর্ব বাংলার লোক আমাদের বৃহত্তর বাংলা ছেড়ে আমাদের আদী রাজধানী কলকতাকে বিসর্জন দিয়ে ‘লড়কে লেঙ্গে পাকিস্থান’ স্লোগান ধরে দুনিয়ার সবচেয়ে আজিব আর অযৌক্তিক রাষ্ট্র পাকিস্থানের জন্ম দেই।ঈমানি চেতনায় বলিয়ান পুর্ববঙ্গের বাঙ্গালরা আর আসামের কিছু অংশের(বৃহত্তর সিলেট) সমন্বয়ে পুর্ব পাকিস্থানের জন্ম লাভ করে এবং প্রায় ৩ হাজার মাইল দুরের অপরাংশ নিয়ে ‘পাকিস্থান’ প্রতিষ্টিত হয়।সংখ্যাগরিষ্ট বাঙ্গালীদের রেখে নেতারা আর বৃটিশ বেনিয়ারা কৌশলে পিন্ডীতে সদ্য জন্ম নেয়া রাষ্ট্রের রাজধানী প্রতিষ্টা করে।রাজধানী পশ্চিম পাকিস্থানে চলে যাওয়ার ফলে সিরাজ উদ দৌলার সুবে বাংলার কতৃত্ব আবার ও প্রায় দু-শত বছর পরে কৌশলে পশ্চিম পাকিস্থানীদের পদানত করে রাখা হয়।(চলবে)

Print Friendly, PDF & Email