উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগান: খালেদা জিয়া

0
242

স্টাফ রিপোর্টার: নিষ্ঠুর বিবেকবর্জিত গণতন্ত্র ও সভ্যতা বিরোধী উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন,  সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এখনই এই উগ্রবাদী শক্তিকে দমন করতে না পারলে এরা দীর্ঘতম যুদ্ধ চালিয়ে  দেশের জনগণের শান্তি, সুস্থিতি, নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলবে।   গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের হামলায় হতাহতের নজিরবিহীন ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, গতরাত থেকে শুরু হয়ে আজ সকাল পর্যন্ত দুষ্কৃতকারীদের কর্তৃক সংঘটিত প্রাণবিনাশী ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি মিলে মিশে দেশে এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরী হয়েছে যা পৈশাচিক স্বৈরতন্ত্রে অধঃপতিত হয়েছে। যার বিকৃত প্রতিক্রিয়া সারা দেশে ফুটে উঠতে শুরু করেছে। গত রাতের দুষ্কৃতকারিদের নির্মম রক্তাক্ত অভ্যুত্থান দেশে বিরাজমান দুঃশাসনেরই বহিঃপ্রকাশ।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বারবার উগ্রবাদীদের অমানবিক রক্তঝরা অশুভ পরিকল্পনা মোকাবেলা করার জন্য দলমত নির্বিশেষে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সেই আহবানকে উপেক্ষা করে বরং বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রতি বিষোদগারেই ব্যস্ত থেকেছে। প্রকৃত জঙ্গি দমনে কোন ধরনের ইতিবাচক তৎপরতা দেখানো তো দূরে থাক, বরং বিএনপিকে অভিযুক্ত করতে ব্লেমগেম খেলতে গিয়ে সরকার জঙ্গিদের স্বাস্থ্যবর্ধন করেছে। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে জঙ্গি দমনের নামে সরকারি অভিযানের যে ভয়াবহ রূপ জনগণ দেখলো, তাতে আমরা তখনই বলেছিলাম- সরকারের এই নৃশংস ক্র্যাকডাউন বিএনপি’র বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু সরকার এই নির্মম পুলিশি অভিযান চালানোর সময় দেশব্যাপী প্রায় ষোল হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে চার হাজারেরও অধিক ছিল কেবল বিএনপি’র নেতাকর্মী। বাদ বাকি অধিকাংশ মানুষই ছিল নিরীহ জনসাধারণ। রমজানের মাসের শুরু থেকেই সরকারের অভিযানে গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা থেমে থাকেনি। সরকার প্রধান ও সরকারের লোকজন জঙ্গিবাদের দমনের নামে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকে জায়েজ করে বক্তব্য রেখে যাচ্ছে। এতো কিছুর পরও জঙ্গিদের বিবেকবর্জিত অপতৎপরতা থামাতে পারেনি সরকার। গতকাল ঝিনাইদহে শ্যামানন্দ দাস নামে একজন সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। আইএস এর দায় স্বীকার করেছে। সুতরাং গতকাল সকালে হিন্দু পুরোহিত শ্যামানন্দ দাসকে কুপিয়ে হত্যা এবং রাতে গুলশানের লোমহর্ষক মানুষ জিম্মি ঘটনায় প্রমানিত হলো- সরকারের সপ্তাহব্যাপী ক্র্যাকডাউনের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি দমন, জঙ্গীবাদ দমন নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমি দুস্কৃতিকারিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত শ্যামানন্দ দাসের আত্মার শান্তি কামনা ও পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সংবাদ কর্মীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা নিপীড়ণমূলক ব্যবস্থা জারি রেখে গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে দেশে অমানবিক সভ্যতা বিধ্বংসী শক্তির উত্থান ঘটেছে। দেশে বিদ্যমান বহুমাত্রিক স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনেই আনাচে কানাচে উগ্রবাদ বাসা বেঁধেছে। গতরাতের গুলশান রেস্টুরেন্টের ঘটনা উগ্রবাদী দুস্কৃতিকারিদের কর্তৃক বিদেশী নাগরিকসহ বিশ জনের মতো মানুষকে জিম্মি করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদেরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট প্রাণবিনাশী ঘটনা অন্ধ হিং¯্রতা ও বিকৃত রুচির পশুপ্রবৃত্তি। আমি আবারো সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যেসমস্ত সদস্যরা অটুট মনোবল ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রক্তাক্ত জিম্মি ঘটনাকে মোকাবেলা করেছেন সেজন্য আমি দেশবাসী ও আমার দলের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। গতরাতের রক্তাক্ত ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাইয়েরা যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। আমি গতরাতে গুলশানে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও কুটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সহিংস ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দুস্কৃতিকারিদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে এবং এদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্ষম হবে। এদিকে অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  গুলশানের রেস্তুরাঁয় হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email