উগ্র ও চরমপন্থীদের গডফাদার কারা

0
522

মাসুদ মজুমদার: হোলে আর্টিজানে নৃশংস হামলার এক বছর পার হলো। অতীত বিভীষিকা ভুলে পুরো জাতি শোককে শক্তিতে রূপান্তরের নতুন শপথ নিলো। অথচ এতবড় চাঞ্চল্যকর মামলার এখনো তদন্তই শেষ হলো না। নেপথ্যের শক্তি কিংবা দেশী-বিদেশী গডফাদার কারা তারাও থাকল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ক’মাসের প্রস্তুতিতে ক’জন উগ্রপন্থী রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বসল। এমন বক্তব্য বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আরো কষ্ট হয় উগ্রবাদ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য উপভোগ করেও সরকার চরমপন্থী ও উগ্রবাদী চিহ্নিত করার অর্থবহ উদ্যোগ নিতে পারলো না। বরং জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থীর মতো বিষয় নিয়ে রাজনীতি করেছে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে খামোশ করতে পুলিশি ভীতি প্রদর্শন করছে। ইতোমধ্যে হোলে আর্টিজান নতুন আঙ্গিকে দাঁড়ানোর চেষ্টা সমাপনী পর্যায়ে রয়েছে। কারো কাছে ঘটনাটি বেদনাবিধুর। কারো মনে দাগ কেটেছে উগ্রবাদীদের নৃশংসতার ধরন দেখে। কেউ কেউ সরকারকে বাহবা দিয়েছে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিম্মি সঙ্কটের অভিযান পরিচালনার জন্য। তদন্তে ২১ নব্য জেএমবি সদস্যের নাম এসেছে। বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় হলো। আইএস দায় নিলো। আমরা মুখ লুকিয়ে বলছি- না, আইএস না, এরা দেশজ এবং নব্য জেএমবি। এখনো বুঝতে পারি না, ‘নব্য’ জেএমবি কেমন এবং কাদের এজেন্ট। সেই দুর্বিষহ রাতের বর্ণনায় বীভৎস রূপ যেকোনো মানুষকে ব্যথাতুর করে। কিন্তু সব প্রশ্নের জবাব তারা পান না। এর মধ্যে ঘটে গেলো ফরহাদ মজহার অপহরণ নাটক। এটি শেষ নয় অনেক কিছুর শুরু।
কোনো হত্যার পক্ষেই যুক্তি থাকে না। বিচারবহির্ভূত প্রত্যেকটি হত্যা আরেকটি হত্যার প্রেক্ষিত রচনা করে। সরকার যতই যুক্তি দেখানো হোক বিচারবহির্ভূত হত্যা বেআইনি, অনৈতিক, অধর্ম এবং মানুষের মর্যাদার সাথে সাংঘর্ষিক, একই সাথে আইনের শাসনেরও খেলাপ। একটি হত্যা আরেকটি হত্যাকে ডেকে আনে, প্ররোচিত করে। তাই যে আদর্শের নামেই হোক হত্যাকে বৈধতা দিলে সৃষ্টির সেরা মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের আসন হারায়। তবে হোলে আর্টিজানের অভিযানে এত রক্তপাতের পর আমরা এটিকে কেন সফল অভিযান বলবো! বরং গভীরভাবে খতিয়ে দেখব কিভাবে অভিযান চালালে আরো কম রক্তপাতে স্বস্তির আবহ সৃষ্টি করা সম্ভব হতো।
হোলে আর্টিজানে হামলার পেছনে কেউ কেউ তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। এ ধরনের কারণ খুঁজে বিষয়টিকে হালকা করা অর্থহীন। মানলাম, কূটনৈতিকপাড়ায় হামলায় স্পষ্টকাতরতা বেশি। প্রচার, বেশি পাওয়া যায়। উগ্রবাদীরা কতটা সক্ষম, তাও প্রকাশ পায়। বিদেশী হত্যার মাধ্যমে বিশ্বকে দৃষ্টি ফেরাতে বাধ্য করা সম্ভব হয়। আত্মঘাতীরা এতসব ভেবে কাজ করে বলে মনে হয় না। এ ধরনের মূল্যায়ন স্বান্তনার। এর মাধ্যমে চরমপন্থীরা আরো আস্কারা পায়। চরমপন্থীদের উদ্দেশ্য আমাদের দেখার বিষয় নয়। বিষয়টা সফল ও সক্ষমতার সাথে মোকাবেলার। চরমপন্থীদের সীমাহীন ধৃষ্টতার প্রেক্ষাপটে তারপর থেকে সরকার সর্বত্র জঙ্গি খোঁজার জন্য পাইকারি অভিযান শুরু করল। অভিযান চালিয়ে শিশু-নারী উদ্ধার করে কৃতিত্ব প্রদর্শন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের দুর্বলতা বৈকি। সরকার একই সাথে বলতে শুরু করল এই নৃশংস ঘটনার সাথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ জড়িত নয়। এত জোর দিয়ে বলা শুরু হলো সব উগ্রপন্থী দেশীয়। সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশে বসেই। প্রশিক্ষণও নিয়েছে দেশের মাটিতে। এতেও বিদেশীরা একমত হলো না। এই দ্বিমত জনগণের দৃষ্টি এড়াল না। তাই সব কিছু শেষ হয়েও হয় না। এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলল না- আসলে কারা, কেনো এ ধরনের একটি নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে বসল। দুর্ভাগ্য, যাদেরই জঙ্গি বা উগ্রবাদী চিহ্নিত করা হয়, তাদেরই লাশ বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়। তাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার তালিকায় একটি নতুন লাশ যোগ হয়। কোনো উগ্রবাদীর কুষ্টিনামা উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। কোনো জবানবন্দী পাওয়া যায় না। ঘটনার পেছনের ঘটনা কখনো জনগণের সামনে আসে না। এ এক রহস্যঘেরা আচরণ। জেএমবি কিভাবে নব্য জেএমবি হলোÑ তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই। এটা কি উগ্রবাদের নতুন সংস্করণ বা প্রজন্ম, নাকি জেএমবি বিনাশের দাবির সত্যতা দিতে চরমপন্থীদের নতুন নাম দেয়া হলো। বাস্তবে যে নামেই ডাকা হোক, চরমপন্থীরা এক এবং অভীন্ন। তাদের ধর্ম নেই, দেশও নেই।
চরমপন্থী, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের উপস্থিতি সব যুগে ছিল। ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রবাদের জন্ম ইহুদীবাদে, খৃষ্টতন্ত্রে। হিন্দুত্ববাদেও অধুনা গো রক্ষার নামে সন্ত্রাস নতুন আঙ্গীকে ছড়িয়ে পড়লো। এবার বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও অহিংস রইলোনা, রোহিঙ্গা হত্যা করে দেখালো এরা কতটা হিংস্র হতে পারে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের নামে এক চরমপন্থী নতুন ধারণার জন্ম নেয়। তৃতীয় বিশ্বে এই ধারণা অধিকতর জনপ্রিয়তা পায়। গোপনে গড়ে ওঠে বিভিন্ন নামের সংগঠন। শ্রেণিশত্রু খতমের নামে গলাকাটা রাজনীতিরও উদ্ভব ঘটে একই সময়। এই দেশে হক-তোয়াহার নামে চরমপন্থীর উত্থান হতে দেখা গেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ভারতে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে নকশালবাদীরা দীর্ঘদিন শ্রেণিশত্রুর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ করেছে। প্রতিবাদী সিরাজ সিকদারকেও সন্ত্রাসের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও ধনতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ লড়াই চলেছে দিনের পর দিন। অনেকেই খ্যাতি পেয়েছেন মাওবাদী হিসেবে। সবাই জানত এরা সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ চায়। সাম্রাজ্যবাদের পতন কামনা করে। ধনতন্ত্রের বিলুপ্তির মধ্যেই তারা সাফল্য দেখে। জাসদের গণবাহিনীকেও চরমপন্থী কিংবা উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলেছে। স্বাধীনতার পর তারুণ্যের স্বপ্নভঙ্গের দ্রোহ কতটা সঙ্গত ছিল, কতটা ছিল না সেই বিতর্ক এখন অবান্তর, কিন্তু সব বিপ্লবী ও চরমপন্থীর একটা ঘোষিত অ্যাজেন্ডা থাকে। রাষ্ট্রীয় ‘সন্ত্রাস’ মোকাবেলা তারুণ্যের দ্রোহ অনেক ক্ষেত্রে চরমপন্থার উদ্ভব ঘটিয়েছে। পৃথিবীতে সব যুগে সকল জনপদে স্বাধীনতাকামীরা উগ্রপন্থী, চরমপন্থার অনুসারী ছাড়াও সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। ইতিহাসের এই অনিবার্য বাস্তবতা অস্বীকার করে কোনো লাভ নেই।
একবার ভেবে দেখুন, কিভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে ইসরাইল নামের একটি বর্ণবাদী কৃত্রিম ইহুদীবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়া হলো। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিষবৃক্ষ খ্যাত ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সমর্থন ছাড়া সাম্রাজ্যবাদীগোষ্ঠী মুক্তিকামী মানুষের জন্য কী করেছে! ইসরাইলি সন্ত্রাস কিভাবে আরব জাহানকে ছত্রখান করে দিচ্ছে। লায়লা খালেদের বিমান হাইজ্যাক বিশ্বজুড়ে মানুষের মনকে নাড়া দিয়ে জানান দিয়েছিল তার উদ্যোগ সন্ত্রাস নয়, চরমপন্থা নয়, স্বাধীনতার যুদ্ধ কৌশল। এখন হামাসকে চরমপন্থী বলা হচ্ছে। ব্রাদারহুডকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসী। অথচ ব্রাদারহুড গণতন্ত্র বিকাশে আরব বসন্তের নেতৃত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থন পেয়েছিল। অগণতান্ত্রিক সরকার ও সামরিক তন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া, বর্ণবাদ, সন্ত্রাস ও জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ করা ছাড়া তাদের আর কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। ফিলিস্তিনে গুলতি দিয়ে যে তরুণ ট্যাঙ্ক, কামান-গোলার বিরুদ্ধে আজাদীর লড়াই করতে সচেষ্ট হয়েছে- তাকে বলা হচ্ছে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী। আর ইসরাইল ও তাদের মদতদাতাদের সাজানো হচ্ছে মানবতাবাদী। এই প্রহসনের উদর থেকে উগ্রবাদী জন্ম নেবে না- এই নিশ্চয়তা কে দেবে।
পশ্চিমা মিডিয়া ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সারা দুনিয়ার মুসলমানকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সাজানোর প্রতিযোগিতায় নামল। শান্তির ধর্ম ইসলামকে জঙ্গি প্রেরণার উৎস বানিয়ে দিলো। সংক্ষুব্ধ করল অনেক তরুণকে। প্রতিশোধকামী হতে গিয়ে কেউ কেউ বিপথে গেলো, চরমপন্থী হয়ে আত্মঘাতী হবার মধ্যে জান্নাত খুঁজে পাবার রোমাঞ্চকর ভুল ধারণা ফেরি করতে লাগলো।
কোন বিশ্ব বিবেক কি জবাব দিতে পারবেন, বুশ-টনি ব্লেয়ারেরা কেন আফগানিস্তানটাকে পোড়ামাটি বানিয়ে দিলেন। আফগানেরা তাদের জনপদে তাদের মতো থাকতে চেয়েছে। পৃথিবীতে অনেক জাতি নিজেদের মত করে বাঁচে, জীবনাচার অনুসরণ করে। আমরা ভাবি তারা সভ্যতার ছোয়া মুক্ত। কিন্তু তারা ভাবে আমরা প্রকৃতির দুশমন।সেটা আমাদের পছন্দ না-ও হতে পারে। এর জন্য তাদেরকে বিরান করে দেয়া কোন ধরনের মানবিকতা? সাদ্দামকে হত্যা করে ইরাক দখল করে বলা হলো ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এটা কেমন তামাশা! সিরিয়ার দিকে তাকান, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে। সর্বশেষ কাতার চিত্র পর্যবেক্ষণ করুন। আলজাজিরার বিরুদ্ধে ঘোষিত-অঘোষিত যুদ্ধ, সাইবার হামলার দিকে তাকান, ট্রাম্প এবং তার দোসরদের বিরুদ্ধে অবস্থান বিবেচনায় নিন। সত্যনিষ্ঠ বিবেক কি বলবে কাজটা ঠিক করছে?
জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বের নামীদামি শত মিডিয়া আলজাজিরার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিয়ে সোচ্চার না হলে আমেরিকার নেতৃত্বে এই নন্দিত মিডিয়াকে জঙ্গি তকমা পরিয়ে দেয়া হতো। কয়েকটি আরব রাষ্ট্র তো এখনো আলজাজিরার গলাটিপে ধরতে উদ্যত। জানি না এত শিক্ষা সামনে রেখে মুসলমান কোন বোকার রাজ্যে বসবাস করে আত্মঘাতী যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে। নির্মোহভাবে দেখতে চাইলে দেখা যাবে লড়াইটা সত্য-মিথ্যার, জালেম-মজলুমের। দুর্বলের বিরুদ্ধে সবলের। কিন্তু পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে কিংবা ভালো কাজটা খারাপ পদ্ধতি করার হঠকারিতার কারণে আপনি ভেবেও কষ্ট পাবেন। কিন্তু সমর্থন জোগাতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে একজন কাতারি তরুণ যদি আত্মঘাতী হয়ে ওঠে তার জন্য আমাদের বিবেকের রায় কী হবে? আমরা তার কোনো বাড়াবাড়ি পছন্দ করব না, কিন্তু প্রতিশোধের ভাষায় কি কোনো ব্যাকরণ থাকে! মজলুম কি নীতি শাস্ত্র পড়বার সুযোগ পায়?
আফগানিস্তানে যুদ্ধ চাপানোর পর এরিখমারগোলিস বলেছিলেন, সন্ত্রাসী হয়ে কেউ জন্ম নেয় না, সাম্রাজ্যবাদী জুলুমবাজরা সন্ত্রাসী বানায়। চরমপন্থীর এমনিতে উদ্ভব ঘটে না, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজরা চরমপন্থী সৃষ্টি করে। আইএস সম্পর্কে বলা হয়, এরা আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা পায়। বোকোহারাম নিয়েও একই কথা প্রচারিত। আমাদের চোখের সামনে সোভিয়েত-রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তালেবানদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলো আমেরিকা। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে যুদ্ধও শুরু করল আমেরিকা। এভাবে ওজা হয়ে ঝাড়ফুঁক দেয়া, সর্প হয়ে দংশন করার যে খেলা ও ডাবল স্টান্ডার্ডের রাজনীতি তার মধ্যে আমরা পড়ে যাইনি তো! সৌদি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান লাদেন এলো তালেবানদের সাহায্য করতে। আফগনিস্তান রুশ মুক্তির পর দেশে ফিরে দেখলো তার স্বদেশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চারণভূমি। আবার দেখলো তালেবান সরকার আক্রান্ত, পাকিস্তান ড্রোন হামলার টার্গেটের মধ্যে, পুন আফগানিস্তান ফিরে এলো, এবার যুক্তরাষ্ট্র লাদেনকে খলনায়ক সাজালো।
এই দেশে দীর্ঘদিন কওমি মাদরাসায় জঙ্গি খুঁজে বেড়ানো হলো। কওমি মাদরাসাকে জঙ্গি প্রজননকেন্দ্র সাজানো হলো। ইসলামপন্থী দলগুলোকে ‘জঙ্গী’ সাজিয়ে সাত ঘাটের পানি খাওয়ানো হলো। তখন সরকার বলতো দেশটা জঙ্গী ও চরমপন্থীতে ভরে গেছে। এখন সুর উল্টো। এই ধারায় সরকারের প্রতিপক্ষের রাজনীতিটাও নিষিদ্ধ প্রায়। বিভিন্ন নামে চরমপন্থী উগ্রবাদীরা কার হয়ে কার বিরুদ্ধে খেলছে, আমরা জানি না, জানে না আমাদের কাউন্টার টেরোরিজমের মুখপাত্ররাও। তারা গল্পের মত বলে জনগণ মুখ টিপে হাসে, বিশ্বাসে ঠাঁই দেয় না। এই সত্যি খুঁজে না পেলে তদন্ত শেষ হলেও আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। যখন শত্রু-বন্ধু চেনা হবে, তখন আমাদের কিছুই করার থাকবে না। এক সময় আসল বাঘ ঠিকই হামলে পড়বে, তখন আর্তনাদ করেও ঘাড় মটকানোর জন্য উদ্যত বাঘকে রুখা যাবেনা।
পশ্চিমা শক্তির দ্বৈতনীতির মুখোশ উম্মোচন করে চলেছেন, মারগোলিস, রবার্ট ফিস্কসহ ক’জন বুদ্ধিদীপ্ত বিবেকসম্পন্ন লেখক-সাংবাদিক। ভারতে সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে একাই যুদ্ধ করছেন প্রতিবাদী লেখিকা অরুন্ধতি রায়। বাংলাদেশে এ যুদ্ধ বা চিন্তার লড়াইটা শুরু করেছেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত টিকে আছেন লেখক, গবেষক, কলামিস্ট ও কবি ফরহাদ মজহার। তাকে বিতর্কিত করা কিংবা কৌশলে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়া, নয়তো ‘নাই করে দেয়া’র নাটক জাতি প্রত্যক্ষ করলো। সম্ভবত আমরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও অদৃশ্য খেলারামদের পুতুল হয়ে নেচে চলেছি। এখন উগ্রবাদী সন্ত্রাস থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আড়াল করা কিংবা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রশ্ন জাগে এবং চিন্তার বিষয় এরপর কে হতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার!

masud2151@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email