Home বিভাগীয় সংবাদ জগন্নাথপুরে বন্যার পানিতে অবশেষে তলিয়ে গেল নলুয়ার হাওর, কৃষকদের হাহাকার

জগন্নাথপুরে বন্যার পানিতে অবশেষে তলিয়ে গেল নলুয়ার হাওর, কৃষকদের হাহাকার

377
0

আলী আছগর ইমন, জগন্নাথপুর: জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর অবশেষে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওর তলিয়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদিত থোড় ধান প্লাবিত হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদিত হওয়ার কথা ছিল। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি মন ধান ৯২০ টাকা দর হিসেবে ধরা হলেও প্রায় শতাধিক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে অনেকে জানান। যদিও হাওরটি রক্ষা করতে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা প্রাণপন চেষ্টা করে ছিলেন। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। অবশেষে গতকাল ১ এপ্রিল শনিবার সকালে উপজেলার হালেয়া গ্রাম এলাকার শাইলকা নামক স্থানে নলুয়ার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ বন্যার পানির চাপে ভেঙে যায়। ৪ টি ভাঙ্গনে প্রায় এক মিলোমিটার এরিয়া নিয়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এসব ভাঙ্গন দিয়ে প্রচন্ড গতিতে হাওরে পানি ঢুকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে নলুয়ার হাওর তলিয়ে যায়। নিজেদের চোখের সামনে জমিতে উৎপাদিত থোড় ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে কৃষকরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েনে। তাদের আহাজারিতে হাওর পারে হাহাকার সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এবার শুরু থেকে জগন্নাথপুরের কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছনিমিনি খেলা শুরু হয়। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৩৩ টি পিআইস কমিটি ও ৪ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭২ কিলোমিটার নলুয়ার বেড়িবাঁধের মেরামত কাজ করে। বাঁধের মেরামত কাজ শুরু থেকে হোঁচট খায়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কাজ শুরু হয়। পিআইসি কমিটি গুলো মোটামুটি কাজ করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলোর কাজে অনেক গাফিলাতি ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাঁধে কাজ না করায় উপজেলার নারিকেলতলা, কুবাজপুর ও ইছগাঁওসহ ছোট ৩ টি হাওর তলিয়ে যায়। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পিংলার হাওর, দলুয়ার হাওর, কলকলিয়া ও খাশিলার হাওর তলিয়ে গেলেও কৃষকদের শেষ ভরসা ছিল নলুয়া ও মইয়ার হাওর। অবশেষে নলুয়ার হাওরে পানি ঢুকে সংযুক্ত মইয়ার হাওরও তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ও থানার ওসি হারুনর রশীদের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জগন্নাথপুরকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ক্ষতি পূরণের দাবি জানান। জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ উত্তেজিত কৃষকদের শান্তনা দিয়ে বলেন, আমি আপনাদের দাবি যথাযত কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব। সেই সাথে যাদের অবহেলায় হাওর তলিয়ে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আরশ মিয়া ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, পাউবো, পিআইসি কমিটির সুজাত মেম্বার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সজীব রঞ্জন দাস এবং নুর ট্রেডার্সের অবহেলায় বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়েছে। কৃষকরা আরো বলেন, বিগত বছরও একইভাবে হাওর তলিয়ে পাকা-আধাপকা ধান পানির নিচে গিয়ে ছিল। তখন পানিতে ডুবিয়ে ও নৌকা দিয়ে কিছু ধান তোলা গেলেও এবার থোড় ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। আমাদের একমাত্র কষ্টার্জিত বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে পড়ে গেছি। তার উপর ধানুয়া লগ্নির ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এদিকে-হাওর তলিয়ে যাওয়ার খবরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী (এসও) মোসাদ্দেক উত্তেজিত কৃষকদের মারপিটের ভয়ে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সুজাত মিয়া জানান, আমি বাঁধে মাটি ভরাট কাজ করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সজীব রঞ্জন দাস ও নুর ট্রেডার্স কোন প্রকার টানা কাজ না করায় বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে পাউবো’র এসও মোসাদ্দেক বলেন, পাউবো’র অবহেরায় নয়, পিআইসি ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় বাঁধ ভেঙ্গেছে। যদিও জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, হাওর তলিয়ে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতি হয়েছে।

Previous articleজগন্নাথপুরে শোকসভা অনুষ্ঠিত
Next articleসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী