জঙ্গিবাদ দমনে বিএনপির দুই প্রস্তাব

0
195

স্টাফ রিপোর্টার: জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের উদ্দেশ্যে দুটি প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। একটি হচ্ছে, অবিলম্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে দমন করা। শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে জাতির দুটি পথ খোলা আছে। একটি হচ্ছে, অবিলম্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে দমন করা। মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার যদি এটা করে তাহলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থাকবে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে যদি দুর্বল করে দিলে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদীরা সুযোগ নেবে।

মওদুদ আহমদ বলেন, সত্যিকার অর্থে সরকার যদি সন্ত্রাস দমন করতে চায়, তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। বিএনপি ও সকল গণতান্ত্রিক দল সহযোগিতা করবে। শহীদ জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই গণতন্ত্র আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা আবার সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছি। শহীদ জিয়ার আর্দশে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী দল গঠনের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী। যে কোন প্রকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমান সরকার মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিএনপিকে একটি জঙ্গিবাদ দল হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, একই সঙ্গে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। নিজেদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভের জন্য এই ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছে সরকার। আমি সরকারর কাছে আহ্বান জানাই আপনারা এই ভয়ঙ্কর পথ বর্জন করুন। তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য সারা দেশে যৌথ অভিযানের নামে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করছে। সরকারের এই নীতি অত্যন্ত ভুল। এটা বন্ধ না করলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

বিদেশী নাগরিক, ব্লগার, পুলিশ হত্যা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যার হুমকির  ও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মওদুদ বলেন, দেশের বর্তমান নৈরাজ্য ও ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। সরকার গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে দুর্বল ও নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু বিপদগামী ও উগ্রবাদীরা এ সুযোগ গ্রহণ করে এই নৈরাজ্যবাদ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এর জন্য সরকারকে দায়ী করতে চাই।  তিনি বলেন, নিজেদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভের জন্য এই ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছে সরকার। আমি সরকারর কাছে আহ্বান জানাই আপনারা এই ভয়ঙ্কর পথ বর্জন করুন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ৭ই নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে সকল কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন জোরদার করতে হবে, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সুশাসন কায়েম করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক বলেন, ইতিহাস বিকৃতির স্বর্ণযুগ চলছে। ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর লোক ইতিহাস বিকৃতি করছে। তাই ইতিহাস লিখে রাখতে হয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বলতে হয়। তিনি ৭ই নভেম্বর উপর বিশদ আলোচনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান  বলেন, এই সরকার যে ভাবে শাসন করছে; সেদিন আর বেশি দূরে নেই এদেশের মানুষ এক দলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়াম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়াও আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রেহেনা আকতার রানু, শাম্মী আক্তার, হেলেন জেরিন খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি উদ্যোগে গত রোববার আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন বুকিং বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ। পরে সভাটি পিছিয়ে গতকাল আয়োজন করা হয়। – মানবজমিন

Print Friendly, PDF & Email