দীপন হত্যায় কিলিং মিশনে ছয়জন ছিল

0
197

ঢাকা: ‘জাগৃতি’র স্বত্বাধিকারী ও ব্লগার অভিজিতের রায়ের বই প্রকাশকারী ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যার তিন সহযোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সুত্র। হত্যায় তিন সহযোগী ঘটনার সময় আজিজ সুপার মার্কেটের নীচ তলায় দুই দিকের গেটের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল তিন জন।

আর মার্কেটের নীচতলায় তিন জন পাহারা দিচ্ছিল। কিলিং মিশন শেষ হওয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়া কিলার গ্রুপের সদস্যরা তড়িত্গতিতে মার্কেট থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে এ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে শনাক্ত করা হয়।

দীপনের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে আজিজ সুপার মার্কেটের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই তিন সহযোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের দুইটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে তিন ঘাতক ও ঘাতকদের তিন সহযোগীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, আজিজ সুপার মার্কেটের ৭টি সিসি ক্যামেরা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বিকাল পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ভিডিও ফুটেজগুলো সবচেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ থেকে এই সময়ের মধ্যে মার্কেটে প্রবেশ ও বের হয়ে যাওয়া মানুষের প্রায় ৩ হাজার ছবি তৈরি করা হয়েছে। ঐ ছবিগুলো গোয়েন্দারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।

ভিডিও ফুটেজ থেকে শনাক্ত তিন ঘাতকের চেহারার বর্ণনা দিয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তাদের পরণে ছিল শার্ট ও প্যান্ট। একজনের পরণে ছিল জিন্স প্যান্ট। তাদের কারো মুখেই দাঁড়ি ছিল না। মার্কেটে প্রবেশে করার সময় এদের চোখের ভাষা (আই কন্টাক্ট) ছিল একরকম। মার্কেট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় চোখের ভাষা ছিল আরেক রকম। প্রবেশের চেয়ে বের হওয়ার সময় তাদের গতি ছিল একটু বেশি। এসময় ওই তিন সহযোগী মার্কেটের ভিতরে দুইবার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাতায়াত করছিল।

আজিজ সুপার মার্কেটে ৮টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব দিকে ১টি, পশ্চিম দিকে ১টি, বেজমেন্টে ২টি, গাড়ি পার্কিংয়ে ২টি, মূল প্রবেশপথে ১টি এবং অফিস কক্ষে ১টি। কেউ যদি নিচতলা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন, তাহলে অবশ্যই তার ছবি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে।

গত শনিবার বিকালে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর অফিসে দুর্বৃত্তরা প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপনকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email