নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই মুজিববর্ষের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

0
79

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে মুজিববর্ষের লক্ষ্য, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন-যাপন করতে পারে। দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছুই হতে পারে না।
শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আরো বলেন, ‘এভাবেই মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সমগ্র বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেয়া হবে, যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে।’ যাতে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থা করে দেবো। যাদের থাকার ঘর নেই, ঠিকানা নেই আমরা তাদের যেভাবেই হোক একটা ঠিকানা করে দেবো।’ প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে অনুষ্ঠানে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয় এবং একই সাথে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলো আমরা করোনার কারণে করতে পারিনি। তবে করোনা এক দিকে আশীর্বাদও হয়েছে; কারণ আমরা এই একটি কাজের দিকেই (গৃহহীনকে ঘর করে দেয়া) নজর দিতে পেরেছি। আজকে এটাই আমাদের সব চেয়ে বড় উৎসব। তিনি বলেন, আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে, এত অল্প সময়ে এতগুলো পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিতে পেরেছি। এই শীতের মধ্যে তারা ঘরে থাকতে পারবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও আমরা ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি। ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদেরকেও কক্সবাজার এবং পিরোজপুরে আমরা ফ্ল্যাট করে দিয়েছি অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদেরকেও ঘর করে দিয়েছি এবং সেখানে শিগগিরই আরো ১০০টি ভবন তৈরি করা হবে। এখন এক লাখ ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর করে দিলাম এবং শিগগিরই আরো এক লাখ ঘর আমরা করে দেবো।
অনুষ্ঠানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রাম, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুর গ্রাম, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপকারভোগীদের মধ্যে বাড়ির চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email