নোয়াখালীর ডাকাতিয়া নদী হইতে অবৈধ বালু উত্তোলন, কয়েকটি গ্রাম বিলীন হবার ঝুঁকিতে, জড়িত প্রভাবশালী মহল

0
45

মোহাম্মদ জামাল হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর মূল উৎস ভারতে। ত্রিপুরা রাজ্য হয়ে নদীটি কুমিল্লা জেলার মেঘনা নদীতে সংযুক্ত। কুমিল্লা জেলা হইতে নদীটি নোয়াখালী হয়ে চাঁদপুর জেলায় প্রবেশ করে। ভারত অংশ হতে এই অববাহিকার মূল দৈর্ঘ্য প্রায় ২০৭ কিলোমিটার বা ১২৯ মাইল। নোয়াখালী জেলার প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। বেশ কিছুদিন যাবত এই নদী হইতে গ্রাম সুরক্ষা বাদ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজার মেশিন ও বড় পাইপ বসিয়ে দেয়া হয়। ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের গ্রামগুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এই কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে বস্তহারা হওয়া গ্রামবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও প্রভাবশালী মহলের তৎপরতার কারণে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, মাইজদী ও সোনাইমুড়ীর কিছু ব্যক্তির সাথে জোকসাজশ করে বেগমগঞ্জ থানার ছাত্রলীগ কর্মী হাসিবুল বাশার হাসিব, তার সহযোগী যুবলীগ নেতা মোঃ রাসেল ওরফে শিশু রাসেলের তত্ত্বাবধানে বালু উত্তোলন করে বালু বিক্রির অংশ স্থানীয় কিছু নেতাদের দিয়ে এহেন অবৈধ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সোনাইমুড়ী থানার আমবার নগর, আমিশা পাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, কোন রকম সরকারি অনুমোদন ব্যতীত ক্ষমতার প্রভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে উল্লেখিত গ্রামের বহু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বেগম উপজেলার ছাত্রলীগ কর্মী কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে হাসিবুল বাশার এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার যুবলীগ নেতা বেগমগঞ্জ চাঁদ কাশিমপুর গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তারা উপরের মহলের সাথে জড়িত এবং প্রভাবশালী ক্ষমতাশীল নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে মাইজদী, সোনাইমুড়ীর কতিপয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের সাথে মিলে অবৈধ বালু উত্তোলন করে স্থানীয় গ্রামবাসীকে ভাঙ্গনের কবলে ফেলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। জেলা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের সাথে যোগসাজশ থাকায় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনা। এই বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মহোদয় জনাব দেওয়ান মাহবুবুল রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সোনাইমুড়ী আমিশাপাড়া গ্রামের বিধবা বৃদ্ধ মহিলা রূপজান বিবি (৫৬)জানান, ওসব বাড়ির নদী গর্ভে বিলীন হয়ে আজ তিনি বাস্তুহারা। অন্যের বাড়িতে ভাড়া দিয়ে থাকেন। বালু উত্তোলনের ফলে তার এই করুণ পরিণতি বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সোনাইমুড়ি মাইজদী ও বেগমগঞ্জ থানার সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর দূর্দশা লাঘবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ডাকাতিয়া নদীর পাশের গ্রামগুলো রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের অর্থাৎ বেড়ি বাধ দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।