পৌরসভা নির্বাচন: ৩০ ডিসেম্বর ভোট নিতে চায় ইসি

0
216

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোমবার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করতে চায়। এই হিসাব কষেই প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। তবে এই হিসাব অনেকটাই নির্ভর করছে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর। কমিশন সচিবালয় থেকে রোববার সন্ধ্যার পর পৌর নির্বাচন পরিচালনাবিধি ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন আশা করছে, মন্ত্রণালয় এটি যাচাই-বাছাই শেষে আজ দুপুরের মধ্যে কমিশনে পাঠাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশন বিকেলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক প্রথম আলোকে বলেন, এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ, কমিশনের হাতে সময় নেই। আজকের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব না হলে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা দুষ্কর হয়ে যাবে।

খসড়া আচরণবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা সমমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তবে এঁদের কেউ কোনো পৌরসভার ভোটার হলে ভোট দিতে এলাকায় যেতে পারবেন।
নির্বাচন পরিচালনাবিধিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক, অথবা তাঁদের মনোনীত কোনো ব্যক্তি (মনোনয়ন কর্তৃপক্ষ) চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। সে ক্ষেত্রে দল থেকে মনোনয়ন চাওয়া অন্য প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল, মনোনয়ন কর্তৃপক্ষ হবে রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক। কমিশন এ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। কমিশনের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলকে মনোনয়ন কর্তৃপক্ষের নাম ঘোষণা করতে হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তড়িঘড়ি করে ১৫ নভেম্বর স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিলটি পাস হয়। পাস হওয়া বিলে শনিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সই করেন। গেজেট আকারে প্রকাশিত আইনের কপি গতকাল সকালে কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়। নতুন আইন অনুযায়ী মেয়র পদের প্রার্থীকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। তবে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে আগের মতো নির্দলীয়ভাবে।

আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এই হিসেবে মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন আগামী জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। কিন্তু কমিশন ১ জানুয়ারি হালনাগাদ করা ভোটার তালিকার খসড়া এবং ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। সে জন্য তারা জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে চায় না।

নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মতে, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন ও ভোট গ্রহণের দিনের মধ্যে ১৫ থেকে ২১ দিন সময় রাখতে হবে। তার আগে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তি এবং সবশেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করার জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন সময় দরকার। এই হিসাবে একই দিনে সব কটি পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে হলে ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় প্রয়োজন। কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে নির্বাচনের উপযোগী পৌরসভার সংখ্যা ২৩৬টি। তবে শেষ পর্যন্ত এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, কমিশন সচিবালয় থেকে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, বছরের শেষ দিন হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কারণ, ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য পাওয়া যাবে না। জানুয়ারিতে কেন করা যাবে না সে কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সে জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ আজকের মধ্যে বিধিমালা যাচাই-বাছাই করে পাঠাতে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে অনুরোধ করেছেন। এ কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত শাখার কর্মকর্তারা গতকাল সন্ধ্যার পরও অফিস করেন।

Print Friendly, PDF & Email